ঈদে রুপালি পর্দায় লড়াই
‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খান
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকাই চলচ্চিত্রশিল্পে ঈদ মানেই বাড়তি উৎসব। সিনেমা দর্শকদের জন্য এটি যেমন বিনোদনের বড় সময়, তেমনি নির্মাতা-প্রযোজকদের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক মৌসুম। ঈদুল ফিতরের সিনেমার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার সিনেমা ঘিরে আলোচনা। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বড় বাজেট, নতুন জুটি আর ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি চলছে।
আসছে ঈদুল আজহায় সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি ‘রইদ’। ‘হাওয়া’খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমাটির মুক্তির ঘোষণা আগেই এসেছে। প্রচারের অংশ হিসেবে গান, পোস্টার ও টিজার প্রকাশও পেয়েছে। এসব প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। নির্মাতা জানিয়েছেন, সিনেমাটি এখন প্রস্তুত হচ্ছে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়ার জন্য। আজকালের মধ্যেই জমা পড়বে বলে আশা করি।
ঈদ মানেই এখন শাকিব খানের সিনেমা। গেল ঈদে তাঁর ‘প্রিন্স’ প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও এবার দর্শকদের নজর ‘রকস্টার’-এ। সিনেমাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়েছেন সাবিলা নূর। পরিচালনায় আছেন আজমান রুশো। ইতোমধ্যে সিনেমাটির লুক পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার ও প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশ পেয়েছে। নির্মাতার ভাষ্য, শুটিং শেষ করে এখন চলছে সম্পাদনার কাজ। চলছে সেন্সরে জমা দেওয়ারও প্রস্তুতি। ঈদুল ফিতরের পরপরই সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে সে ঘোষণা দিয়ে শুটিং শুরু করা হয়। এরপর থেকেই আলোচনায় সিনেমাটি। ঈদে মুক্তির ক্ষেত্রে সিনেমাটি প্রচার-প্রচারণায় কোনো কমতি রাখছে না রকস্টার টিম।
অন্যদিকে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। ‘সাপলুডু’র পর আবারও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা যাবে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সাইফ চন্দন। শুটিং শেষ হয়ে বর্তমানে চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ঈদে মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। ঈদে মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের জন্য পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সিনেমাটির শুধু মুক্তি না, কোনো কিছুই এখনও অফিসিয়ালি জানায়নি। তবে আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই ঈদে মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সব জানানো হবে।’
প্রায় পাঁচ বছর আগে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন নির্মাতা সৈকত নাসির। সিনেমাটির বেশির ভাগ শুটিং শেষ হলেও বাকি ছিল একটি গান ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। নানা জটিলতার কারণে কাজটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সম্প্রতি সেই জট কাটিয়ে সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজক আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, মাসুদ রানার বাকি কাজ শেষ হয়েছে। আমরা সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তি দেব। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাসেল রানা এবং তাঁর বিপরীতে আছেন পূজা চেরি। এখনও সিনেমাটির প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। নির্মাতা জানিয়েছেন, আগামী ২০ মে’র মধ্যে সেন্সরে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুবলী ও আদর আজাদ অভিনীত ‘পিনিক’ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জাহিদ জুয়েল পরিচালিত সিনেমাটি এর আগেও কয়েকবার মুক্তির ঘোষণা দিয়ে পিছিয়েছে। হল সংকটের কারণে এবারও মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিনেমা-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগামী ঈদুল আজহাতেও সিনেমাটি মুক্তি পাবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে বাপ্পারাজ ও দীঘি অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমার কাজ এখনও চলছে। ‘বরবাদ’ ও ‘রাক্ষস’খ্যাত নির্মাতা মেহেদি হাসান হৃদয় সিনেমাটি পরিচালনা করছেন। পরিচালক জানালেন, সিনেমাটির প্যাসওয়ার্কের শুটিং চলছে। এর আগে জানানো হয় সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে। তবে ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে সিনেমাটির প্রযোজক শাহরীন আক্তার জানালেন, তারা ঈদুল আজহায় ‘বিদায়’-এর মুক্তির লক্ষ্য নিয়েই নির্মাণ করছিলেন। এখনও ঈদুল আজহাতেই মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঈদ ছাড়া কোনো একটি উৎসব তৈরি করে মুক্তি দেওয়ার কথাও তাদের মাথায় আছে।
অন্যদিকে সমাজের নানা বাধা আর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রেম ও বিরহের চিত্রনাট্যে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘নাকফুলের কাব্য’। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও এতদিন মুক্তি পায়নি। এবার সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, কোরবানির ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি ও আদর আজাদ। সিনেমাটির পরিচালক আলোক হাসান বলেন, ‘আমাদের সিনেমা সব রেডি করা। সেন্সরও করা। এবার প্রযোজনা সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঈদে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’
আজমান রুশো
আমাদের রকস্টারের শুটিং শেষ। এখন পোস্টের কাজ করছি। প্রচার-প্রচারণাও চলছে। ইতোমধ্যে আমরা রকস্টারের লুক পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার, টিজার ও প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশ করেছি। সবকিছুই দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করছে। প্রচারণার জন্য আগামীতে আরও যা আসবে সবকিছুতেই চমক থাকবে। আগামী সপ্তাহে আমরা সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেব। রকস্টারে শাকিব খান বাংলাদেশের ঢাকার একটি ছেলের চরিত্র করেছেন। গল্পের ক্ষেত্রে তিনি দেশের বাইরেও যান। তবে গল্পের যে মানুষেরা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সে কারণে জোরালোভাবে বলতে পারি রকস্টার বাঙালি ছেলের গল্প, এটি বাংলাদেশের গল্প। ছোটবেলা থেকে আমি কোনো নায়কের স্টাইল ফলো করিনি। সবসময় মিউজিশিয়ানদের লাইফস্টাইল ফলো করেছি। তাদের মতো পোশাক, চুলের স্টাইল করতাম। সেই আমার প্রথম সিনেমা হচ্ছে মিউজিক্যাল ফিল্ম।
নির্মাতা, রকস্টার
মেজবাউর রহমান সুমন
রইদ সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়। মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, মুক্তির আগে দর্শকের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে। প্রচারণা এখানে বড় বিষয়। এ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের আগের সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছি। আমরা শুরুর দিকে ভেবেছিলাম, ঈদের পর সিনেমাটি মুক্তি দেব। এতে দর্শকরা গল্পটি উপভোগ করতে পারবেন। তবে ঈদের পরপরই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। তাই মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঈদুল আজহাতেই ‘রইদ’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যে সিনেমার পোস্টার, ট্রিজার ও গান প্রকাশ করেছি। দর্শক সেগুলো দারুণভাবে গ্রহণও করছেন। আগামী ঈদের আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা চলমান থাকবে।
নির্মাতা, রইদ
সাইফ চন্দন
সিনেমাটি প্রপারভাবে সব শেষ করার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। এখনও আমরা সে পথেই আছি। আমাদের শুটিং, ডাবিং সব শেষ। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সিনেমাটির ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি কারা যেন প্রকাশ করেছে। তাতেই দেখেছি দর্শকের কাছে সিনেমাটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল। সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখে দর্শকরা আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার জন্য পরিপূর্ণ কাজ শেষ করে একযোগে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। এর মধ্যে আমরা সব গুছিয়ে এনেছি। প্রচারণা শুরু হওয়া মাত্রই একে একে সব প্রকাশ করা হবে। মূলত অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা এটি। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এর গল্প এগিয়ে যায়।
নির্মাতা, মালিক
আলোক হাসান
অনেক আগেই ‘নাকফুলের কাব্য’ শেষ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়েছি। ২০২৪ সালে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবার ঈদুল আজহায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোস্টার প্রকাশ করে প্রচারণাও শুরু করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ঈদেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে কেবল মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ আবহ ও নিখাদ দেশীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক আবেগঘন প্রেম ও বিরহের গল্পকে কেন্দ্র করে। সমাজপতিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একটি অমর প্রেম ও বিরহের গল্প ‘নাকফুলের কাব্য’। এতে রয়েছে তিনটি গান। প্রেম, আবেগ, কমেডি–সবই রয়েছে। দর্শক একটি পরিচ্ছন্ন গল্পের সিনেমা পাবেন। পরিবারসহ উপভোগ করার মতো সিনেমা এটি।
নির্মাতা, নাকফুলের কাব্য
- বিষয় :
- বিনোদন
