ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

১৯ শিক্ষার্থীর ১৭ শিক্ষক, তবুও সবাই ফেল

১৯ শিক্ষার্থীর ১৭ শিক্ষক, তবুও সবাই ফেল
×

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫২

পাবনার ভাঙ্গুড়ার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।

মাদ্রাসার শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গত ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিকভাবে বিপর্যয় ঘটছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছর ১৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে এমপিওভুক্তির পরও প্রতিষ্ঠানটিতে অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। মাদ্রাসাটি প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বসবাস করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত মাদ্রাসায় না আসায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। নিয়মিতও আসেন না। শুধু বেতন তোলেন। ফলে এলাকার সচেতন অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের এ মাদ্রাসায় দিতে চান না। গত ১০ বছর ধরেই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংকট ও খারাপ ফলাফল চলছে।’

তবে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার না করলেও মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামের ছেলেরা ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘ওই মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন

×