আইন সংশোধন হচ্ছে
সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখলে থাকবেন মা-বাবা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার মা-বাবার হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশ মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।
মন্ত্রী বলেন, মুসলিম আইনে হেবা হয়; হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে; আবার মুসলিম আইনে অসিয়তনামা হচ্ছে। বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মা-বাবা যদি হেবা করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলেমেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু মা-বাবার আর কিছু করার থাকে না। তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও মা-বাবা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মা-বাবার জীবদ্দশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।
তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া সম্ভব নয়; কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।
এডিআর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে
আইন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আদালতে নতুন মামলার প্রবণতা কমবে। বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন।
আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার করা যাবে
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, একজন ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করার অধিকার রয়েছে। দেশে ফিরতে চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন মনে করলে আত্মসমর্পণের আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
- বিষয় :
- আইন