ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সুরমায় অবৈধ বাণিজ্য

নদীর উপর খাঁড়ার ঘা

নদীর উপর খাঁড়ার ঘা
×

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং- সংগৃহীত

--

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫৪

শীতে নদীর বুকে মাটি কাটা ও বর্ষায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন উভয়ই কেবল নদীর জন্য নয়, নদীতীরবর্তী মানুষের জন্যও হুমকির। তারপরও দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন কিংবা মাটি কাটা চললেও দেখার যেন কেউ নেই। শনিবার সমকালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটে 'সুরমার বুক কেটে বাণিজ্য' চলছে। সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কয়েকটি স্থানে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি উত্তোলন হচ্ছে। আমরা বিস্মিত, প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি কিংবা ইজারার তোয়াক্কা না করেই প্রভাবশালীরা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন অন্যায় কাজ করছে। বিভাগীয় এ শহরের প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রত্যেকেই এ ঘটনায় নীরব কেন?

অথচ আলোচ্য প্রতিবেদনেই এসেছে, এ বছর ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে যে সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয় স্থানীয় প্রশাসন, সেই সুরমার ভাঙন রোধে গত বছরের বরাদ্দ ছিল ১৩৪ কোটি টাকা! এভাবে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর ভাঙন যে রোধ করা সম্ভব নয়, তা সংশ্নিষ্টদের না জানার কথা নয়। এটা সত্য যে, যারা বালু উত্তোলন কিংবা অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের অধিকাংশই প্রভাবশালী। তাই বলে তারা কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে নন। এর সঙ্গে পরিবেশ ও গাছপালার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে মাটিবাহী ট্রাকের শব্দও নদীপাড়ের মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আবার বর্ষায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলেও নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে অনেক বড় বড় স্থাপনা, এমনকি সড়ক-মহাসড়কও হুমকির মুখে পড়ে। এর কারণে নদীর মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। এঠা ঠিক যে, বালু উত্তোলনের জন্য অনেক জায়গায় সরকার বালুমহাল ইজারা দেয়। ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও সেসব অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না। যেমন ইজারা নেওয়া হয়েছে, যতটুকুর জন্য, তার সীমানা মানা হচ্ছে না। যথাযথ ব্যক্তি না পেয়ে ইজারা পাচ্ছেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা।

ফলে তারা বালুমহাল আইন ও বিধিমালা অধিকাংশ সময়ই মানেন না। যেমন বালু তোলার সময় নদীর ঢাল বা তলদেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনা করে সুষমভাবে বালু তুলতে হবে; মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও আবাস যাতে নষ্ট না হয়, জীববৈচিত্র্য যাতে হুমকিতে না পড়ে, সেসব বিবেচনার কথা বলা হলেও কার্যত তা মানা হয় না বললেই চলে। এমনিতেই দখল, দূষণ ও অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডে আমাদের নদীগুলো মৃতপ্রায়। তার ওপর নদীর মাটি কাটা কিংবা বালু উত্তোলন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুরমাসহ সব নদীতীরে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে আত্মঘাতী বালু উত্তোলনও।

আরও পড়ুন

×