ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্রিসমাস যে কারণে ‘বড়দিন’

ক্রিসমাস যে কারণে ‘বড়দিন’
×

ছবি- সংগৃহীত

কে এন দেয়া

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন হলো ২৫ ডিসেম্বর– ক্রিসমাস বা বড়দিন। মেরি ক্রিসমাস, ফেলিজ নাভিদাদ, জয়োয়ু নোয়েল, গড জুল– একেক দেশে মানুষের মুখে একেকভাবে প্রকাশ পায় ক্রিসমাসের আনন্দ। ইংরেজিতে যা ছিল ক্রিসমাস, তা বাংলায় কী করে হয়ে গেল বড়দিন?

মূলত যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন হিসেবে ক্রিসমাস পালন হয়। আদতে তাঁর জন্মদিন কবে এ সংক্রান্ত পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ৩৩৬ সাল থেকে ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মদিন হিসেবেই নথিভুক্ত করেন রোমানরা। তারপর থেকেই এই দিনে পালিত হয় ক্রিসমাস। ক্রমে বিভিন্ন দেশে ক্রিসমাসের প্রচলন শুরু হয়। 

বাংলাদেশ বা বলা ভালো এশিয়ার এ অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের প্রচলন হয় মূলত আঠারো ও উনিশ শতকে, ইউরোপীয়দের হাত ধরে। সে সময় থেকেই এখানে ক্রিসমাস উদযাপন শুরু হয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের বরাত দিয়ে বলা যায়, ‘মর্যাদার দিক থেকে এটি একটি বড়দিন।’ অর্থাৎ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনের মাহাত্ম্য বিবেচনা করেই দিনটিকে বলা হয় বড়দিন।

বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ যিশুকে অনুসরণ করেন, তাদের জন্য তিনি ধর্ম ও দর্শনের পথ বাতলে দিয়েছেন। এভাবেই তিনি অসংখ্য অনুসারীর কাছে শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে আছেন। এসব কারণেই তাঁর আগমনের দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। যুগ যুগ ধরে যিশুর আবির্ভাবের মুহূর্তটিকে সম্মান জানিয়ে বড়দিন পালিত হয়ে আসছে।  

এ ছাড়া আরও একটি ব্যাখ্যা হলো, ২৩ ডিসেম্বর থেকে দিন ক্রমশ বড় এবং রাত ছোট হতে শুরু করে। তবে ক্রিসমাস যেহেতু ২৩ তারিখে নয়, বরং ২৫ তারিখ, সেদিক থেকে ব্যাখ্যাটির খুব একটা শক্ত ভিত্তি পাওয়া যায় না। দিনটির দৈর্ঘ্য নয়, বরং খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বছরের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ বিবেচনায় তা হয়ে উঠেছে ‘বড়দিন’।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ঈদ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা যেমন ঘটা করে উদযাপন করা হয়, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে তেমনি বড় উৎসবের দিন বড়দিন। এ বছর বৃহস্পতিবার পড়েছে ক্রিসমাসের ছুটি, ফলে পরের দুই দিন অর্থাৎ শুক্র-শনিবার মিলিয়ে মোট তিন দিনের সরকারি ছুটি পাওয়ায় ক্রিসমাস বা বড়দিনের আনন্দ যেন বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। বড়দিন উপলক্ষে ঘর সাজানো, নতুন পোশাক কেনাকাটা, ভালোমন্দ রান্না, পরিবারের সবাই একত্র হওয়া– এ সবই হয়ে থাকে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে। খুব আয়োজন করে কেনাকাটা করেন পরিবারের সবার জন্য। এ ছাড়া ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এবং আলোকসজ্জাও তাদের উৎসবের অংশ। বড়দিনের বিশেষ খাবার হিসেবে সব বাড়িতেই থাকে কেক। 

বাংলাদেশে ব্যাপ্টিস্ট ও ক্যাথলিক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বড়দিন পালনে ছোটখাটো কিছু ভিন্নতা দেখা যায়। ক্রিসমাসের তিন দিন আগে থেকেই খ্রিষ্টের গুণগান বর্ণনায় গান (যাকে ক্যারল বা কীর্তন বলা হয়) গাওয়া হয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা সকাল সকাল গির্জায় উপস্থিত হন উপাসনায় অংশ নিতে। গির্জাগুলোতে এদিন থাকে বিশেষ অনুষ্ঠানও। ক্রিসমাসের পরেও ডিসেম্বর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত গির্জাগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি, কেক– অনেক দেশেই ক্রিসমাস পালনে এই উপাদানগুলো অপরিহার্য। তবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিসমাস উদযাপনে যোগ হয়েছে মজার মজার বিষয়। যেমন নরওয়েতে ক্রিসমাসের আগের রাতে সবাই ঝাড়ু লুকিয়ে রাখে, ইউক্রেনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয় মাকড়সার নকল জাল দিয়ে, গ্রিনল্যান্ডে তিমির চামড়া দিয়ে সারা হয় রাতের খাবার। তবে উদযাপনে যতই পার্থক্য থাকুক না কেন, সবার কাছে এই দিনটি বছরের সবচেয়ে খুশির দিন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন, সবচেয়ে ‘বড়’ দিন।

কে এন দেয়া: সিনিয়র সাব এডিটর, অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক সমকাল 

আরও পড়ুন

×