ইনুকে বললেন আদালত
ক্ষমতায় থাকাকালীন আদালতের কোনো উন্নয়ন করেননি
আদালত প্রাঙ্গণে হাসানুল হক ইনু
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১৭:২৭ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১৮:৫৮
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
শুনানির এক পর্যায়ে ইনুর উদ্দেশে বিচারক বলেন, আপনারা ক্ষমতায় থাকাকালীন আদালতের কোনো উন্নয়ন করে যাননি। আমলাতান্ত্রিক ও সরকারের কাজকে আপনারা আরও জটিল করেছেন। ক্ষমতায় থেকেও ডিজিটাল সিস্টেম করে যাননি। এটা করলে আপনাদের আদালতে আসা লাগতো না। কারাগারে রেখে বিচার করতে পারতাম।
এর আগে ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়। এর পর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, আদালতের হাজতখানার মধ্যে ইনু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিন আদালতের হাজতখানায় প্রায় ৫০ জন অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে ইনুকে রাখা হয়। শুনানিতে আদালতের কাছে সব ভিআইপি আসামিদের জন্য আলাদা হাজতখানার করার দাবি জানান আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম।
এ সময় বিচারক বলেন, আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। আমরাও চাই না এই সব আসামিদের আদালতে নিয়ে আসা হোক। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কেননা বিচার ব্যবস্থা এখনও ডিজিটাল হয়নি। আমরা পুরাতন ব্যবস্থার মধ্যেই রয়ে গেছি। এ কারণে তাদের প্রায়ই আদালতে নিয়ে আসা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক বলেন, অনেক সংস্থার অনেক বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই বিল্ডিংও নিজের না এটি জেলা জজ আদালতের বিল্ডিং। এখানে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য টয়লেটেরই ব্যবস্থা নেই, বসা তো দূরের কথা। এজলাসের মধ্যে আইনজীবীদেরই বসার জায়গা থাকে না বিচারপ্রার্থীদের তো দূরের কথা।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে অনেক বড় বড় মন্ত্রী এমপিরা আইনজীবী ছিলেন। আইনমন্ত্রী নিজেও এই আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। কিন্তু আইন ব্যবস্থার কোনো উন্নতি করেননি।
বিচারক আরও বলেন, সেদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আদালতে এসেছিলেন। আমি তাকেও বলেছি, আপনারা যদি বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশন করতেন, তাহলে আজকে তার সুফল ভোগ করতে পারতেন। কারাগার থেকে আর আদালতে আসা লাগতো না। কারাগারে বসেই মামলার কার্যক্রম করতে পারতেন। আমাদেরও এত ভোগান্তি হতো না। ভিডিও কলের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে শুনানি করতে পারতাম।
এর পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ইনু বলেন, আমার মামলার বিষয়বস্তু পত্র-পত্রিকায় আগেই দেখেছি। বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়েলের মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক।
তখন বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, পরে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আজ শুধু গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি। এরপর বিচারক তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে নামার সময় ইনু বিচারককে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আপনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এজলাসের ব্যবস্থা করায় আপনাকে ধন্যবাদ।
দুদকের এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, হাসানুল হক ইনু ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার চারটি ব্যাংক হিসাবে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গত ১৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুন্সা জেবিন ইনুর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
- বিষয় :
- হাসানুল হক ইনু
- আদালত
