ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

লিভারে বিষাক্ত উপাদান জমলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

লিভারে বিষাক্ত উপাদান জমলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
×
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৫

আমরা প্রতিদিন যে বাতাস গ্রহণ করি, যে খাবার খাই এবং যে পরিবেশে বসবাস করি—তার মাধ্যমে আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন শোষণ করে। শরীর থেকে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো বের করে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে লিভার। এটি এমন কিছু এনজাইম তৈরি করে যা শরীরের ক্ষতিকর বা বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এরপর লিভার এই পদার্থগুলোকে অন্যান্য রাসায়নিকের সাথে মিশিয়ে এমন অবস্থায় নিয়ে আসে যাতে সেগুলো দ্রবণীয় হয়ে ওঠে এবং শরীর থেকে সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে।

কিন্তু লিভার যদি ঠিকমতো কাজ না করে তাহলে কী হবে? লিভারের কার্যকারিতা মাঝে মাঝে ধীর যেতে পারে; এর ফলে বিষাক্ত উপাদানগুলো শরীরের চর্বিযুক্ত টিস্যুতে আটকে যেতে পারে, যার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। লিভারে বিষাক্ত উপাদান জমে থাকলে নানা ধরনের অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হয়। আপনার লিভারে বিষাক্ত উপাদান জমলে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়। যেমন-

ত্বকে চুলকানি হওয়া
লিভারের সমস্যায় ভোগার একটি লক্ষণ হলো ত্বকে চুলকানি হওয়া। ত্বকে চুলকানি হলে আমরা সাধারণত সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিই না—যদি না সেখানে কোনো র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অথচ, লিভারের ক্ষতির কারণে রক্তপ্রবাহে পিত্তরস মিশে যাওয়ার ফলেও এমন চুলকানি হতে পারে।

সহজেই রক্তপাত বা শরীরে কালশিটে পড়া
আরেকটি লক্ষণ যা আপনার খেয়াল রাখা উচিত তা হলো—সহজেই রক্তপাত হওয়া বা শরীরে কালশিটে পড়ে যাওয়া। 

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র বা পিরিয়ডের সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক; তবে এটি লিভারের অকার্যকারিতার লক্ষণও হতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে মেজাজের ওঠানামা, ওজনের তারতম্য এবং মানসিক চাপের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

পেটের ভেতরের চর্বি বেড়ে যাওয়া
লিভারে যদি অতিরিক্ত ফ্যাট জমে তবে তা বিপাকীয় প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। মনে রাখবেন, আপনি যে খাবার খান তা বিপাক বা হজম করার মূল দায়িত্ব লিভারই পালন করে। যদি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, তবে ভিসেরাল ফ্যাট বা অন্ত্রের চারপাশে জমে থাকা চর্বি কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।

অতিরিক্ত ঘাম
অতিরিক্ত ঘাম লিভারের কার্যকারিতায় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে; কারণ লিভারের সমস্যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হতে পারে। লিভার শরীরের একটি বড় অঙ্গ হওয়ায়, এর অতিরিক্ত উত্তাপ শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে, যাকে সাধারণত 'হট ফ্ল্যাশ' (হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া) বলা হয়। এমনটা ঘটলে শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রচেষ্টায় প্রচুর ঘাম হতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ
মুখের দুর্গন্ধও লিভারের কার্যকারিতা ঠিকঠাক না হওয়ার একটি লক্ষণ। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিনগুলো সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, ফলে রক্তে ক্ষতিকর উপাদান জমতে থাকে। এর ফলে মুখে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
অত্যধিক অবসাদ বা ক্লান্তির সাথে লিভারের দুর্বল কার্যকারিতার সম্পর্ক রয়েছে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন বা বজায় রাখতে পারে না, যার ফলে সবসময় ক্লান্ত বোধ হতে পারে।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব লিভার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো অথবা আপনি 'লিভার ডিটক্স' শুরু করতে পারেন। লিভারে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলো দূর করা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

আরও পড়ুন

×