ইট-পাথরের সীমানা পেরিয়ে
বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের জন্য দরকার বিভিন্ন অংশের সমন্বয়, দক্ষতা বৃদ্ধি ও করপোরেট দায়বদ্ধতা
হিল্লোল চৌধুরী
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৬:৫৯ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ১৯:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক যুগান্তকারী বাঁক বদলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অর্জনের পাশাপাশি রয়েছে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে হলে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বেসরকারি খাতের শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তি।
গত দুই যুগ ধরে ‘বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেড’ আবাসন খাতে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ বাতেন খানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপদ কৃষি ও জনকল্যাণমুখী এক সমন্বিত কর্মকাঠামো। সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত সিয়াম কৃষি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ‘যুগ যুগান্তরে’ শীর্ষক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পথচলার ২৪ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই উৎসবে কেবল অতীত সাফল্যের রোমন্থন ছিল না, বরং আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক সুদূরপ্রসারী রূপকল্প তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে শিল্পের সরাসরি সংযোগ স্থাপন ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে নিরাপদ মাতৃত্ব ও নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, অন্য একটি সেশনে ড্যাফোডিল ইন্টারনাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ভবন নির্মাণের জ্ঞান লাভ করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান জনমিতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর কর্মক্ষম তরুণ গোষ্ঠী বা জনতাত্ত্বিক সুবিধা। উপযুক্ত প্রায়োগিক শিক্ষার অভাবে এই বিপুল জনশক্তি অর্থনীতিতে আশানুরূপ অবদান রাখতে পারছে না। এম এ বাতেন খানের মতে, এই বিশাল জনশক্তিকে যদি যথাযথ দক্ষতায় প্রস্তুত করা যায়, তবে দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বর্তমানের তিন হাজার কোটি ডলার থেকে খুব সহজেই ছয় হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এই শূন্যস্থান পূরণে কাজ করছে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র ‘স্কিলস একাডেমি বিডি’।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাঠামোগত উন্নয়নের একটি বড় অন্তরায় হলো অতিমাত্রায় রাজধানী নির্ভরতা। এই অসম বিন্যাস দূর করতে রাজধানী ঢাকার বাইরে পাবনা জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘বিকে আইটি ইনস্টিটিউট’। এখানকার মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিচালিত শিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ ও মফস্বলের তরুণ সমাজকে আধুনিক যুগের সঙ্গে যুক্ত করা। সেখানে গ্রাফিক ডিজাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ এবং এসইও-এর মতো বিষয়গুলোতে বাস্তবিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মানবসম্পদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষিকে একটি লাভজনক, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিল্প হিসেবে পুনর্গঠন করতে কাজ করছে ‘শুকৃষি পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’। কৃষকদের পরিবেশবান্ধব ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফসল উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি, বীজ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন নিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই উদ্যোগ সাধারণ কৃষকদের নিছক উৎপাদকের খোলস থেকে বের করে এনে আধুনিক ‘কৃষি উদ্যোক্তা’ হিসেবে গড়ে তুলছে।
আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের পাশাপাশি মানুষের স্বপ্ন, আস্থা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সামাজিক দায়িত্ব যদি দেশের অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও কাঁধে তুলে নেয়, তবে সমাজের চিত্রটা দ্রুতই ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
