ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ওপর হামলা কিসের ইঙ্গিত 

ট্রাম্পের ওপর হামলা কিসের ইঙ্গিত 
×

ডোনাল্ড ট্রাম্প

জেমস পিয়াজা

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:১১ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১১

২৫ এপ্রিল ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক মুহূর্তটি কতটা বিপজ্জনক, তা স্পষ্ট করে তুলেছে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এই সহিংসতা কোনো না কোনোভাবে রাজনীতি দ্বারা প্ররোচিত অথবা কোনো রাজনৈতিক বার্তা প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়।

পোলারাইজেশন অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাবের গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি উদাহরণের কথা মনে পড়ে। যেমন– ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে সংঘটিত অভ্যুত্থান; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর একাধিক গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা; মিনেসোটার আইনপ্রণেতা মেলিসা হর্টম্যান ও জন হফম্যানের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, যাতে হর্টম্যান ও তার স্বামী নিহত হন; পল পেলোসিকে হত্যার চেষ্টা; এবং চার্লি কার্কের গুপ্তহত্যা। আমার নিজ রাজ্য পেনসিলভেনিয়ায় স্বয়ং গভর্নরের বাসভবনে গভর্নর জশ শ্যাপিরোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
দেশকে জর্জরিত করা রাজনৈতিক সহিংসতার এই আপাত মহামারীর চালিকাশক্তি কী? আমার নিজের গবেষণা এবং অন্যান্য গবেষকদের অনুসন্ধান মতে, বর্তমানে

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি সক্রিয় রয়েছে। মার্কিনরা দলীয় বিভাজনের ভিত্তিতে একে অপরের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে বিভক্ত। তারা একে অপরের প্রতি সন্দিগ্ধ ও বিদ্বেষী এবং এটি রাজনীতি ও জনজীবনের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে এমন একটি ‘শূন্য-ফলাফল’ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতিটি নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয় ‘করো অথবা মরো’ মুহূর্তে রূপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মেরুকরণের নৈতিক দিকটিই আমার কাছে বিশেষভাবে চোখে পড়ে। উভয় পক্ষই অপর দলের সদস্যদের কেবল রাজনীতি বিষয়ে ভিন্ন মতাবলম্বী হিসেবে দেখে না, বরং তাদেরকে অশুভ বা অনৈতিক হিসেবে গণ্য করে। এই মেরুকৃত পরিবেশ রাজনৈতিক সহিংসতাকে আরও স্বাভাবিক করে তুলেছে। এতে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জনরোষকেও প্রশমিত করেছে। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর স্বভাবগতভাবে অনেক বেশি বিভেদ সৃষ্টিকারী ও সহিংস হয়ে উঠেছে। এটি বিভক্তির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং রাজনৈতিক সহিংসতাকে আরও স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষত যখন রাজনীতিবিদরা তাদের প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য প্ররোচক বা অমানবিক ভাষা ব্যবহার করেন তখন এটি চরমপন্থাকে উৎসাহিত করে। শুধু তাই নয়, এমন আচরণ চরমপন্থীদেরকে তাদের প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে আঘাত করতেও উদ্বুদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ, তারা এমন শব্দ ব্যবহার করেন, যা তাদের প্রতিপক্ষকে অমানুষ বা অর্ধ-মানুষ হিসেবে চিত্রিত করে।

অপতথ্য রাজনৈতিক সহিংসতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিককালে যারা রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত হয়েছেন, তাদের অনেকেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং অন্যান্য ধরনের অপতথ্য দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে মনে হয়, যা প্রায়শই সামাজিকমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয়। সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রেক্ষাপটে অপতথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে মানুষ বিপলসংখ্যক অপতথ্যের সংস্পর্শে আসে, যা তাদের বিশ্বদৃষ্টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন অন্যান্য উৎস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এটি উগ্রপন্থাকে সহজতর করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সহিংসতা উস্কে দিতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চলমান আক্রমণও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে আমার মনে হয়। মার্কিন গণতন্ত্র এমন চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যা আধুনিক যুগে নজিরবিহীন। এটি মার্কিনদের মনে সরকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি মূল্যবোধের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, এই ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অভিজাতরা-যেমন রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক নেতা, সংবাদমাধ্যম ভাষ্যকার, অনলাইন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যা বলেন, তা নাগরিকদের মনোভাবের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক অভিজাতরা এমন বক্তব্য গ্রহণ করতে পারেন, যা এই ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় না। যদি এই বার্তাটি রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বস্তর থেকে আসে, তবে রাজনৈতিক সহিংসতা উৎসাহিত করে এমন জনমত হ্রাস করার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি কার্যকর হবে।

জেমস পিয়াজা: পেন স্টেটের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের লিবারেল আর্টস অধ্যাপক; দ্য কনভারসেশন থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×