চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর
কেমিক্যাল গোডাউন দ্রুত সরান
জি কিষান রেড্ডি
--
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৩
চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলেও পুরান ঢাকার দৃশ্যপট না বদলানোর যে প্রতিবেদন বুধবারের সমকালে প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। আমাদের মনে আছে, সেদিন ভবনগুলোতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক ও পারফিউমের দোকান-গুদাম থাকায় মুহূর্তেই গোটা এলাকা পরিণত হয় অগ্নিকুণ্ডে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তৎক্ষণাৎ প্রাণ হারান ৬৭ জন। অথচ পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরানোর উদ্যোগ প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে। এমনকি এখনও চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টিও সমকালের আরেকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুধু তা-ই নয়, এ ট্র্যাজেডির শিকার কোনো পরিবারই ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, অনুদানও পায়নি। এক বছর পরের এই পরিস্থিতি প্রশ্নবোধক। আমরা জানি, এ ঘটনার আগে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২৪ জন মারা যান। নিমতলী ট্র্যাজেডিকে 'ওয়েকআপ কল' হিসেবে নিতে যখন প্রশাসন ব্যর্থ হলো, তখনি চুড়িহাট্টায় তার বেদনাদায়ক পুনরাবৃত্তি ঘটল। আমাদের মনে আছে, নিমতলীর ঘটনার পর কেমিক্যাল গোডাউনের বিরুদ্ধে কিছুদিন দৌড়ঝাঁপ হওয়ার পর তা আবার থেমে যায়। আমরা দেখেছি, চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর কারণ অনুসন্ধানে সে সময় গঠিত একাধিক সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি জরুরি সুপারিশ করে। এর মধ্যে দাহ্য পদার্থের গোডাউন সরানো, পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় মানুষ ও যান চলাচলে অযোগ্য হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে অন্যত্র সরিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণে পদক্ষেপ নেওয়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি-টেলিফোন লাইনের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। কিন্তু এসবের প্রায় কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি! এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে পুরান ঢাকার ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হবে না। আমরা চাই, সর্বাগ্রে কেমিক্যাল গোডাউন সরানো হোক।
আবাসিক এলাকায় আইনত বিপজ্জনক কেমিক্যালের কারবার নিষিদ্ধ হলেও পুরান ঢাকার অলিগলির কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে কেমিক্যাল গোডাউন। বাড়ির মালিকরা সেখানে অধিক টাকার আশায় বছরের পর বছর এসব ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। চুড়িহাট্টার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী সব কেমিক্যাল কারখানা দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন। তারই আলোকে একত্রে সব ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে জমি অধিগ্রহণ চলছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে টঙ্গী ও শ্যামপুরে শতাধিক গোডাউন স্থানান্তর হবে বলে আমরা জেনেছি। আমরা চাই, সরকার এই কার্যক্রম অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করুক। প্রয়োজনে পুরান ঢাকায় যারা এসব ব্যবসা অবৈধভাবে পরিচালনা করছেন এবং যারা ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতাও জরুরি। এর পাশাপাশি পুরান ঢাকার অপরিকল্পিত স্থাপনা ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ পরিকল্পিত নগরায়ণের ব্যাপারেও দীর্ঘমেয়াদে পদক্ষেপ নিতে হবে।
- বিষয় :
- চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি
