ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

পানির গুণাগুণ বাড়াতে যোগ করতে পারেন যেসব উপাদান

পানির গুণাগুণ বাড়াতে যোগ করতে পারেন যেসব উপাদান
×
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৩ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৭

সবসময় সতেজ ও হাইড্রেটেড থাকার জন্য পানি প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের পানি পান করাটা একঘেয়ে মনে হতে পারে। কেউ কেউ তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে পারে এমন পানীয় খোঁজেন, আবার অনেকে সাধারণ পানি পান করেই সন্তুষ্ট থাকেন। অনেকেরই হয়তো জানা নেই, সাধারণ পানিকে আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তোলার উপায়ও রয়েছে। এজন্য পানিতে কিছু উপকরণ মেশাতে পারেন। যেমন-

শসা
গ্রীষ্মকালে শরীর যখন তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠে এবং কিছুটা শীতলতার প্রয়োজন হয়, তখন এক জগ পানিতে কয়েক টুকরো শসা দিয়ে ১২ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। এতে শসার শীতল ও আরামদায়ক গুণাবলি পানিতে মিশে যাবে। আপনি পাবেন একটি সতেজ পানীয়।

সেজ  ও ব্ল্যাকবেরি
পানিকে আরও উপভোগ্য করে তোলার আরেকটি উপায় হলো এতে সেজ পাতা( (স্যালডিয়া) ও ব্ল্যাকবেরি যোগ করা। ব্ল্যাকবেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। পানীয়তে মেশানোর আগে তাজা সেজ পাতা ও ব্ল্যাকবেরিগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

লেবু 
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বা ফ্লু-এর মতো অসুস্থতা অনুভব করলে, লেবু মেশানো পানি পান করা উপকারী। এই পানীয় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দারুণ কার্যকর হতে পারে। লেবুজাতীয় ফলের সাইট্রাস উপাদান শরীরে ভিটামিন সি-এর জোগান দেয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

আনারস ও রাসবেরি
সাধারণ পানিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে এতে আনারস ও রাস্পবেরির টুকরো যোগ করতে পারেন। আনারসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও ফাইবার। অন্যদিকে, ব্ল্যাকবেরির মতোই রাসবেরিতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পানিতে এই ফলগুলোর স্বাদ মিশে গেলে তা খেতে অন্যরকম লাগে। 

আদা
হজমশক্তি কিছুটা দুর্বল মনে হলে পানিতে আদা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আদা একটি পরিচিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহরোধী) উপাদান, যা পাকস্থলীকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। পানীয় জলে কয়েকটি টুকরো মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন, যাতে উপাদানগুলোর নির্যাস পানির সাথে ভালোভাবে মিশে যায়। এরপর সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে এই পানি পান করুন। এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। 

পুদিনা, শসা এবং লেবু
সাধারণ পানিকে আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পুদিনা, শসা এবং লেবুর মিশ্রণ দারুণ কার্যকর। শসা তৃষ্ণার্ত গলাকে ঠান্ডা করে, আর লেবুতে থাকা ভিটামিন সি আপনাকে সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে। অন্যদিকে, পানীয়তে তাজা পুদিনা পাতা যোগ করলে তা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে এবং অস্বস্তিকর বমি ভাব বা পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মধু
প্রাকৃতিক ও খাঁটি মধুর বহুমুখী গুণ রয়েছে—ক্ষত নিরাময় থেকে শুরু করে ত্বক পরিষ্কার রাখা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং শরীরে ক্যান্সার কোষের গঠন রোধ করতেও এটি সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্রকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ বা অস্বস্তি কমাতে,আপনার পানীয় জলে এক টেবিল চামচ মধুর সাথে সামান্য আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিতে পারেন।

আপেল এবং দারুচিনি
পানিকে আরও সতেজ করতে চাইলে এতে আপেলের কয়েকটি টুকরো এবং দারুচিনির কাঠি মিশিয়ে নিতে পারেন। আপেল প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দারুচিনি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

আরও পড়ুন

×