দুই শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ১০ শিক্ষক, তবুও ফেল
ছবি-সমকাল
খুলনা ব্যুরো ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৯
খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে দুই জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।
একই অবস্থা ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। সেখানে মানবিক বিভাগ থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন আনন্দ-উচ্ছাস দেখা গেছে, তখন এই দুটি প্রতিষ্ঠানে বিরাজ করছে ভিন্ন চিত্র।
যশোর বোর্ড থেকে জানা গেছে, এ বছর খুলনা জেলার ৩৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪২১ জন পাশ করেছেন। খুলনা জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজনও পাশ করতে পারেননি। সে দুটিই হচ্ছে আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
পরে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। ননএমপিও হওয়া সত্বেও তারা মন দিয়েই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করান। এবার দু’জন এসএসসিতে অংশ নিয়ে দু’জনই ফেল করেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, ‘আজকাল ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা ফেল করেছে। বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষকের কোনো ত্রুটি ছিল না। স্কুলে-বাড়িতে যদি না পড়ে, আপনি পাস কারাবেন কিভাবে?’