ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজনীতি

ভোটের অধিকার ফেরানোর দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন

ভোটের অধিকার ফেরানোর দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন
×

তারেক রহমান

শায়রুল কবির খান

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:১৯ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রায়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর কার্যত দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান। পিতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরসৈনিক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রকল্পনা এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তারেক রহমানের রাজনীতি। এই বিন্যাস ধীরে ধীরে আরও শক্তিমান হয়ে উঠছে বিগত বছরগুলোয়। 

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা তারেক রহমান গত তিন যুগে দেশের রাজনীতির অন্যতম চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর সংগ্রাম, ত্যাগ, প্রজ্ঞার পাশাপাশি রাজনীতিতে নতুন নৈতিকতার সন্ধানও ভূমিকা রেখেছে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে তারেক রহমান যেভাবে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং জনগণের সামনে হাজির করছেন পরিবর্তনের চিন্তা; এর সূত্রটি গ্রন্থিত ছিল ২০২২ সালে। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে সে সময় তিনি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন ২৭ দফা। আর ২০২৩ সালের জুলাইতে তিনি অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ৩১ দফা ইশতেহার; তাঁর পক্ষে উপস্থাপন করেছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সর্বশেষ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে সোম ও মঙ্গলবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা দেখিয়েছেন। সাক্ষাৎকার দুটিতে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সংকট, এর থেকে উত্তরণের উপায়, নানা বিষয়ে যে বার্তা দিয়েছেন, সেটা রাজনীতিতে নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে। ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানোর মধ্য দিয়ে তরুণদের সামনেও দৃষ্টান্ত রেখেছেন।

২০২২ সালে যুগপৎ আন্দোলনের মাঠ তৈরিকালেই তারেক রহমানের অঙ্গীকার ছিল– ভবিষ্যতে তিনি জাতীয় সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেন। বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে তিনি ওই আন্দোলনের সঙ্গীদের স্মরণ করেছেন– ‘প্রায় ৬৪টি রাজনৈতিক দল বিগত স্বৈরাচারের সময় যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কমবেশি একসঙ্গে কাজ করার জন্য।’

দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন যাপন করেও দেশের জনপ্রিয়তম দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে উদাহরণ তারেক রহমান রেখেছেন, সেটার অগ্রপথিক দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা ও ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা ১৭ বছর ধরে নির্বাসনে থেকেও নিরবচ্ছিন্ন বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে হয়তো ব্রিটেনে আছি, কিন্তু মনমানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে আমি ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়েছি।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদার গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশই বিএনপির লক্ষ্য। বর্তমানে দেশের এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জাতীয় সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা তারেক রহমানের রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপি সব দেশের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করবে।

তারেক রহমান ইতোমধ্যে দুর্নীতি ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারাই প্রাধান্য পাবে, যাদের সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে; যারা স্ব-স্ব এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত। 

নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, দেশের আপামর জনগণ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়। অপেক্ষা তাঁর নিজেরও। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্বদেশে ফিরবেন, ভোটেও অংশ নেবেন।
বলা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নানাধর্মী রাজনৈতিক লিপ্সা সমাজের মধ্যে প্রচল হলেও তারেক রহমান গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফেরানোর দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন

বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নেও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উদার রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিবিসি বাংলার প্রশ্ন ছিল, আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন সে ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ বা সংবাদমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়গুলো যে আর হবে না– সেই নিশ্চয়তা কি আপনি দিতে পারেন? জবাবে তারেক রহমানের জবাব, ‘জি, ইয়েস পারি। একদম দিতে পারি। আপনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুলুন। আমি কারও নাম উল্লেখ করব না, কোনো পত্রিকার কথা উল্লেখ করব না। শুধু খুলে দেখুন, কীভাবে অনেক খবর ছাপা হয়েছিল। যার সত্যতা কিন্তু ছিল না, অপপ্রচার ছিল। কিন্তু অপপ্রচারটা সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

শায়রুল কবির খান: রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

আরও পড়ুন

×