শূন্যরেখায় ১০-১২ জন
বেনাপোল সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে শক্ত অবস্থানে বিজিবি
বেনাপোল সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে শক্ত অবস্থানে বিজিবি। ছবি-সমকাল
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ২২:৩০
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দিন ধরে আটকে আছেন নারী ও শিশুসহ ১২ জন। গত রোববার রাতে তাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেননি। এখন তারা না পারছেন ভারতে ফিরতে, না পারছেন বাংলাদেশে ঢুকতে। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১২টার দিকে বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত পিলার ১৯/৩-এস থেকে ১৯/৫-এস পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত সড়কে তিনটি গাড়ি আসে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে ভারতীয় অংশে সীমান্ত নিরাপত্তা বাতি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিজিবি ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। রাতের আঁধারে ১১০ থেকে ১২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকায় তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার করে ১০-১২ জনকে শূন্যরেখায় রেখে চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, বিএসএফের ভয়ে এবং বিজিবির বাধার কারণে কেউ তাদের কাছে যায়নি। ওই ১০-১২ জনের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার নেই। তারা যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশ সীমান্তের রঘুনাথপুর ও সাদিপুর গ্রামের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। তারা বিজিবি সদস্যদের মাঝে ঠান্ডা পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করছে।
মঙ্গলবার বেনাপোলের সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ১০-১২ জন লোককে বাংলাদেশি দাবি করে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ। বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তারা যদি বাংলাদেশি হয়, তাহলে ভারত ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে হস্তান্তর করুক। তারা দুই দিন দুই রাত ফাঁকা মাঠে আটকা। মানবিকতা বলে আর কিছুই থাকল না! অবৈধ পুশইন যাতে না হয়, সে জন্য আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।
আজ দুপুর ১২টার দিকে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নীল রঙের পতাকা উড়িয়ে বিজিবির আটজনের একটি দল সীমান্তের শূন্যরেখায় যান। কিন্তু তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি বিএসএফ। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসে বিজিবি।
যশোর বিজিবির রিজিওন কমান্ডার মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান জানান, ভারতের অবৈধ পুশইন রুখে দিতে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ বিজিবিকে সহযোগিতা করছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।
