আবুল কালাম আযাদের আপিলের শুনানি ১৭ আগষ্ট
তের বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪৩
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিলের ওপর শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিলে আবুল কালাম আযাদ চার হাজার ৯১৫দিন বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা স্থগিত চেয়েছেন।
পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতের সাবেক রোকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাই্যব্যুনাল। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আসেন তিনি। এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্বশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
সেদিন তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর এক বছরের জন্য স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম।
ফরিদপুরের সালথা (সাবেক নগরকান্দা) উপজেলার বড় খাড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া নামে খ্যাত বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম বিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে ফরিদপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয় ২০১১ সালে। এরপরই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিণ্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরমধ্যে তার অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাতটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ট্রাইব্যূনালের আইন অনুযায়ী রায় ঘোষনার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তবে পলাতক থাকায় তিনি আর আপিল করেননি।
- বিষয় :
- ট্রাইব্যুনাল
- রায়
- মৃত্যুদণ্ড
- আপিল