মিষ্টি হাসির সাদনিমা
সাদনিমা বিনতে নোমান
ইলমা আজাদ
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাঁর মিষ্টি হাসিতে মুগ্ধ–এমন অনুরাগী দিনদিন বেড়েই চলছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে পর্দায় তুলে ধরে মনোযোগ কেড়ে নেওয়া দর্শকসংখ্যাও কম নয়। তাঁর সাবলীল অভিনয়ে অনেকের প্রশ্ন–এত অল্প সময়ে কীভাবে এমন অভিনয় ক্ষমতা রপ্ত করেছেন? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরাও মুখোমুখি হয়েছিলাম সাদনিমা বিনতে নোমানের। অবাক হতে হলো এটি দেখে যে, দর্শক ও আমাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তরটাই সাদনিমার অজানা। সময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রী হেসে বলেন, ‘সত্যি আমি জানি না, আমার অভিনয় কে বীভাবে বিচার করছেন। আমি শুধু চেয়েছি, অভিনয়ের জন্য ভালো গল্প, ভালো চরিত্র বেছে নিতে। দ্বিতীয় ধাপে চেষ্টা ছিল গল্প ও চরিত্র দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। সে জন্য পরিচালকের নির্দেশ আর সহশিল্পীদের পরামর্শ মেনে চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন দর্শক যদি বলেন, আমার অভিনয় সাবলীল এবং তা গল্পের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে, তাহলে সেটি আমার জন্য অবশ্যই আনন্দের। এই আনন্দটা মূলত নির্মাতাদের আস্থার প্রতিদান দিতে পারার।’ সাদনিমার এ কথা থেকে এটি স্পষ্ট যে, কাজের সাফল্যে নিজেকে একক ভাগীদার মানতে চান না তিনি। অবশ্য এটিও সত্যি যে, অভিনয় জগতে প্রতিটি কাজই দলীয়; যেখানে কিছু মানুষ থাকেন ক্যামেরার পেছনে, কিছু মানুষ সামনে। কিন্তু সবারই চেষ্টা থাকে, দর্শক মনে ছাপ ফেলার মতো একটি আয়োজন তুলে ধরার। সাদনিমাও সে দলের একজন, যিনি প্রতিটি সাফল্য, কাজের কৃতিত্ব সবাইকে সমানভাবে দিতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শক মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিতে হলেও এমন কিছু কাজ তুলে ধরা উচিত, যা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। এ কারণে অভিনয়ের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না।
অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে হাতেগোনা যে কজন তারকা তুমুল দর্শক আলোচনায় এসেছেন, সাদনিমা তাদেরই একজন; যাকে প্রথম দেখেও মনে হয় না নতুন কেউ। কিন্তু কেন? সে উত্তর পেতে একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা আবিষ্কার করি, সাদনিমাকে আমরা আগেও দেখেছি। সেই সাদনিমা খোলনলচে বদলে পুরোপুরি নতুন রূপে আমাদের সামনে ধরা দিয়েছেন। শিশুশিল্পী থেকে পুরোদস্তুর তরুণীরূপে আমাদের সামনে ধরা দিয়েছেন। হাঁটা শুরু করেছেন পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার পথে।
সময়টা ছিল ২০০৪ কিংবা ২০০৭ সাল। অমিতাভ রেজা চৌধুরীর নির্মাণে এসিআই অ্যারোসলের একটি বিজ্ঞাপন তখন দর্শকের চোখে আলাদা দাগ কেটেছিল। বইয়ের পাতার অলংকরণ আর লেখার ভেতর থেকে উড়ে যাওয়া মশার সেই দৃশ্য আজও অনেকের মনে আছে। সেই বিজ্ঞাপনে বই পড়তে থাকা ছোট্ট মেয়েটিই আজকের অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। শিশুশিল্পী হিসেবে সেটিই ছিল তাঁর শোবিজে পথচলার শুরু। ওই বিজ্ঞাপনের সাফল্যের সুবাদে একের পর এক বিজ্ঞাপনে দেখা মিলছে তাঁর। এরপর পড়াশোনার জন্য বাধ্য দিয়ে সরে এসেছেন বিনোদন জগৎ থেকে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে কিছুদিন চাকরিও করেছেন। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই কাজটিই করবেন, যা তিনি মন থেকে চান। আর চাওয়াটি হলো অভিনয়ের মাধ্যমে পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠা। তাই নতুন করে পা রেখেছেন অভিনয়জগতে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অতীত অভিজ্ঞতা তাঁকে সাহসী করে তুলেছে যে কোনো চরিত্র পর্দায় তুলে ধরার। এর সুবাদে ছোটপর্দায় ‘গোল্ডফিশ’, ‘তুমি আমার’, ‘গল্পটা থেকে যায়’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘জ্বীন ও পরীর সংসার’, ‘ছায়াসঙ্গী’, ‘এই শহরে’, ‘আগলে রেখো আমায়’, ‘কাছের কেউ’, ‘গন্তব্যের খোঁজে’, ‘ঈরার পদ্ম’, ‘বইপোকা’, ‘জলকৌড়ি’সহ আরও বেশ কিছু নাটকে তাঁর অনিন্দ্য অভিনয় দেখার সুযোগ হয়েছে দর্শকের। ওটিটি দুনিয়াতে পা রেখেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাদনিমা। ‘লিটল মিস ক্যাওস’-এ অভিনয় করে সাড়া ফেলেছেন দর্শকের মধ্যে। সেই সুবাদে প্রস্তাব এসেছে বড়পর্দায় অভিনয়ের। ‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়াম আহমেদের সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে এসেছেন আলোচনায়। এভাবেই অভিনয় দুনিয়ার প্রতিটি মাধ্যমে ভিন্ন চরিত্র তুলে ধরছেন সাদমিনা। অভিনয় দিয়ে কুড়িয়ে নিচ্ছেন দর্শকের ভালোবাসা। তার পরও অভিনয়ের ক্ষুধা এতটুকু কমেনি এই তরুণ তারকার। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি। সাদনিমা বলেন, ‘শেখার কোনো শেষ নেই। তাই প্রতিটি কাজ থেকে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। কোনো চরিত্র চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও আমি পিছিয়ে যাই না। আমি মনে করি, নিজেকে ভাঙতে পারলেই একজন শিল্পী পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা যায়। এ জন্য জনপ্রিয়তা উপভোগ করলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগি না। কারণ আমাকে পেরুতে হবে আরও অনেক পথ।’
- বিষয় :
- বিনোদন
