ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
মুক্তির প্রেরণা
বাঙালি জাতির ইতিহাসে ৭ মার্চ অল্ফম্নান। এবার মুজিব শতবর্ষে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আমরা জানি, ওই দিনটির পর বাঙালি জাতির মনোজগতে আমূল পরিবর্তন আসে। নবপ্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয় গোটা জা
--
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২০ | ১২:৫২
বাঙালি জাতির ইতিহাসে ৭ মার্চ অল্ফম্নান। এবার মুজিব শতবর্ষে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আমরা জানি, ওই দিনটির পর বাঙালি জাতির মনোজগতে আমূল পরিবর্তন আসে। নবপ্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয় গোটা জাতি। সাহসী ও প্রত্যয়দীপ্ত জাতি সেইদিনের রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির স্বপ্নের বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণকে ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতি বিশ্বের বুকে আমাদের আরও করেছে গৌরবান্বিত। আমরা মনে করি, শুধু বাঙালি জাতির জন্যই নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে ইতিহাসের অমর কাব্যখ্যাত ওই ভাষণ। ভাষণটি অবশ্যই বাঙালি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-সাধনার স্বাধীনতা ও মুক্তির সুস্পষ্ট উচ্চারণ। মূলত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা পেয়ে যায়। এরপরই দেশের মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত 'সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না' এই বাক্যটি আজও আমাদের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক।
আজ নানা সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য-অগ্রগতির ক্ষেত্রে তা শক্তিসঞ্চারকও বটে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হওয়ার ডাক দেওয়ার পরও পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলেন। নিঃসন্দেহে তা তাঁর বিচক্ষণতা-দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিকে নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। বস্তুত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, এর ব্যাপক ও রক্তক্ষয়ী পটভূমি রয়েছে। ইতিহাস এর সাক্ষ্যবহ। ওই ভাষণের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা বিধ্বস্ত হয় ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সব ন্যায়নীতি লঙ্ঘন করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণ শুরুর মধ্য দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ নয় মাস নিরন্তর মুক্তির এ লড়াইয়ে ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে বিজয়ী হয় জাতি। তাই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও অম্লান। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি শহীদদের।
একই সঙ্গে এও বলতে চাই, এই দিনটির তাৎপর্য ও শিক্ষা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে। অনস্বীকার্য যে, ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে রয়েছে রাজনীতির বহু শিক্ষার উপাদান। আমাদের গৌরবময় অতীত হোক বর্তমান-ভবিষ্যতের পাথেয়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তির যে অমিয় বাণী সেদিন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, তা আমাদের রাজনীতিতে অনুসরণীয় হয়ে থাকুক। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা মিলেছিল ১৯৭১-এর ৭ মার্চে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধও ৭ মার্চের শিক্ষা।
- বিষয় :
- ৭ মার্চ
