আইসিজেতে মামলা
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রমাণ এখন আন্তর্জাতিক আদালতে
জানেট এইচ. অ্যান্ডারসন
জানেট এইচ. অ্যান্ডারসন
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:১৮
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজে প্রথম আন্তর্জাতিক আদালত, যেখানে মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল তা জেনোসাইড বা গণহত্যা কিনা– নির্ধারিত হতে চলেছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মেলানি ও’ব্রায়েন বলেছেন, মিয়ানমারে যে গণহত্যা হয়েছে– প্রমাণ গাম্বিয়া হাজির করতে যাচ্ছে। তারা কেবল ব্যক্তির কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য উপস্থাপনা করছে না। এটি কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নয় যে, এখানে ব্যক্তিগতভাবে কারও বিচার হচ্ছে। এর দায় পুরো রাষ্ট্রের এবং আদালত সেটাই বিবেচনা করছেন।
গাম্বিয়ার পক্ষে আইনজীবীরা তাদের মামলার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে মাত্র দুটি গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়েছিল। প্রথমটি বসনিয়া বনাম সার্বিয়া, যার নিষ্পত্তি হয় ২০০৭ সালে এবং দ্বিতীয়টি ক্রোয়েশিয়া বনাম সার্বিয়া, যার রায় দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। যদিও আইসিজে রায় দিয়েছেন– বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর মাধ্যমে বসনিয়ায় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল এবং সার্বিয়া গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে। তবু আন্তর্জাতিক জুরিস্টস কমিশনের রিড ব্রোডি স্মরণ করিয়ে দেন, আদালত কখনোই এই রায় দেননি– কোনো রাষ্ট্র নিজেই গণহত্যা সংঘটনের জন্য দায়ী। তাঁর ভাষায়, ‘কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আদালত ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত উচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করে এসেছেন।’
পূর্ববর্তী মামলাগুলোতে আদালত নানা ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যেগুলো গাম্বিয়াকে মোকাবিলা করতে হবে। অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়েট ম্যাকইনটাইর বলেন, আইনজীবীরা সবচেয়ে বেশি নজর রাখবেন আদালতের সেই কঠোর পরীক্ষার দিকে, যেখানে প্রমাণ এতটাই স্পষ্ট হতে হবে, বিচারকরা যে একমাত্র সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন, তা হলো গণহত্যার অভিপ্রায় ছিল।
গণহত্যার ইতিহাস থেকে ফেসবুক প্রসঙ্গ
গত ১২ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের জেনোসাইডের শুনানি শুরু হয়েছে। ও’ব্রায়েন প্রথম কয়দিনের শুনানিতে গাম্বিয়ার যুক্তিগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে মনে করছেন। তবে গাম্বিয়াকে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব ঘটনা এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণহত্যা সংঘটনের নির্দিষ্ট ও বিশেষ অভিপ্রায়– এ দুটি বিষয়কেই প্রমাণ করতে হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে গাম্বিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিলিপ স্যান্ডস গণহত্যা সনদ প্রণেতা রাফায়েল লেমকিনের লেখা একটি বইয়ের প্রথম সংস্করণ থেকে উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান, রাষ্ট্রগুলো আসলে কী ধরনের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে। সপ্তাহের পরবর্তী সময়ে গাম্বিয়া একাধিক অধিবেশনে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী তাৎমাদোর বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে সংঘটিত ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেয়, যেখানে গ্রাম ধ্বংস, রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুদের হত্যা ও ধর্ষণের বিবরণ উঠে আসে। আরও কয়েকটি অধিবেশনে তারা যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, সেখান থেকে একমাত্র যৌক্তিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে– গণহত্যার অভিপ্রায়।
ও’ব্রায়েন বলেন, ‘গাম্বিয়া অতীতের গণহত্যাগুলোর সঙ্গে খুবই নিখুঁত তুলনা উপস্থাপন করেছে।’ স্রেব্রেনিৎসা, হলোকাস্ট বা রুয়ান্ডার মতো গণহত্যার সঙ্গে ‘ধারা’ ও ‘সাদৃশ্য’ তারা দেখিয়েছে। তাঁর ভাষায়, গাম্বিয়ার আইনজীবীরা একদিকে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবহার করে কীভাবে নির্যাতন ও বৈষম্য চালানো হয়েছে, তার ইতিহাস তুলে ধরছেন’, অন্যদিকে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনা করছেন।’ এ ছাড়া ব্রোডি যোগ করেন, বিভিন্ন আইনজীবী উপস্থাপিত নানা উপাদানের পেছনে একটি কৌশলও রয়েছে– ‘আপনি আবেদনপত্রে কিছু বিষয় রাখেন শুধু একজন বিচারকের জন্য। ১৫ জন বিচারককে মাথায় রেখে বলেন, এই বিচারকের জন্য আমাদের এটি দরকার। এই ছয়জন বিচারকের দিকেই আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। গাম্বিয়ার আইনি প্যানেলের সদস্য পল রাইখলার এতে সত্যিই খুব দক্ষ, ফিলিপ (স্যান্ডস)-ও তেমনি।’
জাতিসংঘের অন্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত তিন সপ্তাহের এই শুনানি চলবে। গাম্বিয়া তার মামলায় জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য উপস্থাপন করেছে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম)-এর প্রতিবেদনকেও যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনাবলির তদন্ত করেছে। আইসিজের কিছু সেশন হবে নিরালায়, যেখানে তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করবেন। ক্রোয়েশিয়ায় গণহত্যার ঘটনায়ও তারা এমন কিছু সাক্ষী পেয়েছিলেন, যারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি এবং তাদের সুরক্ষার জন্য গোপন শুনানিতে তাদের জেরা ও পাল্টা জেরা করা হয়েছিল। এ ধরনের মামলায় এটি যে অত্যন্ত সংবেদনশীল, তা স্পষ্ট। তারা যেসব প্রমাণ উপস্থাপন করবেন, সেগুলোও হবে বেদনাদায়ক। 
অ্যাডেলেইড ইউনিভার্সিটির জুলিয়েট ম্যাকইনটাইর বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে কিছু সম্ভাব্য সমস্যা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘একটি হলো, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং প্রমাণের সত্যতা যাচাই কীভাবে করা হয়েছে, তা সব সময় স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় সম্ভাব্য সমস্যা হলো, জাতিসংঘের প্রতিবেদনগুলো ‘কেবল তথ্য উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সরাসরি এই প্রশ্নে ঢুকে পড়ে– এখানে গণহত্যা ঘটেছে কিনা; যেন কোথাও কোথাও আদালতের কাজটাই করে দিচ্ছে।’
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনগুলো অবিশ্বস্ত বলে যে দাবি তোলা হয়, তার জবাবে গাম্বিয়ার আইনজীবী রাইখলার বলেন, ‘আদালত যখন জাতিসংঘের প্রতিবেদন ব্যবহার করেন, তখন তার ‘বিদ্যমান বিচারিক দৃষ্টান্তই স্পষ্ট করে দেন– এসব প্রতিবেদন নির্ভরযোগ্য কিনা। আদালত নিজের মামলার রায়গুলোতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত সতর্কভাবে যাচাই করার পরই কেবল সেগুলোর ওপর নির্ভর করেছে। এখানেও তা করা হলে আদালতের দীর্ঘদিনের চর্চার সঙ্গেই তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
রাইখলার আরও যুক্তি দেন, ‘এফএফএম ও আইআইএমএম প্রতিবেদনগুলোর উপস্থাপিত প্রমাণ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য।’
রাইখলার ব্যাখ্যা করেন এসব প্রতিবেদন কতটা বিস্তৃত, সেখানে এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী, সাক্ষী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সাবেক মিয়ানমার কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎকার রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র, সত্যায়িত ভিডিও ও আলোকচিত্র, সংশ্লিষ্ট তথ্য বিষয়ে মিয়ানমার কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া মিয়ানমারের আইন, নীতি ও নির্দেশনা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং মিয়ানমার বা জাতিসংঘের তৈরি পরিসংখ্যান, জরিপ ও অন্যান্য তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।
গণহত্যার অভিপ্রায়
সব পর্যবেক্ষকই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, আদালত অতীতে গণহত্যার অভিপ্রায় বিষয়ে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, গাম্বিয়া তা কীভাবে মোকাবিলা করছে। ও’ব্রায়েন বলেন, ‘বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া মামলায় আদালতের আগের রায়গুলোতে যখন গণহত্যার অভিপ্রায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে বলা যেতে পারে, এমন একমাত্র সিদ্ধান্ত হতে হবে গণহত্যার অভিপ্রায়; কিন্তু এই অবস্থান ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। এটি কনভেনশনের ভাষা দ্বারাও সমর্থিত নয় এবং বাস্তবতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ একই সময়ে যুদ্ধাপরাধের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অভিপ্রায়ও থাকতে পারে।’
জবাবে রাইখলার স্মার্টলি বলেন যে, ‘তিনি আদালতের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে একমত এবং যুক্তি দেন, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে একমাত্র এই যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের একটি গোষ্ঠী হিসেবে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করেছে।’ রাইখলার আদালতকে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো, নির্বিচারে গুলি চালানো এবং নিরস্ত্র, নিরীহ ও ঢালহীন হাজার হাজার রোহিঙ্গা বেসামরিক মানুষকে হত্যা করাকে কেবল সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নামে ব্যাখ্যা করা যায় না। তিনি গণহত্যার অভিপ্রায় প্রমাণের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মিয়ানমার সরকার দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে ঘৃণিত, বৈষম্যের শিকার ও হত্যার নিশানায় পরিণত হয়েছিল। তাদের নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল; জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল; কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল; চলাচল, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল। এমনকি অন্যান্য জাতি, বর্ণ ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য যে মৌলিক অধিকারগুলো ছিল, সেগুলো থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল।’
উপসংহারে তিনি বলেন, তাৎমাদো তথা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রধানের প্রকাশ্য ঘোষণায় যেমন বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বই দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘সমস্যা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল; আর সেই সমস্যার ‘চূড়ান্ত সমাধান’ করতেই তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করা হয়। এটি সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ছিল না। এটি ছিল সন্ত্রাসের বিরোধিতার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি ছিল ‘গণহত্যা’।
গণহত্যার অভিপ্রায় হিসেবে যৌন নিপীড়ন
গাম্বিয়া এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরে। ও’ব্রায়েন যেমনটা বলেছেন, তারা নারী ও শিশুদের বিশেষত ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করেন। যেখানে রোহিঙ্গা অব্যাহতভাবে এই নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রেকর্ডে শুধু নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ঘটনাই উঠে আসেনি; একই সঙ্গে ২০১৭ সালের সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে পুরুষ ও কিশোরদের যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণ, যৌনাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও উঠে এসেছে। নারী ও শিশুদের ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যেখানে একই সঙ্গে একাধিক অপরাধী জড়িত ছিল। এ ধরনের নিপীড়নের ঘটনা ভুক্তভোগীর শিশু সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সম্মুখেই হয়েছে। এমনকি নারীদের ধর্ষণ করে হত্যার প্রমাণও মিলেছে।
মিয়ানমারের গণহত্যার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল লিঙ্গভিত্তিক। কারণ সাধারণত দেখা যায়, পুরুষদের হত্যা করা হয় এবং নারীরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে পরে তাদেরও হত্যা করা হয়। এর ফলে আদালত থেকে লিঙ্গ-সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যেখানে উল্লেখ থাকতে পারে– গণহত্যা প্রক্রিয়ায় যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক অপরাধ সংঘটনের ক্ষত কতটা গভীর এবং বিষয়টি শুধু হত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
মিয়ানমার হয়তো আদালতের সামনে তাদের বিকল্প ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে।
ফিলিস্তিনের গাজা হত্যা মামলার প্রভাব কতটা?
ও’ব্রায়েন বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিচারিক রায়। বিভিন্ন দেশের বিচারকদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান যখন বিপুল পরিমাণ প্রমাণ পর্যালোচনা করবে, তা থেকে আসা রায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ ব্রোডি উল্লেখ করেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে এই মামলা ব্যাপকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার একটি মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে আদালত অভিপ্রায় ও প্রমাণ কীভাবে বিশ্লেষণ করেন, তা আগামী বহু বছরের জন্য গণহত্যা-সংক্রান্ত আইনকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে গাজা মামলার ক্ষেত্রে। ও’ব্রায়েনও ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, এখানে উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর রায় এলে নিঃসন্দেহে তা আমাদের চলমান অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে এবং এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে ইউক্রেন-রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা-ইসরায়েল, নিকারাগুয়া-জার্মানি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার মামলায় আইসিজেতে তিন সপ্তাহের শুনানিতে উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করতে বিচারকদের কয়েক মাস সময় লাগবে। তবে এ বছরই প্রত্যাশিত একটি রায় হয়তো আমরা দেখতে পাব।
জানেট এইচ অ্যান্ডারসন: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; জাস্টিস ইনফো ডট নেট থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক
- বিষয় :
- আইসিজে
