ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে জমি অধিগ্রহণ

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামান

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামান
×

--

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫৫

অনেক ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণের নামে সৃষ্টি হয় মরণফাঁদ- এমন দৃষ্টান্ত আছে। সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য থাকে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয় তারা যাতে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন। কিন্তু এই অভিযোগ পুরোনো যে, জমি অধিগ্রহণ কিংবা ক্ষতিপূরণ প্রদানের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট অসাধু দায়িত্বশীলদের অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনে। শনিবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ফের এরই প্রতিফলন দেখা গেছে। বলা হয়েছে, ১৫ শতাংশ ঘুষ ছাড়া কাজই হয় না। কক্সবাজারে রেললাইন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেরিন ড্রাইভ, এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দরের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বিপুল অঙ্কের বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্প ঘিরে কক্সবাজারে দুর্নীতিবাজরা সিন্ডিকেট গড়ে যেভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে, আমাদের তা বিস্মিত না করে পারে না। জমি অধিগ্রহণের নামে সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

আমরা জানি, ঘুষের ৯৩ লাখ টাকাসহ ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে সংশ্নিষ্ট সার্ভেয়ার ওয়াসিম খানকে র‌্যাব সম্প্রতি আটক করে। তার সহযোগী আরও ক'জন এখনও পলাতক। জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে ভয়াবহ নৈরাজ্য কক্সবাজারে চলছে তা সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও চ্যালেঞ্জ বলে আমরা মনে করি। অভিযোগ আছে, এই সিন্ডিকেটের হাতিয়ে নেওয়া টাকার অংশ যাচ্ছে ওপরের স্তরেও। শুধু সংশ্নিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নয়, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন দালালও। কক্সবাজারে অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্র মিলে যে অপতৎপরতা চালাচ্ছে, এর নিরসন ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়ে যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করতেই হবে। দুর্নীতিবাজদের অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষের ক্ষতি ও বিড়ম্বনা দুই-ই বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকায় যাদের থাবা পড়েছে তারা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×