জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উসকানির অভিযোগে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৪
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সেল তদন্ত করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সাংবাদিকদের কেউ কেউ একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে উসকানি ও সহযোগিতা করেছেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং অপরাধ সংঘটনে এক ধরনের সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের অংশ হিসেবে আপাতত তিন সাংবাদিককে আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের মামলায় আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ওই দুজনসহ আরও একজনকে এ-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তারা হলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা অন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও সামগ্রিক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক উপাদান পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আনা হবে।
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি নথিভুক্ত করে তদন্ত চলছে।
আগামী সপ্তাহে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের রায় হতে পারে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরসহ যে সাতজন, তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এটি রায়ের জন্য থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’
গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ‘ক্লু’ পাওয়ার দাবি
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রসিকিউশন সাগর-রুনি হত্যা মামলা-সংক্রান্ত একটি ‘ক্লু’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ওই ক্লুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্সের কাছে ক্লুটি হস্তান্তর করা হবে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, প্রসিকিউশনের চলমান তদন্তে সাগর-রুনি হত্যা মামলাসংক্রান্ত আরও কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সংগ্রহ করা হবে। এ ঘটনায় কোনো আনুষঙ্গিক প্রমাণ মিললে সেগুলোও সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হবে।
ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা
প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছায় অথবা কোনো মামলার রায় অপেক্ষমাণ থাকে, তখন ট্রাইব্যুনালে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে এমন কিছু গোপন তথ্য তাদের কাছে এসেছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।