রোমাঞ্চ ও হাসির রঙিন সফর
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমার পোস্টার
উপমা পারভীন
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে ‘ওয়েলকাম’ অন্যতম। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবিটি দর্শককে এমনভাবে মুগ্ধ করেছিল যে উদয় শেঠি, মজনু ভাই কিংবা আরডিএক্সের মতো চরিত্রগুলো আজও দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। এরপর ২০১৫ সালে আসে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’। দীর্ঘ বিরতির পর এবার মুক্তি পাচ্ছে সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’; যা এরইমধ্যে বছরের সবচেয়ে আলোচিত কমেডি সিনেমাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী। এবারের সিনেমায় থাকছেন অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, পরেশ রাওয়াল, আরশাদ ওয়ারসি, জ্যাকি শ্রফ, জনি লিভার, রাজপাল যাদব, তুষার কাপুর, শ্রেয়াস তলপাড়ে, রাভিনা ট্যান্ডন, লারা দত্ত, দিশা পাটানি, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, আফতাব শিবদাসানি, কিকু শারদা, কৃষ্ণা অভিষেক, দালের মেহেন্দিসহ আরও অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে এত বড় তারকাসমাবেশ খুব কম ছবিতেই দেখা গেছে।
সম্প্রতি চার মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের ট্রেলারটি মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ট্রেলারের শুরু হয় একটি মজার ঘোষণা দিয়ে ‘ভারতের প্রথম ২০০০ কোটির ভুয়া ছবি’। এরপর শুরু হয় একের পর এক হাস্যকর পরিস্থিতি, ভুল বোঝাবুঝি এবং বিশৃঙ্খলার উৎসব। গল্পে দেখা যায়, পরেশ রাওয়ালের চরিত্র সেনাবাহিনীকে ঘিরে একটি সিনেমা নির্মাণ করছেন। সেই ছবির অভিনেতাদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য একটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের প্রকৃত সেনা সদস্য মনে করে বসে। কারণ ওই গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়ংকর ডাকাত চক্রের অত্যাচারে জর্জরিত। গ্রামের মানুষ আশা করে, এই তথাকথিত ‘সেনারা’ তাদের উদ্ধার করবে। এই ভুল ধারণা থেকেই জন্ম নেয় অসংখ্য কৌতুককর ঘটনা।
ট্রেলারের অন্যতম বড় চমক হলো অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি এবং পরেশ রাওয়ালকে আবারও একসঙ্গে দেখা। এই তিন তারকার উপস্থিতি দর্শকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ‘হেরা ফেরি’র স্মৃতি। অন্যদিকে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার জনপ্রিয় চরিত্র উদয় শেঠি ও মজনু ভাইয়ের প্রসঙ্গও ছবিতে উঠে এসেছে। ফলে পুরোনো দর্শকের জন্য ছবিটি এক ধরনের নস্টালজিক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।
মুক্তির আগে ছবিটি সেন্সর বোর্ডের বেশ কিছু আপত্তির মুখেও পড়েছে। জানা গেছে, বর্ণবৈষম্য, সেনাবাহিনী সম্পর্কিত সংলাপ এবং কিছু অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তোলে বোর্ড। এর ফলে বেশ কয়েকটি সংলাপ পরিবর্তন করতে হয়েছে। পাশাপাশি দিশা পাটানি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের কিছু বিকিনি দৃশ্যও বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে একাধিক কাটের পর ছবিটি ‘ইউ/এ’ ছাড়পত্র পেয়েছে।
গত কয়েক বছরে অক্ষয় কুমারের বেশ কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেমা।
কমেডি ঘরানায় অক্ষয়ের জনপ্রিয়তা বরাবরই তুঙ্গে। ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মসালা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’ কিংবা ‘ওয়েলকাম’-এর মতো ছবিতে তাঁর অনবদ্য কমিক টাইমিং দর্শককে মুগ্ধ করেছে। সেই পরিচিত ছন্দে ফেরার সুযোগ এনে দিয়েছে এই নতুন ছবি।
বর্তমান সময়ে যখন অ্যাকশন, থ্রিলার কিংবা প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার দাপট চলছে, তখন ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ দর্শকের জন্য নিয়ে আসছে নিখাদ হাস্যরস ও পারিবারিক বিনোদন। ট্রেলার দেখে বোঝা যায়, এখানে বাস্তবতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মজা, বিভ্রান্তি আর কমেডি। তবে এত তারকাবহুল দলকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে গল্প কতটা শক্তিশালী হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ট্রেলার অবশ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, দর্শকের জন্য অপেক্ষা করছে হাসি, বিশৃঙ্খলা আর চমকে ভরা এক জমজমাট যাত্রা। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বলিউডের বহু জনপ্রিয় তারকাকে এক পর্দায় দেখার বিরল সুযোগ। পুরোনো স্মৃতি, নতুন ভুল বোঝাবুঝির কাহিনি এবং অক্ষয়ের প্রত্যাবর্তন।
- বিষয় :
- বিনোদন
