ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

চাই সুশৃঙ্খল প্রচার, সুষ্ঠু নির্বাচন

চাই সুশৃঙ্খল প্রচার, সুষ্ঠু নির্বাচন
×

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম -সমকাল

--

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০ | ১২:১৫

চট্টগ্রাম নগর পরিষদ বা সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সোমবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পরপরই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা যেভাবে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন, তা উৎসাহব্যঞ্জক। এর মধ্য দিয়ে সিটি নির্বাচন 'মাঠে গড়িয়েছে' আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, আমরা তা স্বাগত জানাই। আমরা প্রত্যাশা করি, এমন সৌজন্য সব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যেই অব্যাহত থাকবে। বস্তুত সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, প্রতিহিংসা কাম্য হতে পারে না। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই প্রতিপক্ষের মধ্যে রেষারেষি থেকে রক্তারক্তি পর্যন্ত ঘটে থাকে। বিশেষত মেয়র প্রার্থীদের প্রতি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ বেশি থাকায় কাউন্সিলরদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেশি ঘটে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা যে চিত্র দেখেছি, তার পুনরাবৃত্তি চট্টগ্রামে দেখতে চাই না। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিতে হবে নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া আছে। তারা সেটা কতটা প্রয়োগ করতে পারে, আমরা নজর রাখব। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের প্রচারের ক্ষেত্রেও আমরা পরিমিত ও শৃঙ্খলা দেখতে চাই। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় প্রদত্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ইতোমধ্যেই প্লাস্টিক মোড়ানো পোস্টারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, সব প্রার্থী তা মেনে চলবেন। নির্বাচনের পর পোস্টার অপসারণে ঢাকায় যে গড়িমসি দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে তা এড়াতে কী করা যেতে পারে, নির্বাচন কমিশনকে এখন থেকেই ভাবতে বলি আমরা। প্রায় সব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী চট্টগ্রামের পরিবেশ উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তারা কতটা আন্তরিক, নির্বাচনী প্রচার দূষণমুক্ত রাখা এবং নির্বাচনের পরে নিজেদের বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়েই তারা এসব প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে পারেন। এখন থেকেই ভাবতে হবে ভোট গ্রহণের দিনের পরিবেশ নিয়েও। কারণ ভোট গ্রহণই যদি সুষ্ঠু না হয়, তাহলে সুশৃঙ্খল প্রচারে লাভ কী? ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও এবার সব ভোটকেন্দ্রে বৈদ্যুতিন ভোট গ্রহণ যন্ত্র বা ইভিএম ব্যবহূত হবে। ঢাকায় ভোটকেন্দ্রের 'পরিবেশ' সুষ্ঠু থাকলেও ইভিএম বুথে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এবার যাতে এমন অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়ানোর দায়িত্ব সবার। হুমকি, গুজব ও বিশৃঙ্খলামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন ছাড়াও সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে ইতিবাচক অবস্থান। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বই যে সবচেয়ে বেশি, ভুলে যাওয়া চলবে না।

আরও পড়ুন

×