‘দর্শক ভালো-মন্দ বুঝতে পারেন’
খায়রুল বাশার
বুলবুল ফাহিম
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘তোমার পাশে হাঁটতে দিও’ নাটকের অনি, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েবের মুন্না, কিংবা ‘মহানগর’ সিরিজের আবির, সর্বশেষ ‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিকে সামির চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। বর্তমানে নাটক-ওটিটির নির্মাতাদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার পাত্র। বলছি, অভিনেতা খায়রুল বাসারের কথা। গেল শুক্রবার প্রচার হয়েছে ‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিকের শেষ পর্ব। এটি তাঁর জীবনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বলছেন বাসার। এই নাটক দিয়ে আলাদা একটি দর্শক শ্রেণির কাছে জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। তাঁর কথায় ‘এটা আমাদের গল্প’ সবকিছু ছাড়িয়ে গেল। এটি আসলে আমাদের সমাজের গল্প, আমাদের নিজেদের গল্প। এটি একটা লম্বা জার্নি ছিল। এই নাটকে যে সাড়া পেয়েছি, এমন সাড়া জীবনে খুব কম নাটকেই পেয়েছি। বিশেষ করে শেষের কয়েকটি পর্ব নিয়ে মানুষ যে আগ্রহ দেখিয়েছে, তা বোধহয় সবারই চোখে পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব শ্রেণির দর্শকের মন জয় করেছি। ছোটবেলায় আমরা যেমন আলিফ লায়লার মিউজিক শুনে ছুটে যেতাম, তেমনি ‘এটা আমাদের গল্প’ নাটকের মিউজিক অনেকের মনে ধাক্কা দিয়েছে।
এই নাটকের সুবাদে আলাদা ধরনের দর্শকের মধ্যে যেতে পেরেছেন বাসার। তিনি বলেন, ‘এই নাটকের সুবাদে আমি একটি বিষয় বুঝতে পেরেছি, তা হলো আমি অল্পবয়সী দর্শকের কাছে যেতে পেরেছি। কারণ, আগে ছোট বাচ্চারা আমার সঙ্গে খুব বেশি ছবি তুলতে আসত না কিন্তু এখন খেয়াল করছি ছোটরা এখন বেশি সেলফি তুলতে আসে। তারাও এসে আমাকে সামির চাচু বলে ডাকছেন। এটি বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছি।’
‘তোমার পাশে হাঁটতে দিও’ নাটকের চরিত্র অনি নামে আমার কাছে হাতে লেখা চিঠি আসতো, এরপর যখন ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েবে অভিনয় করলাম তখন সবাই মুন্না বলে ডাকা শুরু করল। এরপর ‘মহানগর’ সিরিজের আবির। এখন যেখানে যাচ্ছি সেখানেই প্রায় সবাই আমাকে সামির বলে ডাকছে।
আগামী ঈদের জন্য বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি নাটক। তবে শুধু অভিনয় করে যেতে চান না তিনি। কাজের সঙ্গে মান ও গল্পের প্রভাব বজায় রেখে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতা। তাঁর মতে, ‘আমি চাই প্রেমের গল্প, মানবিক ও পারিবারিক গল্প উঠে আসুক। সেই সঙ্গে সহনশীল ও সহমর্মিতার বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত উঠে আসুক। এই ধরনের গল্পে কাজের প্রস্তাব যখন আসে, তখন কোনোকিছু ভাবি না। প্রস্তাব পেলেই লুফে নিই। কারণ, আমাদের দর্শক এখন অনেক স্মার্ট। তারা ভালো-মন্দ সহজেই বুঝতে পারে। সস্তা বিষয় তারা গ্রহণ করেতে রাজি নয়। বিশেষ করে দর্শক এখন পরিবার নিয়ে নাটক দেখতে পছন্দ করে।’ সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন বাসার। ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার উপস্থাপনায় দেখা গেল তাঁকে। যদিও শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে খানিকটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। অভিনেতা বললেন, ‘জীবনের প্রথমবার এত বড় একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছি। কতটা ভালো করতে পেরেছি, তা মঞ্চের সামনের মানুষগুলো ভালো বলতে পারবেন। তবে চেষ্টা করেছি, ভালো করার। যেহেতু শুরু হলো, সেহেতু সামনে হয়তো দর্শক আমাকে এই প্ল্যাটফর্মে পাবেন।’ নাটক, ওটিটির পাশাপাশি সিনেমাতেও সরব খায়রুল বাসার। বছরে দু-একবার বড়পর্দাতেও দেখা যায় তাঁকে। হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি সিনেমা। এর মধ্যে ‘বনলতা সেন’ অন্যতম। আগামী ঈদে তাঁর সিনেমা ‘বনলতা সেন’ প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো পরিচালক-প্রযোজকের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়া সিনেমার জন্য কিছু গল্প আসছে, মনের মতো হলে কেবল সেগুলোতে যুক্ত হবেন তিনি। অর্থের দিকে না তাকিয়ে গল্প, চরিত্র, প্রেক্ষাপট ভালো লাগলেই কেবল সেই প্রজেক্টে যুক্ত হন। বাসারের ভাষ্য, ‘আসলে আমি অভিনয় করতে ভালোবাসি। সেটি নাটক হোক বা ওটিটি হোক কিংবা সিনেমা। গল্প, চরিত্র, প্রেক্ষাপট আমার কাছে প্রাধান্য পায়। চরিত্র পছন্দ হলে ছাড়তে চাই না। শুরু থেকে সেভাবেই কাজ করেছি। সেভাবেই কাজ করে যেতে চাই।’
- বিষয় :
- বিনোদন
