যুদ্ধের পর ইরানের দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে হতবাক ইসরায়েল
বাম থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আইডিএফ প্রধান আইয়াল জামির। ছবি: সংগৃহীত
ইন্ডিপেনডেন্ট
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৮
যুদ্ধের পর ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা দেখে বিস্মিত ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ইরান নতুন ও সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
জেরুজালেম পোস্টের হিসাবে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়।
ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যও জেরুজালেম পোস্ট যাচাই করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। গত মে মাসে সিএনএনকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইরান মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস দেওয়া সময়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানিয়েছিল, ইরান ছয় মাসের মধ্যে-অর্থাৎ নভেম্বর নাগাদ-ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে পারে বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল।
এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে ইরানে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলেও সিএনএনকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এই সরবরাহে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুদ্ধের সময় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে মার্কিন মজুত কমে এসেছে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমান ব্যবহারের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরান কীভাবে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা তারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে ও ধারাবাহিকভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গোয়েন্দা মূল্যায়নও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তবে পুনর্গঠনের গতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের মতে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে গোয়েন্দা সূত্র ও পদ্ধতি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।
- বিষয় :
- ইরান
- ইসরায়েল
- ক্ষেপণাস্ত্র