ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাশপাতি কতটা উপকারী

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাশপাতি কতটা উপকারী
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৯ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৪০

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাশপাতি উপকারী একটি ফল হতে পারে। এতে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। বিশেষ করে আস্ত নাশপাতি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।

নয়াদিল্লির ম্যাক্স হেলথকেয়ারের ইনস্টিটিউট অব এন্ডোক্রিনোলজি, ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিজমের পরিচালক ডা. সুজিৎ ঝা বলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মিষ্টি স্বাদের ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নাশপাতি কম গ্লাইসেমিক সূচকের ফল হওয়ায় এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

কেন উপকারী নাশপাতি

নাশপাতির গ্লাইসেমিক সূচক ৩০ থেকে ৩৮-এর মধ্যে, যা কম। ফলে এটি খাওয়ার পর এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ধীরে ধীরে রক্তে মিশে। এতে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এ ছাড়া একটি মাঝারি আকারের নাশপাতিতে প্রায় ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ গ্রাম খাদ্যআঁশ থাকে। নাশপাতির পেকটিন নামের আঁশ হজমের গতি ধীর করে এবং কার্বোহাইড্রেট থেকে শর্করা শরীরে শোষিত হওয়ার গতি কমাতে সাহায্য করে। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। নাশপাতির খোসাতেও রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উপাদান। এতে ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন ও পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

কীভাবে খেলে বেশি উপকার

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য নাশপাতি জুস করে না খেয়ে আস্ত ফল হিসেবে খাওয়াই ভালো। জুস করলে ফলের আঁশের গঠন নষ্ট হয় এবং শরীরে চিনি দ্রুত শোষিত হতে পারে। নাশপাতি খাওয়ার সময় খোসা না ছাড়ানোও ভালো। কারণ ফলের আঁশ ও বেশ কিছু উপকারী উপাদান খোসায় থাকে। তবে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। নাশপাতির সঙ্গে কয়েকটি কাঠবাদাম, আখরোট বা কিছু বীজ খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ হয়, যা খাবার হজম ও শর্করা শোষণের গতি আরও ধীর করতে পারে। অতিরিক্ত পাকা ও খুব নরম নাশপাতির পরিবর্তে তুলনামূলক শক্ত ও মচমচে নাশপাতি বেছে নেওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিন কয়টা নাশপাতি খাওয়া যায়

ডা. সুজিৎ ঝার পরামর্শ অনুযায়ী, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত প্রতিদিন একটি মাঝারি আকারের নাশপাতি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে ব্যক্তিভেদে খাবারের পরিমাণ ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলের পরিমাণ ঠিক করা ভালো। নাশপাতি প্রধান খাবারের পরপর খাওয়ার পরিবর্তে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি বা বিকেলের নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

আপেলের চেয়ে কি নাশপাতি ভালো

আপেল ও নাশপাতি দুটিই কম গ্লাইসেমিক সূচকের ফল। তবে নাশপাতিতে খাদ্যআঁশের পরিমাণ কিছুটা বেশি হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং হজমের স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলেও ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খোসাসহ একটি আস্ত নাশপাতি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাশপাতি হতে পারে সহজ ও পুষ্টিকর একটি ফল। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে পরিমাণ ঠিক রেখে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি

 

আরও পড়ুন

×