করোনাভাইরাস
এই মুহূর্তে আরও যা করণীয়
×
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০ | ১২:৫১
করোনা ভাইরাস আর 'দূরের বাদ্য' নয়। রোববার প্রথমবারের মতো তিনজন আক্রান্ত হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার পর পরিস্থিতিরও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা দেখছি, করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই জনসমাগমমূলক সব ধরনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতির পর অনুষ্ঠিতব্য মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও স্থগিত করে সীমিত পরিসরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথিদেরও পরিস্থিতি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দ্ব্যর্থহীনভাবে। আমরা মনে করি, এখন নীতিগত ও কারিগরিভাবে আরও কিছু জরুরি করণীয় রয়েছে। নাগরিক সচেতনতা ও সতর্কতার পাশাপাশি সরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রথমত, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন করা সব যাত্রীরই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতদিন এ ব্যাপারে গড়িমসির অভিযোগ এসেছে। বস্তুত বিমানবন্দরে যদি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা যেত, তাহলে হয়তো পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হওয়া তিন করোনা আক্রান্ত নাগরিক বিনা বাধায় দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারত না। অবশ্য প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরে যে পরীক্ষায় কড়াকড়ি বেড়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে আরও কাউকে কাউকে সংগনিরোধ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। এ ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার পূর্ণ প্রস্তুত রাখার বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যবশত বুধবারই সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগেই দুটি থার্মাল স্ক্যানার বিকল ছিল। তৃতীয়টিও সোমবার রাতে যাত্রীর 'চাপ' সইতে না পেরে বিকল হয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, সবগুলো স্ক্যানার কেবল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সচলই হয়নি, সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আর একজন করোনা আক্রান্ত মানুষও যেন বিনা পরীক্ষায় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতেও নিতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা। সেখানে থার্মাল স্ক্যানার নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরসন করতে হবে। নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রস্তুতিও নতুন করে পর্যালোচনা দরকার। মনে রাখতে হবে, দেশে প্রবেশপথগুলো যদি আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি, তাহলে করোনার ঝুঁকি বহুলাংশে কমবে।
বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে 'সংগনিরোধ' থাকার যে আহ্বান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করি সবাই তা মেনে চলবে। পাশাপাশি চীন বা ইতালিসহ করোনাভাইরাসে বেশি সংক্রমিত দেশগুলো থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন বিভাগেরও সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। সেখানকার ডাটাবেজে নিশ্চয়ই এসব তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে কিনা, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা জানি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের 'অপেক্ষা' করার কথা বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, দুই সপ্তাহের জন্য বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করাই শ্রেয়। প্রশ্নটি কেবল ঝুঁকির নয়, অভিভাবকদের আতঙ্কও আমলে নিতে হবে। বিশ্বে ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি দেশে বিদ্যালয়ের পাঠ্য কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও একই পথ অনুসরণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কিছু অভিজাত বিদ্যালয় বাদ দিলে আমাদের দেশের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। কোনো কারণে সেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তা দ্রুত ঘরে ঘরে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি হতে পারে উপযুক্ত বিকল্প।
কারাগারগুলোর ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সেখানে যেভাবে গাদাগাদি করে বন্দি ও হাজতিরা থাকে, সেই পরিবেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমনিতেই কারান্তরের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। সেখানকার অনেক অব্যবস্থাপনাই চার দেয়ালের ভেতরে গুমরে কেঁদে ফেরে। বিপর্যয় এড়ানোর স্বার্থে হলেও কারাগারে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করতে হবে। ইতোমধ্যে কারা সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে এ ব্যাপারে যেসব নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা।
তৃতীয়ত, হাসপাতালের পরিস্থিতিও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য বিভাগকে বাড়তি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ সময়োচিত বলে আমরা মনে করি। মাস্ক বা জীবাণুনাশকের মতো স্বাস্থ্যসামগ্রীর দাম নির্ধারণ করাও যথার্থ। গত দুই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর অসাধু ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়েছে আশা করা যায়। এখন এর সঙ্গে যোগ করতে হবে সতর্কতা, সচেতনতা ও সদা-সক্রিয়তা।
সন্দেহ নেই, করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্বে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে এর অভিঘাত এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। কিন্তু তাতে করে আতঙ্কের যে কিছু নেই, এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা একাধিকবার বলেছি। সবদিক থেকে সবাই সতর্ক ও সচেতন হলে এই দুর্যোগ নিশ্চয়ই পার করা যাবে।
প্রথমত, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন করা সব যাত্রীরই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতদিন এ ব্যাপারে গড়িমসির অভিযোগ এসেছে। বস্তুত বিমানবন্দরে যদি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা যেত, তাহলে হয়তো পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হওয়া তিন করোনা আক্রান্ত নাগরিক বিনা বাধায় দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারত না। অবশ্য প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরে যে পরীক্ষায় কড়াকড়ি বেড়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে আরও কাউকে কাউকে সংগনিরোধ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। এ ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার পূর্ণ প্রস্তুত রাখার বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যবশত বুধবারই সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগেই দুটি থার্মাল স্ক্যানার বিকল ছিল। তৃতীয়টিও সোমবার রাতে যাত্রীর 'চাপ' সইতে না পেরে বিকল হয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, সবগুলো স্ক্যানার কেবল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সচলই হয়নি, সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আর একজন করোনা আক্রান্ত মানুষও যেন বিনা পরীক্ষায় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতেও নিতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা। সেখানে থার্মাল স্ক্যানার নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরসন করতে হবে। নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রস্তুতিও নতুন করে পর্যালোচনা দরকার। মনে রাখতে হবে, দেশে প্রবেশপথগুলো যদি আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি, তাহলে করোনার ঝুঁকি বহুলাংশে কমবে।
বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে 'সংগনিরোধ' থাকার যে আহ্বান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করি সবাই তা মেনে চলবে। পাশাপাশি চীন বা ইতালিসহ করোনাভাইরাসে বেশি সংক্রমিত দেশগুলো থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন বিভাগেরও সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। সেখানকার ডাটাবেজে নিশ্চয়ই এসব তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে কিনা, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা জানি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের 'অপেক্ষা' করার কথা বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, দুই সপ্তাহের জন্য বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করাই শ্রেয়। প্রশ্নটি কেবল ঝুঁকির নয়, অভিভাবকদের আতঙ্কও আমলে নিতে হবে। বিশ্বে ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি দেশে বিদ্যালয়ের পাঠ্য কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও একই পথ অনুসরণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কিছু অভিজাত বিদ্যালয় বাদ দিলে আমাদের দেশের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। কোনো কারণে সেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তা দ্রুত ঘরে ঘরে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি হতে পারে উপযুক্ত বিকল্প।
কারাগারগুলোর ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সেখানে যেভাবে গাদাগাদি করে বন্দি ও হাজতিরা থাকে, সেই পরিবেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমনিতেই কারান্তরের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। সেখানকার অনেক অব্যবস্থাপনাই চার দেয়ালের ভেতরে গুমরে কেঁদে ফেরে। বিপর্যয় এড়ানোর স্বার্থে হলেও কারাগারে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করতে হবে। ইতোমধ্যে কারা সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে এ ব্যাপারে যেসব নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা।
তৃতীয়ত, হাসপাতালের পরিস্থিতিও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য বিভাগকে বাড়তি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ সময়োচিত বলে আমরা মনে করি। মাস্ক বা জীবাণুনাশকের মতো স্বাস্থ্যসামগ্রীর দাম নির্ধারণ করাও যথার্থ। গত দুই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর অসাধু ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়েছে আশা করা যায়। এখন এর সঙ্গে যোগ করতে হবে সতর্কতা, সচেতনতা ও সদা-সক্রিয়তা।
সন্দেহ নেই, করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্বে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে এর অভিঘাত এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। কিন্তু তাতে করে আতঙ্কের যে কিছু নেই, এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা একাধিকবার বলেছি। সবদিক থেকে সবাই সতর্ক ও সচেতন হলে এই দুর্যোগ নিশ্চয়ই পার করা যাবে।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
