এই অপূর্ব সময়ে
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ১১:১২
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের আকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ‘বড় ছেলে’ নাটকের সেই স্নিগ্ধ রোমান্টিক তরুণ থেকে শুরু করে ‘ডার্ক জাস্টিস’ কিংবা ‘বুকের মধ্যে আগুন’ বা ‘গোলাম মামুন’ সিরিজের কঠিন অ্যাকশন চরিত্র–অপূর্ব যেন প্রতিটি ঘরানাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন। ফলে রোমান্টিক চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অপূর্ব আজ যেন ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে অনুরাগীদের মনে বিদ্যমান। পরের প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে তিনি এখন আইকনিক স্টার, সময়ের সঙ্গে চলা এক প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী মুখ। এই জায়গায় হুট করেই কিন্তু তিনি আসেননি; এসেছেন নিজেকে প্রমাণ করতে। ফলে আজ অপূর্ব সত্যিই এক অপূর্ব অভিনেতা!
বিগত সাত মাস তিনি ছিলেন না চিরচেনা জায়গায়। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের বাইরে অবস্থান করছিলেন। অবকাশ যাপন করতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি উড়াল দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী শাম্মা দেওয়ান তৃষা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। প্রায় সাত মাস পর, চলতি মাসের শুরুতে ফিরেছেন নিজের শহরে, প্রিয় অভিনয়ের মঞ্চে। ফিরেই জানিয়েছেন, কয়েক দিন বিশ্রামের পর তিনি আবার নামবেন শুটিং ফ্লোরে। হাতে জমে আছে কয়েকটি স্ক্রিপ্ট, পড়া শেষ করেই নেবেন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত।
গোলাম মামুনের দ্বিতীয় কিস্তি
হুকুমদাতাদের কথায় যেখানে সবকিছু হয়, কিন্তু কেউ দেখতে পায় না এই অদৃশ্য হুকুমদাতাদের; যাদের ইশারায় পুরো দেশের অনেক কিছু পরিচালিত হয়। অথচ তারা সব সময় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন প্লট নিয়েই নির্মিত হয়েছিল ওয়েব সিরিজ ‘গোলাম মামুন’। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব অভিনীত সিরিজটি নির্মাণ করেছিলেন শিহাব শাহীন। এবার অপূর্ব দেশে আসার পর নির্মাতা জানিয়ে দিলেন শিগগিরই ‘গোলাম মামুন ২’-এর নির্মাণকাজ শুরু করবেন তিনি। সিরিজটিতে অপূর্ব অভিনয় করেছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। সিরিজটির মাধ্যমে অপূর্বকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছিলেন দর্শক। দুর্দান্ত অভিনয়, অ্যাকশন দৃশ্যে অপূর্বর সাবলীলতা দারুণভাবে মুগ্ধ করে দর্শকদের। নতুন সিরিজটি নিয়ে নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, ‘গোলাম মামুন ২-এর এখন স্ক্রিপ্টিং চলছে, এই মাসটা লেগে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুটিং শুরু করব।’ অপূর্বর সঙ্গে আলাপেও এর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অফিসিয়ালি জানাতে আরও সময় লাগবে বলে অভিনেতার ভাষ্য।
নাটকেও নিয়মিত
সাত মাস কাজের বাইরে থাকায় নাটকের অনেক গল্প জমে আছে অপূর্বর। প্রিয় অভিনেতা দেশে ফিরতেই নাট্যপরিচালকরা যোগাযোগ করছেন তাঁর সঙ্গে। জমে থাকা গল্পগুলো নিয়ে আলাপ চলছে। অপূর্বর সঙ্গে কাজ করতে চাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাতা বললেন, অপূর্ব ভাইয়ের জন্য তিনটি নাটকের গল্পের স্ক্রিপ্ট রেডি করেছি। সেগুলো নিয়েই সাক্ষাৎ হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই পর্যায়ক্রমে কাজগুলো শুরু করতে পারব। অভিনেতা জানালেন, কয়েক দিন বিশ্রামের পর গল্প নির্বাচন করতে বসেছেন। হাতে জমে আছে কয়েকটি স্ক্রিপ্ট, পড়া শেষ করলেই নেবেন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত। দুয়েক দিনের মধ্যে শুটিং ফ্লোরেও ফিরছেন। এখন নিয়মিতই নাটক ও ওটিটিতে পাওয়া যাবে।
তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে
দেশে ফিরে একমাত্র সন্তান আয়াশকে দেওয়া এক বিশেষ সারপ্রাইজের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন অপূর্ব; যা নিয়ে পরে বেশ কিছু নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়। এতে বিরক্ত অভিনেতা। সেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় নিজের ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন তিনি। বিষয়গুলো নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থাও নেন।
শাকিব-নিশোদের ছাড়িয়ে
ব্যক্তিজীবনে অপূর্ব বরাবরই সংযমী। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ৮৯ লাখ। এই সময়ে চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকা শাকিব খানকেও ছাড়িয়ে। ফেসবুকে ৭৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ১০ লাখ ফলোয়ার নিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষে। অনুসারীর এই বিশাল সংখ্যাকে তিনি কখনোই আত্মপ্রচার বা প্রতিযোগিতার মাপকাঠি মনে করেন না। তাঁর কাছে এটি কেবলই দর্শকের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধ। কাজের খবর, ব্যক্তিগত ভাবনা কিংবা জীবনের ছোটখাটো মুহূর্ত–সবকিছুই তিনি শেয়ার করেন অনুরাগীদের সঙ্গে, যেন এক অনন্ত কথোপকথন। অভিনয় নিয়ে কথা বলতে গেলে অপূর্বর কণ্ঠে এক ধরনের নিবেদন ধরা পড়ে–‘অভিনয় আমার কাছে ভালোবাসা। প্রচণ্ড ভালোবাসি অভিনয়। চরিত্র ও গল্প নিয়ে ভাবি, কাজের মধ্যে বাঁচি। এই ভালোবাসাই আমাকে প্রতিদিন নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়।’
অন্যরকম অভিজ্ঞতা
এই দীর্ঘ বিরতির মধ্যে অপূর্বর জীবনে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মাইলফলক অভিজ্ঞতা–প্রথমবারের মতো কলকাতার বাংলা সিনেমায় অভিনয়। ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের প্রযোজনায় প্রতিম ডি গুপ্তের পরিচালনায় ‘চালচিত্র’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। রাইমা সেন, টোটা রায় চৌধুরী, শান্তনু মাহেশ্বরী, স্বস্তিকা দত্তসহ টালিউডের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে টানা ১৭ দিন শুটিং করেছেন কলকাতায়। অপূর্বর ভাষায়, ‘খুব সুন্দর একটা জার্নি হয়েছে। সেখানকার সবাই শতভাগ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। কলকাতার জার্নিটা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
গল্পের প্রেমেই তিনি রাজি হয়েছিলেন এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য, ‘বাঙালি দর্শকরা গল্প বলা পছন্দ করেন, আমিও গল্পের প্রেমে পড়েছি। অসাধারণ একটি থ্রিলার গল্প রয়েছে চালচিত্রে।’
কলকাতায় কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিও তাঁর কথায় ফুটে ওঠে, ‘নর্থ কলকাতার বিরিয়ানি, চাপ মাটন, শিঙাড়া কিংবা দুধের সর দিয়ে তৈরি মিষ্টি–সবই যেন হয়েছিল ব্যক্তিগত এক খাদ্য ডায়েরির অংশ।’
- বিষয় :
- জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
- অভিনেতা
- নায়ক
