নগরজীবন
ইকোনমিস্টের সূচক ভাবতে বাধ্য করে ‘এ শহর আমার নয়’
ড. সেলিম জাহান
সেলিম জাহান
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:০১ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৮
দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকা ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের সূচক প্রকাশ করেছে। প্রতিবছর পত্রিকাটি এ সূচক প্রকাশ করে আসছে। এ বছর বিশ্বের মোট ১৭৩টি শহরের জন্য এ সূচকে আমার শহর ঢাকার স্থান ১৭১। ঢাকার নিচে রয়েছে ত্রিপোলি ও দামেস্ক। করাচি বা লাগোসের মতো শহরও ঢাকার ওপরে রয়েছে। সবকিছু দেখেশুনে মনে হয়, ‘এ কি আমার সেই চেনাজানা শহর, যে শহরকে আমি যৌবনে দেখেছি সত্তর বা আশির দশকে?’ আজ কেন যেন মনে হয়, ‘এ শহর আমার নয়’।
একটা সময় বড় সুন্দর ছিল ঢাকার জীবন– শান্ত, নন্দিত, সুখময়। সে শহরে বাস করাও ছিল পরম আনন্দের। অসুবিধা কি ছিল না তখন? অবশ্যই ছিল– ছোট-বড় নানান অন্তরায়, কিন্তু সেসব অসুবিধা তখন ঢাকা শহরকে বাসযোগ্যহীন করে তোলেনি। মনে হয়নি তখন, ‘না– এ শহরে আর থাকা যায় না।’
আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি ধারাবাহিক নাটক হতো; নাম ছিল ‘ঢাকায় থাকি’। আমরা শুধু নাটক বলেই সেটি দেখতাম; তা না। ‘ঢাকায় থাকি’ নামটির মধ্যেও একটি মহিমা লুকিয়ে ছিল।
আজ ঢাকা শহর অবাসযোগ্য, তা সবার জানা। সেটি শহরের দিকে চাইলেই বোঝা যায়। তার জন্য সংখ্যা, উপাত্ত বা সূচকের খুব বেশি দরকার নেই। ইকোনমিস্ট পত্রিকার সূচকের নানান রকমের দোষত্রুটি ধরা যায়; তার গঠন প্রণালির পদ্ধতিগত নানান সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা যায়। সে সূচকে ব্যবহৃত নানান উপাত্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। সেসব সত্ত্বেও বাস্তব সত্যটি রয়ে যায়– ক্রমান্বয়ে ঢাকায় বাস করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। এ শহরের বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।
চারদিকে চাইলেই এ শহরের অবাসযোগ্যতা পরিস্ফুট। বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীর আয়তন ১৬০০ বর্গকিলোমিটার এবং এর লোকসংখ্যা তিন কোটি ৬০ লাখ। অন্য কথায়, এ শহরের প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে ২২ হাজার লোকের বাস। অন্যান্য শর্ত পূরণ ছাড়া এত ঘন জনবসতিপূর্ণ শহরের বাসযোগ্যতা ভঙ্গুর হতে বাধ্য।
১৯৭১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ১৮ লাখ, যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালে ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল এক কোটি ৭৪ লাখ। ঢাকা তখন জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের নবম বৃহত্তম নগরী। ২০২৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৬৬ লাখে। জাকার্তার পরেই ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। জাতিসংঘের হিসাব মতে, আগামী ২৫ বছরে বিশ্বের দুটো নগরীর লোকসংখ্যা বছরে ৫ শতাংশ বাড়বে। তার একটি সাংহাই, অন্যটি ঢাকা। ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকার লোকসংখ্যা হবে পাঁচ কোটি ২১ লাখ, যা জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ১ নম্বর শহর।
প্রথমত, ভাবনাটি আমাকে ভয়ার্ত করে। এমন হারে চলতে থাকলে ঢাকা শহরে তো মানুষ গায়ে গায়ে লেগে যাবে; দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যাবে না। ৫৫ বছর আগে ১৮ লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকা ছিল নিতান্তই একটি প্রাদেশিক রাজধানী। তার আয়তন, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, সবই ছিল একটি প্রাদেশিক রাজধানীর মতো। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ঢাকা একটি দেশের রাজধানীতে উন্নীত। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয়, আন্তর্জাতিকসহ বিভিন্ন দিক থেকে ঢাকার গুরুত্ব বেড়ে যায় এবং ঢাকা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। স্বাভাবিকভাবেই দেশের রাজধানীতে লোকসংখ্যা বাড়তে থাকে রাজধানীর সম্প্রসারিত প্রয়োজনে। আর সে প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক আসতে থাকে বর্ধিতভাবে। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের কারণেও ঢাকায় লোক আসতে থাকে দলে দলে।
দ্বিতীয়ত, বাসযোগ্যতার জন্য যেসব সামাজিক সেবার পর্যাপ্ত লভ্যতা থাকা দরকার, তা আমাদের মহানগরীতে নেই। সেই সঙ্গে অর্থ প্রলুব্ধতার কারণে আমরা গাছ কেটে, খেলার মাঠ ছেঁটে, জলাশয় ভরাট করে আবাসন গৃহ থেকে শুরু করে বিপণি কেন্দ্রসহ নানা রকম ভৌত অবকাঠামো গড়ে তুলেছি। ফলে এ শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় দুর্বল। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় শহরের নানান প্রান্তে। যথাযথ পয়োনিষ্কাশনের কাঠামো ঢাকা নগরীতে অনুপস্থিত। সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর জলে থইথই করে। কারণ জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই এখানে। তৃতীয়ত, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ সবার জানা। বায়ুদূষণে ঢাকা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ শহর। বায়ুদূষণের সঙ্গে সঙ্গে শব্দদূষণসহ অন্যান্য পরিবেশের স্খলন ঢাকা শহরের বাসোপযোগিতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
চতুর্থত, ঢাকা মূলত একটি কংক্রিটের শহর। ওপর থেকে বিমানে বসে নিচে তাকালেই এটা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। ফলে দুটো ব্যাপার ঘটে। (ক) জনস্বস্তির জন্য প্রয়োজনীয় সবুজের অনুপস্থিতি; সেই সঙ্গে খোলা জায়গার অনুপস্থিতি মানুষের যাপিত জীবনকে সুন্দর বাসযোগ্যতা থেকে বঞ্চিত করে। (খ) ব-দ্বীপ ভূমিখণ্ডে এত কংক্রিটের অবকাঠামো ভূমিকম্পপ্রবণ বাংলাদেশে মানুষের বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

পঞ্চমত, ঢাকা শহরে যানজট, চলাচলের নানান অন্তরায় ঢাকার জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা, সময়মতো জায়গায় পৌঁছুতে না পারা, জরুরি প্রয়োজন না মেটাতে পারা ঢাকা শহরের নাগরিক জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা। এতে একটি নগরীতে বসবাসের উপযোগিতা হ্রাস পায়।
ষষ্ঠত, এই মহানগরীতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিস্তার, সেই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে একটি বিরাট হুমকি। শেষ কথা হলো, একটি শহরের বাসযোগ্যতার অন্যতম উপকরণ হচ্ছে মানবিক বন্ধন, সামাজিক সৌহার্দ্য। ঢাকার জনজীবনে তা ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একসময় ঢাকায় বসবাসের যে মানবিক বাসযোগ্যতা ছিল তা আজ স্তিমিত।
বাংলাদেশের এমন অবস্থানের পেছনে নানান আর্থসামাজিক এ নীতিপ্রসূত কারণ আছে। প্রথমত, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে গ্রাম-শহরের প্রচরণও দায়ী। নদীভাঙন, বন্যা, পরিবেশ-নাজুক অঞ্চলের বঞ্চনার ফলে মানুষ ঢাকায় চলে আসে। নানান দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন। এসবের মধ্যে রয়েছে বন্যা ও প্লাবন, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ইত্যাদি। বিভিন্ন জনপদের দুস্থ, প্রান্তিক মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ঢাকামুখী হয়েছে। এ প্রক্রিয়া আমরা উত্তরবঙ্গের দুর্ভিক্ষ বা ‘মঙ্গা’র সময়েও দেখেছি। সেই সঙ্গে প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা হওয়াতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী হওয়ার একটি প্রবণতা রয়েছে। ঐতিহাসিক দিক থেকে ঢাকায় জনপ্রসরণ বেড়েছে দুটো প্রধান কারণে। তার একটি বিকর্ষণীয় শক্তি, অন্যটি আকর্ষণীয় শক্তি। বিকর্ষণীয় শক্তির মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি এবং কর্মনিয়োজনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক একটি স্থবিরতা। কয়েক দশক ধরে কৃষিতে যে গতিময়তা সৃষ্টির কথা ছিল, তা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নীতিমালায় ও সম্পদ বণ্টনে কৃষিতে যে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার ছিল, তা ঘটেনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় চলে আসা ভিন্ন কোনো বিকল্প ছিল না।
দ্বিতীয়ত, মানুষের অর্থ ও সম্পদ লোভ একটি শহরের বাসযোগ্যতাকে বিনষ্ট করে। ঢাকা শহরও এর ব্যত্যয় নয়।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে ভৌত অবকাঠামোর বিস্তার, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রয়োজনীয় নগর পরিকল্পনার অভাব ঢাকা নগরীর বাসযোগ্যতাকে বিপন্ন করে তুলেছে। ঢাকা নগরীতে কোনো নগর পরিকল্পনার ছাপ নেই। এ নগরী বেড়ে উঠেছে পরিকল্পনাহীন, অগোছালো পদ্ধতিতে। ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা সেখানে চোখে পড়ে না। আবাসন বেড়েছে খেয়ালখুশিতে। সেভাবেই অপরিকল্পিতভাবে বিস্তৃত হয়েছে রাস্তা ও সড়ক। ফুটপাত থেকেও নেই; পরিবহনে রয়েছে দুর্ভোগ। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের পরিষেবার গুণগত মান নিচু স্তরের। সবুজ ও জলময় পরিবেশের বড় আকাল। ঢাকা শহর বহুল পরিমাণে ঘিঞ্জি। নগরীতে বর্জ্য ছড়িয়ে থাকে। বছরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ আর ধুলা। শহরটা বড়ই মলিন। যানজটের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল ভোগান্তি। অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়; পথ-ঘাট তলিয়ে যায়।
এ শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো নয়। অনেকেই বলছেন, ঢাকা এখন বস্তির শহর হয়ে উঠেছে। বলা হয়ে থাকে, ঢাকা শহরে বস্তির সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এ শহরের কোনো কোনো বস্তি অত্যন্ত জনবহুল। কোনো কোনো বস্তিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষ বাস করে। এসব বস্তিতে বাল্যবিবাহ, শিশুর অপুষ্টি ও অপরাধ বেশি। শব্দ ও বায়ুদূষণে অস্থির ঢাকাবাসী। এ শহরের বড় বড় সড়কের ওপর বাজার-হাট বেশ জমিয়ে বসে। ঢাকা শহরের আকার বেড়েছে, কিন্তু সে আনুযায়ী মান বাড়েনি।
তৃতীয়ত, দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিকেন্দ্রীকরণের অনুপস্থিতির সব চাপ এসে ঢাকায় ঠেকে। সময়ের পথ ধরে বাংলাদেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে বটে, কিন্তু অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হয়নি। ফলে শিল্পায়নসহ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন সামাজিক অবকাঠামোর বিস্তার কেন্দ্রীভূত হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় বড় নগরীতে। এর ফলে দেশের জেলা ও উপজেলা শহরগুলো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেনি। সাধারণ মানুষ তাই কাজের খোঁজে ঢাকা শহরে চলে এসেছে এই বিশ্বাসে– এ নগরীতে কোনো না কোনো কাজ জুটে যাবে এবং এখানে না খেয়ে মরতে হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে ঢাকার অবদান ২০ শতাংশ। আনুষ্ঠানিক কর্মনিয়োজনের ৪০ শতাংশ ঢাকাতেই। সেই সঙ্গে যেহেতু রাজধানী ঢাকা ক্ষমতা এবং মানসম্পন্ন সামাজিক সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, সে কারণে প্রশাসনিক আমলারাও জেলা শহরে থাকতে চাননি। সবার লক্ষ্য ঢাকা। এসব কর্মকাণ্ড বিকেন্দ্রীকৃত হয়ে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়া উচিত। সেই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নতি, জননিরাপত্তা কাঠামোর শক্ত ভিত্তি ঢাকা শহরের জনজীবনকে উন্নত করতে পারে।
কোনো আধুনিক মহানগরীর বাসযোগ্যতার কতগুলো কাঙ্ক্ষিত নির্ণায়ক আছে: অর্থবহ জীবিকার সুযোগ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন জীবন, পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সেবা ও সুযোগ-সুবিধার লভ্যতা, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সুআবাসন এবং সুপরিবহনের আর্থিক সক্ষমতা, আকর্ষণীয় ও পর্যাপ্ত জনপরিসর, স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ, আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, জনঅংশগ্রহণের সুযোগ। এ সবকিছুর প্রতিফলন ঘটেছে ইকোনমিস্টের বাসযোগ্যতার সূচকে। সূচকের ছয়টি নির্ণায়কের মধ্যে সামাজিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, অবকাঠামো– এই চারটিতেই বাংলাদেশের মান অত্যন্ত নিচু। ঢাকা নগরীতে এগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই ঢাকা আমাদের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনবে না।
একটি শহরের বাসযোগ্যতার মান যেমন বাড়ানো সম্ভব, তেমনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে একটি শহরের বাসযোগ্যতার মান কমেও যেতে পারে। বাসযোগ্যতার সূচকের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লিসবন তার বাসযোগ্যতার মান ৬ ধাপ, নিউইয়র্ক ৪ ধাপ, টোকিও ৩ ধাপ বাড়াতে পেরেছে। অন্যদিকে মাসকাটের মান ১৪ ধাপ, কুয়েত সিটির মান ১২ ধাপ এবং আম্মানের বাসযোগ্যতার মান ১১ ধাপ কমেছে। সুতরাং একটি নগরীর বাসযোগ্যতার পরিবেশ উন্নত করা যায় এবং পরিবর্তন সম্ভব। যদিও ঢাকার বাসযোগ্যতার আজকের মান দেখে বড় দুঃখে বলি– ‘এ আমার শহর নয়’; কিন্তু পরিবর্তিত অবস্থায় আমরা বলতে পারব– ‘ঢাকা আমার প্রাণের শহর’।
ড. সেলিম জাহান: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- বিষয় :
- নগরায়ণ