ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

অনশনে কি নিবন্ধন মেলে?

অনশনে কি নিবন্ধন মেলে?
×

ইফতেখারুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:১২ | আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের রাজনীতি মঞ্চনাটকের মতো। হঠাৎ বিচিত্র সব ইস্যু এসে জনসাধারণের মনোযোগ কেড়ে নেয়। যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির গরম হাওয়ার মধ্যেই মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের দাবিতে অনশনের ইস্যু।  

আমজনতা পার্টির নিবন্ধনের দাবিতে গত ৪ নভেম্বর থেকে অনশনে থাকা সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত অনশন ভেঙেছেন; রোববার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের অনুরোধে। এর আগে টানা কয়েক দিন ধরে ছোট-বড় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতারা তারেকের অনশনস্থল, নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটকে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন। 

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে– তারেক রহমান চাইলে আদালতে আপিল করতে পারেন। তাদের ভাষ্য হলো, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কিছু নিয়ম আছে। তারেক রহমানের দলটি ওই শর্তগুলো পূরণ করতে পারেনি। ফলে দলের নিবন্ধন দেওয়া অসম্ভব।
লিখিত বিবৃতিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০খ (১) (ক) (ই) এর শর্তাবলি সঠিকভাবে পালন না করা; দুই-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তরের বাড়ি ভাড়ার রসিদ, চুক্তিপত্র বা মালিকানা দলিল সংযুক্ত না করা; দলের নামে রক্ষিত ব্যাংকের তথ্য দাখিল না করাসহ বেশ কয়েকটি কারণ দেখানো হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমান বলছেন ভিন্ন কথা। একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে কতিপয় নিয়ম রয়েছে, যেগুলো সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে দল নিবন্ধন লাভ করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, জনাব তারেকের দল শর্তগুলো পূরণ করতে পারেনি। ফলে নিবন্ধন দেওয়ার সুযোগ নেই।
তারেক রহমান কমিশনের এ দাবি চ্যালেঞ্জ করে আপিলে যেতে পারেন কিংবা শর্তগুলোর ভিত্তিতে সংশোধনও করতে পারেন। কিন্তু তিনি যে কাজটি করছেন, তাতে তাঁর কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে নিবন্ধন পাওয়া গেলে বাদ পড়া বাকিরাও নিশ্চয় অনশনেই বসবেন।
বস্তুত বাংলাদেশের রাজনীতি বড়ই অদ্ভুত। অসংখ্য দল, অথচ তিন-চারটির বাইরে জনগণ কোনো মার্কাই চেনে না। তারেক রহমান দলের নিবন্ধন পেতে যেভাবে অনশন করছেন, তা না করে বহু ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে পারতেন। তা ছাড়া রাজনীতি কেবল দলীয় নিবন্ধন পেলেই সব হয়ে যাবে– তাও নয়। তবে দল গঠনের ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঠিকঠাক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে এ রকম পদক্ষেপ নেওয়াটা দুঃখজনক। 

পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন, তারেক রহমান ফ্যাসিবাদী ক্ষমতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। সুতরাং তাঁর দলের নিবন্ধন দেওয়া যুক্তিযুক্ত। আসলে কি তাই?

কেবল জুলাইয়ের লড়াইয়ে শামিল থাকার কারণেই কি একজন ব্যক্তিকে দলের নিবন্ধন দিতে হবে? নাকি বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিয়মমাফিক নিবন্ধন দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত? আমাদের রাজনৈতিক চর্চার মধ্যেই এ ধরনের অনিয়ম ও অপ্রশাসনিক প্রবণতা রয়েছে। 
যাই হোক, তারেক রহমানের উচিত হবে শিগগির একটা আপিল করা এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর যুক্তিগুলো তুলে ধরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যেসব শর্ত সামনে এনে নির্বাচন কমিশন তাঁর দলকে নিবন্ধন দেয়নি, সেগুলো খণ্ডন করে লিখিত একটি বিবৃতি দেওয়া। আশা করি, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং আমজনতা পার্টি যথাযথ শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন পাবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। 

ইফতেখারুল ইসলাম: সহসম্পাদক, সমকাল 

আরও পড়ুন

×