ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্য

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনর্বিন্যাস আমাদের অঙ্গীকার

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনর্বিন্যাস আমাদের অঙ্গীকার
×

কিয়ার স্টারমার

কিয়ার স্টারমার

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৫ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত সপ্তাহে আমরা বাজেটে ব্রিটেনের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে বিলের ১৫০ পাউন্ড ছাড় দেওয়া, এনএইচএস (জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা) রক্ষা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের সীমা বাতিল করে শিশু দারিদ্র্যের ভয়াবহতা মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত যথাযথ। আমরা নিশ্চিত করেছি, করের মাধ্যমে যে অর্থ সংগ্রহ করেছি তা ন্যায্য, যেখানে সবাই অবদান রাখবে, তবে যাদের দায় সবচেয়ে বেশি, তাদের অবদানও অনুরূপ হতে হবে। আমাদের সিদ্ধান্তের ফলে বাজেট আরও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি বন্ডের দায় কমেছে। আমাদের সরকারি খাতের সেবা অব্যাহত রাখার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যখন সরকার প্রতি ১০ পাউন্ডের এক পাউন্ড ঋণের সুদে ব্যয় করে।

অর্থনীতির উন্নতির জন্য আমরা ইতোমধ্যে যে পদক্ষেপ নিয়েছি, তার ওপর ভিত্তি করে বাজেট তৈরি করা হয়েছে। যেমন রাস্তা, রেল এবং জ্বালানির মতো বিষয়ে অতিরিক্ত ১২০ বিলিয়ন পাউন্ড মূলধন বিনিয়োগ প্রদান; প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের নয়, বরং নির্মাণকারীদের সমর্থনে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা সংস্কার বাস্তবায়ন; হিথ্রো ও গ্যাটউইকের সম্প্রসারণকে সমর্থন এবং ইইউ, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা। একই সঙ্গে এগুলো আমাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

লেবার পার্টির সম্মেলনে আমি যেমন বলেছিলাম, সরকারের উদ্দেশ্য আমাদের অর্থনীতি, আমাদের সম্প্রদায় এবং আমাদের রাষ্ট্রের পুনর্বিন্যাস ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি করার মাধ্যমে আমরা পতন ঠেকিয়ে দেব এবং আমাদের দেশে আস্থা ফিরিয়ে আনব। আমরা বাম ও ডানপন্থিদের মধ্যে যারা কেবল অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব; এদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও পতনের দিকে নিয়ে যায়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ঋণের সুবিধা চালু করা অথবা কঠোর অর্থনীতি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া– এটাই পতনের রাজনীতি এবং আমি এটা মেনে নেব না।

সোমবারের ভাষণে আমি বৃহত্তর অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে বাজেট তুলে ধরছি, যার ভিত্তিতে এই সংসদ শেষে সরকারের মূল্যায়ন হবে। আমরা যে জাতীয় পুনর্বিন্যাসের অনুসন্ধান করছি, তা অর্জন করতে হলে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। যেমন– প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিতকরণ, তরুণদের বেকারত্ব মোকাবিলা এবং আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে আরও বেশি কিছু করতে হবে।

আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের মধ্যে থাকবে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ দূর করার ওপর নতুন করে জোর দেওয়া। প্রায়ই বামপন্থিরা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ছিলেন; কিন্তু নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রগতিশীল নীতিমালা নেই। তা কেবল সবচেয়ে দরিদ্রদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করে; অপ্রয়োজনীয়ভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে অথবা লেবার সরকারের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়। এ কারণেই আমি বাণিজ্য সচিব পিটার কাইলকে অনুরোধ করছি অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয়, লাল ফিতার  দৌরাত্ম্য মোকাবিলা করতে, যা আমাদের শিল্প কৌশলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। 

অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসেরও দাবি হলো, আমাদের কল্যাণ রাষ্ট্রের সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা পেয়েছি, যা শিশুদের খাবারের অভাবে এত দরিদ্র করে তুলেছিল যে, তরুণদের কাজ করার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছিল। আমাদের সেই ব্যর্থ টোরি ব্যবস্থার কোনো অংশই মেনে নেওয়া উচিত নয়। সে কারণেই আমরা তরুণদের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য আরও বেশি কিছু করব। কারণ যদি আপনাকে আপনার প্রাথমিক কর্মজীবনে উপেক্ষা করা হয়; যদি আপনাকে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা না দেওয়া হয়, অথবা যদি আপনাকে কেবল নিউরোডাইভারজেন্ট বা প্রতিবন্ধী বলে থামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটি আপনাকে কয়েক দশক ধরে কর্মহীনতা এবং নির্ভরতার চক্রে আটকে রাখতে পারে।

এতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়, যা আমাদের উৎপাদনশীলতার জন্য খারাপ। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সুযোগ কেড়ে নেয় এবং সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে। লেবার পার্টির যে কোনো সরকারই এটি উপেক্ষা করতে পারে না। এ কারণেই আমরা সাবেক স্বাস্থ্য সচিব অ্যালান মিলবার্নকে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত তরুণদের কাজ, প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার সুযোগ প্রদানের জন্য বাস্তবসম্মত সুপারিশ করার দায়িত্ব দিয়েছি, যাতে তারা সাফল্য অর্জনে সহযোগিতা পায় এবং পিছিয়ে না থাকে। 

কিয়ার স্টারমার: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী; দ্য গার্ডিয়ান থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×