ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

নতুন পাঠ্যবই, প্রশিক্ষণের অভাব

নতুন পাঠ্যবই, প্রশিক্ষণের অভাব
×

মো. খালিদ হোসেন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছর প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ছয়টি করে বিষয়ে নতুন পাঠ্যপুস্তক পড়ানো শুরু হয়েছে। এতে আগের পাঠের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছে। আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বিষয়। নতুন পাঠ্যপুস্তকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবমুখী শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের ফলে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে– শিক্ষাদানের নতুন পদ্ধতি, সঠিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, সহায়ক উপকরণের সঠিক ব্যবহার, জটিল ধারণার সহজীকরণ, পড়ুয়াদের মানসিকতার পরিবর্তন। এসব প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। আর সেখানেই রয়ে গেছে আমাদের দুর্বলতা। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। নতুন পাঠ্যবই যত উন্নত হোক, যদি শিক্ষকরা তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পাঠদানের সঠিক কৌশল সম্পর্কে ধারণা না পান, তাহলে সেই বইয়ের কার্যকারিতা অনেকাংশে নিষ্প্রভ হয়ে যায়।

মনে রাখা দরকার এখনও অনেক শিক্ষক পুরোনো পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। এতে নতুন বইয়ের কার্যক্রমভিত্তিক পাঠদান, দলগত কাজ বা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতি বাস্তবে প্রয়োগ কঠিন হচ্ছে। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে এ সমস্যা প্রকট। অথচ বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি ভাষা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

নতুন পাঠ্যবইয়ে কথোপকথন, শ্রবণ ও ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীরাও প্রত্যাশিতভাবে উপকৃত হচ্ছে না। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন পাঠ্যবইয়ের উদ্দেশ্য, পাঠপরিকল্পনা, আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি এবং নতুন মূল্যায়ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া উচিত। 

সরকার ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ নামে স্বল্পমেয়াদি অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা চাই টেকসই উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শিক্ষা। শিক্ষাকে বাদ দিয়ে কোনো মহাপরিকল্পনা কাজে আসবে না। শিক্ষা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। আমাদের যা কিছু আছে, তা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়প্রত্যয়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। 

আমাদের মতো দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজিতে দক্ষতা উন্নত করা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি সম্ভব।
শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রাখা বিশেষ প্রয়োজন। এতে ব্যাকরণ, উচ্চারণ, শব্দভান্ডার ও শ্রেণিকক্ষে ইংরেজি ব্যবহারের কৌশল অর্জন করতে শিক্ষকরা সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী হবেন। বিশেষ করে কমিউনিকেশন ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং-সিএলটি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষকরা বাস্তবভিত্তিক ইংরেজি শেখাতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি হাতে-কলমে ডেমো ক্লাস ও বাস্তব অনুশীলনের সুযোগ রাখা দরকার, যাতে শিক্ষকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পাঠদান করতে পারেন। 

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির। এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর সহায়ক হিসেবে আধুনিক বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষকরা সহজেই নিজেদের ভাষাগত দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। এতে শিক্ষকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে সক্ষম হবেন। শিক্ষকদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না; পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু রাখা দরকার। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকই পারেন নতুন পাঠ্যপুস্তকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে।

মো. খালিদ হোসেন: সহকারী 
শিক্ষক, দক্ষিণ তাজপুর সপ্রাবি, মিঠাপুকুর, রংপুর 
 

আরও পড়ুন

×