ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরায় সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরায় সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
×

ছবি: সংগৃহীত

যশোর অফিস ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ২২:২৫

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করছে। তাদের এই অপতৎপরতা রুখে দিতে সাতক্ষীরায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এদিকে পুশইনের খবরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষ করে ভোমরা, পদ্মশাখরা, কাকডাঙ্গা, কেড়াগাছি ও চন্দনপুর সীমান্ত এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে বেশি  উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

কলারোয়া উপজেলার তুলসিডাঙ্গা এলাকার স্কুলশিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর নির্যাতনের ভয়ে কিছু লোক দেশ ছাড়ার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে থেকে কলারোয়ার কেড়াগাছি ও চন্দনপুর সীমান্তের ওপারে হাকিমপুর বর্ডারে ২০০-৩০০ জন লোক জমা হয়। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সাতক্ষীরা বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্তে বেশকিছু লোক জড়ো করা হয়েছে– এমন খবর ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। যাদের ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য।

সাতক্ষীরা-৩৩ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা বিজিবি ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তে দিন-রাত টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোতে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও  চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

শূন্যরেখায় আটকে আছে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো এক দল মানুষ 
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এক দল মানুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। গত রোববার গভীর রাতে দফায় দফায় তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি সদস্যদের কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের এই অপতৎপরতা সফল হয়নি। বর্তমানে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বোম্বেতলা খড়ের মাঠে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

বিজিবি যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০-১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ বিএসএফ ১০-১২ জন মানুষকে সীমান্তে নিয়ে আসে। প্রথমে সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তৎপরতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের আবার ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিএসএফের সেই চেষ্টাগুলোও ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) মানুষগুলো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল।

এদিকে ঘটনার পর বিজিবি বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে

আরও পড়ুন

×