ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুয়াশা যখন মরণফাঁদ

কুয়াশা যখন মরণফাঁদ
×

ছবি: সংগৃহীত

মো. আনোয়ার হোসেন  

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৮ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের রিক্ততা আর হিমেল হাওয়ার পরশ যখন প্রকৃতিকে কাবু করে দেয়, তখন এক চিলতে রোদ আর ভাপা পিঠার আমেজ আমাদের মনে প্রশান্তি আনে। ঘন কুয়াশার চাদর যখন রাস্তাকে গিলে ফেলে, তখন আমাদের প্রিয়জনদের ঘরে ফেরার পথ হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তার। একটি ভুল স্টিয়ারিং ঘোরানো কিংবা এক পলকের অসতর্কতা নিভিয়ে দিতে পারে একটি সাজানো পরিবারের প্রদীপ।

শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা শূন্যে নেমে আসে। চালক সামনের গাড়ি বা রাস্তা দেখতে পান না। এ ছাড়াও রাস্তার পিচ্ছিল ভাব, টায়ার ও ব্রেকের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং চালকদের অসতর্কতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। হাই-বিম লাইটের ভুল ব্যবহার কুয়াশায় হিতে বিপরীত হয়, কারণ তা কুয়াশায় প্রতিফলিত হয়ে চালককে আরও অন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা চালকদের ভুলের কারণে ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার কারণ, করণীয় ও সতর্কতামূলক টিপস সব গাড়িচালকের মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অতি সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো–গতি নিয়ন্ত্রণ: কুয়াশায় গাড়ির গতি এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যাতে চোখে দেখা সীমার মধ্যে গাড়ি থামানো যায়। 
ফগ লাইট ও লো-বিম: সব সময় লো-বিম হেডলাইট ব্যবহার করুন। হাই-বিম কুয়াশায় দেয়াল তৈরি করে। সম্ভব হলে হলুদ ফগ লাইট ব্যবহার করুন। 

ইন্ডিকেটর ও ডাবল সিগন্যাল: লেন পরিবর্তনের সময় আগে থেকেই সিগন্যাল দিন এবং অতি ঘন কুয়াশায় জরুরি প্রয়োজনে হ্যাজার্ড লাইট ব্যবহার করুন।

শব্দে মনোযোগ: কুয়াশায় চোখ যখন কাজ করে না, তখন কানকে সজাগ রাখুন। জানালার কাঁচ সামান্য নামিয়ে বাইরের যানবাহনের হর্ন শোনার চেষ্টা করুন।

পোশাক: পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরুন, তবে খেয়াল রাখবেন পোশাক যেন খুব বেশি ভারী বা আঁটসাঁট না হয়, যা হাত-পা নড়াচড়ায় বাধা দেয়। হাত মোজার ক্ষেত্রে গ্রিপ আছে এমন মোজা বেছে নিন।

খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ঘুম পায়। লেবু চা, আদা চা বা কফি পান করুন, যা শরীর সতেজ রাখবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

মাদকাসক্ত চালক: এক জীবন্ত টাইম বোমা। মাদকাসক্ত চালক মানেই মৃত্যুর হাতছানি। মাদক চালকের মস্তিষ্কের সজাগ ভাব নষ্ট করে দেয় এবং দূরত্ব বিচার করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। কুয়াশার মধ্যে যেখানে দ্বিগুণ সতর্কতা প্রয়োজন, সেখানে মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো আত্মহত্যার শামিল।

কর্মঘণ্টা: একজন চালকের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো উচিত নয়। পাঁচ ঘণ্টা পর কমপক্ষে ৩০ মিনিটের বিরতি প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্নায়বিক ক্লান্তি দূর হয়।

কুয়াশা প্রকৃতির এক স্বাভাবিক নিয়ম, কিন্তু আমাদের অসতর্কতা একে অভিশাপে পরিণত করে। জীবন আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সামান্য সময়ের তাড়াহুড়ো বা একটু অবহেলা যেন আমাদের সারাজীবনের কান্নায় পরিণত না হয়। 

মো. আনোয়ার হোসেন: প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সংগঠন ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি অ্যালকোহল
[email protected]
 

আরও পড়ুন

×