ডায়াবেটিস মাপতে গ্লুকোমিটার নাকি সিজিএম
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৯ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২০
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সাধারণত গ্লুকোমিটার বা ব্লাড গ্লুকোজ মনিটরিং এবং কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দুটির কাজ একই হলেও পদ্ধতি, সুবিধা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।
গ্লুকোমিটার কীভাবে কাজ করে
গ্লুকোমিটারে আঙুলে ছোট সুঁই ফুটিয়ে এক ফোঁটা রক্ত টেস্ট স্ট্রিপে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা জানা যায়। অর্থাৎ, এটি নির্দিষ্ট একটি সময়ে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রার তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়।গ্লুকোমিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও কম খরচের। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার পরীক্ষা করা যায়। তবে প্রতিবার পরীক্ষা করার জন্য আঙুলে সুঁই ফুটাতে হয়। পাশাপাশি এটি কেবল পরীক্ষা করার সময়কার গ্লুকোজের মাত্রা দেখায়। দিনের বাকি সময়ে মাত্রা কীভাবে বাড়ছে বা কমছে, তা সরাসরি জানা যায় না।
সিজিএম কীভাবে কাজ করে
কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং বা সিজিএমে ত্বকের নিচে একটি ছোট সেন্সর বসানো হয়। এই সেন্সর সাধারণত কয়েক মিনিট পরপর শরীরের কোষের মধ্যবর্তী তরলে থাকা গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করে এবং সেই তথ্য একটি রিডার বা স্মার্টফোনে পাঠায়। এর ফলে দিন-রাত প্রায় সার্বক্ষণিক গ্লুকোজের ওঠানামা দেখা যায়। কখন মাত্রা বাড়ছে বা কমছে, সেটিও বোঝা সম্ভব হয়। অনেক সিজিএমে গ্লুকোজ খুব বেশি বা কমে গেলে সতর্কবার্তা দেওয়ার সুবিধাও থাকে। তবে সিজিএম সাধারণত গ্লুকোমিটারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। নির্দিষ্ট সময় পরপর সেন্সর পরিবর্তন করতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে সেন্সর ব্যবহারের কারণে ত্বকে অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়াও হতে পারে।
কোনটি বেশি নির্ভুল
গ্লুকোমিটার সরাসরি রক্তের নমুনা থেকে গ্লুকোজ মাপে। অন্যদিকে সিজিএম রক্তের পরিবর্তে ত্বকের নিচের কোষের মধ্যবর্তী তরল থেকে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করে। তাই রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়া বা কমার সময় সিজিএমের তথ্যের সঙ্গে রক্তের প্রকৃত মাত্রার কিছুটা সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে সিজিএমের বড় সুবিধা হলো এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য দেয় না। বরং দিনের বিভিন্ন সময়ে গ্লুকোজের পরিবর্তনের ধারাবাহিক চিত্র দেখায়। ফলে খাবার, ব্যায়াম, ওষুধ বা ইনসুলিনের পর গ্লুকোজের মাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা বোঝা সহজ হয়।
কার জন্য গ্লুকোমিটার উপযোগী
যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন না এবং খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ওষুধের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তাদের অনেকের জন্য গ্লুকোমিটারই যথেষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যারা কম খরচে নির্দিষ্ট সময়ে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে চান, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
কার জন্য সিজিএম বেশি উপকারী
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহারকারী এবং যাদের গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ খুব বেড়ে বা কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সিজিএম বেশি তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে রাতে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে সিজিএমের সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আবার যাদের গ্লুকোজ কমে গেলেও সহজে লক্ষণ বোঝা যায় না, তাদের ক্ষেত্রেও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ উপকারী হতে পারে।
শুধু সিজিএম থাকলেই কি গ্লুকোমিটার প্রয়োজন নেই
সিজিএম ব্যবহার করলেও প্রয়োজনে একটি গ্লুকোমিটার কাছে রাখা ভালো। নতুন সেন্সর লাগানোর সময়, সিজিএমের দেখানো তথ্যের সঙ্গে শরীরের অনুভূতির মিল না থাকলে কিংবা সেন্সরের তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে।
গ্লুকোমিটার ও সিজিএমের মধ্যে কোনটি ভালো, তার একক কোনো উত্তর নেই। কারও জন্য কম খরচে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে গ্লুকোমিটার যথেষ্ট হতে পারে, আবার কারও জন্য দিন-রাতের ওঠানামা জানতে সিজিএম বেশি কার্যকর হতে পারে। ডায়াবেটিসের ধরন, ইনসুলিনের ব্যবহার, গ্লুকোজের ওঠানামা, জীবনযাপন ও খরচের বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
- বিষয় :
- ডায়াবেটিস
- স্বাস্থ্য
- পরিমাপ যন্ত্র