ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ

নির্বাচন কমিশনের নির্বিচার 'উদারতা'

নির্বাচন কমিশনের নির্বিচার 'উদারতা'
×

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সেগারান-ইউএনবি

--

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২০ | ১২:৫৫

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন ও হালনাগাদের প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করি না। কেবল ইংরেজি ভাষ্যে প্রণীত এই আদেশের বাংলা ভাষ্যও নিশ্চয় স্বাগত। মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেওয়া একটি দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত আইন শুধু ইংরেজি ভাষ্যে থাকবে কেন? বস্তুত গত ৪৭ বছরে অন্তত ১৭ বার এই আইন হালনাগাদ বা সংশোধন হয়েছে। আমরা এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেও একাধিকবার কিছু ধারা ও উপধারা সংশোধনের তাগিদ দিয়েছি। সদ্য স্বাধীন দেশের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তায় জারি করা রাষ্ট্রপতির 'অধ্যাদেশ' পরবর্তী সময়ে আইন হিসেবে আত্তীকৃত হলেও এর শিরোনামে কেন 'আইন' নেই, বরং 'আদেশ'- সেই প্রশ্নও আমরা তুলেছি।

কিন্তু এই দুটি বিষয়সহ আরও কিছু সংশোধনী সংবলিত যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা যথেষ্ট প্রশ্নবোধক। বুধবার সমকালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি আমাদের যেমন হতাশ, তেমনই উদ্বিগ্ন করেছে। বিশেষত প্রস্তাবিত সংশোধনীতে যেভাবে ঋণ ও বিলখেলাপিদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত হালনাগাদ করার সুযোগ রাখা হয়েছে, তা নির্বাচনী অব্যবস্থাপনাকেই বরং উস্কে দেবে। আমাদের মনে আছে, বহুল প্রশংসিত শামসুল হুদা কমিশন তাদের পক্ষে দেওয়া সংশোধনীতে নির্বাচনের তিন মাস আগে ঋণ ও বিল হালনাগাদের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মুখে পরে তা সাত দিন করা হয়। যদিও ঋণ ও বিলখেলাপি প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাত দিন যথেষ্ট কিনা- সেই প্রশ্ন রয়েই গিয়েছিল। এখন সেই অপ্রতুল সময়ও খোদ নির্বাচন কমিশন আরও কমিয়ে আনতে চাইছে- এটা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্যই মনে হয়। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে যথার্থই বলেছেন যে, এতে লুটেরাদের প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে এবং প্রকৃত রাজনীতিকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে হারিয়ে যাবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকেই প্রশ্ন করতে চাই, যেচে নিজেদের এখতিয়ার সংকুচিত করার এমন প্রস্তাবের অর্থ কী?

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচন কমিশন যেখানে নিজেদের ক্ষমতা দৃঢ় ও বিস্তৃত করতে চেয়েছে, সেখানে বর্তমান কমিশনের এমন 'উদারতা' সত্যিই কৌতূহলোদ্দীপক। আমরা মনে করি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে ইতোমধ্যে নাগরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, এতে তা আরও গাঢ় হবে। বড় কথা, ভবিষ্যতের নির্বাচন কমিশনগুলোর জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে আরও কঠিন। আলোচ্য প্রস্তাবে ভোটকক্ষে প্রার্থীদের প্রতিনিধি বা নির্বাচনী এজেন্টদের হাজিরা লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাবসহ আরও কিছু ইতিবাচক দিক নিশ্চয় রয়েছে। কিন্তু তার বদলে যদি বিল ও ঋণখেলাপিদের অবারিত সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তো সকলই গরল ভেল! মন্দের ভালো যে, প্রস্তাবটি প্রথমে মন্ত্রিসভায় এবং পরে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে। আমরা দেখতে চাইব, সেখানে অন্তত খেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার সংশোধনী প্রস্তাব রহিত হবে। মনে রাখতে হবে- একটি দুর্বল নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থখেলাপিদের প্রবল উপস্থিতি কারও জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না।

আরও পড়ুন

×