ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

ডায়েট সোডা নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে পুষ্টিবিদের পরামর্শ

ডায়েট সোডা নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে পুষ্টিবিদের পরামর্শ
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৭

ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন এমন অনেকেই সাধারণ কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডায়েট বা সুগার-ফ্রি সোডা বেছে নেন। এতে চিনি ও ক্যালোরি তুলনামূলক কম থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প বলে মনে করা হয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু ক্যালোরি কমানোই যথেষ্ট নয়। বরং পানীয়টির পুষ্টিগুণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা ডায়েট সোডার পরিবর্তে কয়েকটি প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছাতুর শরবত, মশলাযুক্ত ঘোল, পুদিনা-লেবুর শরবত ও টাটকা ডাবের পানির কথা উল্লেখ করেন।

ডায়েট সোডা নিয়ে কেন সতর্কতা

বাত্রার মতে, ডায়েট সোডায় ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টিকারক কিছু মানুষের মিষ্টি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে। কৃত্রিম মিষ্টি স্বাদ মস্তিষ্কে খাবার বা গ্লুকোজ গ্রহণের সংকেত তৈরি করলেও শরীরে প্রকৃত গ্লুকোজ পৌঁছায় না। এর ফলে পরবর্তী সময়ে মিষ্টি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

তিনি অ্যাসপারটেম ও সুক্রালোজের মতো কৃত্রিম মিষ্টিকারক নিয়েও সতর্ক করেছেন। তাঁর দাবি, এসব উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও শরীরে প্রদাহের সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ডায়েট সোডা খেলেই ওজন বাড়বে বা শরীরে চর্বি জমবে—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কৃত্রিম মিষ্টিকারক নিয়ে গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া গেছে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুরো খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ছাতুর শরবত

ডায়েট সোডার বিকল্প হিসেবে বাত্রার প্রথম পছন্দ ছাতুর শরবত। ছাতু সাধারণত ভাজা ছোলা বা ডালজাতীয় উপাদান থেকে তৈরি হয়। এতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকায় এটি কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকলে ছাতুর শরবতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। লেবু, সামান্য লবণ ও পানি দিয়ে এটি তৈরি করা যেতে পারে।

মশলাযুক্ত ঘোল

দই থেকে তৈরি ঘোলও ডায়েট সোডার পরিবর্তে খেতে পারেন। এতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। দইয়ে থাকা জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বাত্রার মতে, দুপুরের খাবারের পর মশলাযুক্ত ঘোল পান করলে পেট ফাঁপা বা খাবারের পর অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

পুদিনা-লেবুর শরবত

লেবু, পুদিনা পাতা, পানি ও সামান্য বিট লবণ দিয়ে তৈরি শরবতও হতে পারে ভালো বিকল্প। এতে অতিরিক্ত চিনি না দিলে এটি কম ক্যালোরির একটি সতেজ পানীয় হিসেবে খাওয়া যায়। পুদিনা ও লেবু স্বাদ বাড়ানোর কারণে পানীয়টিতে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহারের প্রয়োজনও কমে।

টাটকা ডাবের পানি

ডাবের পানি পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইটের প্রাকৃতিক উৎস। গরমে শরীরে তরল সরবরাহের পাশাপাশি এটি চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের তুলনায় একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি রয়েছে। তাই ওজন কমানোর চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো।

আরও যা পান করতে পারেন

ডায়েট সোডার ওপর নির্ভর না করে ওজন নিয়ন্ত্রণের সময় আরও কিছু সহজ পানীয় বেছে নেওয়া যায়। যেমন—সাধারণ পানি, চিনি ছাড়া গ্রিন টি, চিনি ছাড়া চা বা কফি, লেবু-পানি ও শসা ও পুদিনা মেশানো পানি এসব পানীয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, ক্রিম বা কৃত্রিম মিষ্টিকারক যোগ না করাই ভালো।

শুধু পানীয় বদলালেই হবে নাওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কোনো একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। দৈনিক মোট ক্যালোরি গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখে।

তাই সাধারণ কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডায়েট সোডা বেছে নেওয়া ক্যালোরি কমানোর একটি উপায় হতে পারে। তবে এটিকে ওজন কমানোর বিশেষ পানীয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তৃষ্ণা মেটাতে পানি এবং কম চিনি ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পানীয়কে অগ্রাধিকার দেওয়াই ভালো।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×