ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সীমান্তে পুশইন উত্তেজনা

পরিচয় সংকটে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

পরিচয় সংকটে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
×

বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। ছবি-সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৯

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নারী, পুরুষ ও শিশুদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সীমান্তের শূন্যরেখায় কয়েকজন ব্যক্তি টানা তিন দিন ধরে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা না পারছেন ভারতে ফিরতে, না পারছেন বাংলাদেশে ঢুকতে। পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজিবি জানায়, বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কয়েকজন ব্যক্তিকে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং গেল রোববার গভীররাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণপত্র বা তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় বিজিবি তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যার পর বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তসংলগ্ন ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় কয়েকটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে সীমান্তের সার্চলাইট নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকে দেয়। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতায় পড়া কিছু মানুষের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং দ্রুত তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের দাবিও উঠেছে।

বিজিবি'র যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো নিয়ম না মেনে কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শার্শা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু বলেন, সীমান্তে আটকে থাকা মানুষগুলোর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত তাদের প্রকৃত পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা জরুরি।

এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে আজ (বুধবার) বেনাপোল সফরে আসছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সফরকালে তিনি সাদীপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×