ইসলাম ও সমাজ
মুখ ও লজ্জাস্থান হেফাজতের গুরুত্ব
মো. শাহজাহান কবীর
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে দিয়েছেন বিবেক, জ্ঞান ও কথা বলার শক্তি। মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মহান আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। মানুষের উচিত এই নেয়ামতগুলোকে মহান আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালনের কাজে ব্যবহার করা ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখা।
হাদিস শরিফে বর্ণিত, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্ম সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি বলেন, আল্লাহভীতি, সদাচার ও উত্তম চরিত্র। আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। (তিরমিজি)
অন্য হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তুর হেফাজত করবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো। (সহিহ বুখারি) এখানে দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু জিহ্বা ও মুখ। আর দুই ঊরুর মধ্যবর্তী বস্তু লজ্জাস্থান। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার মুখ ও লজ্জাস্থানের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তাঁর জান্নাতে যাওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুখ বা জিহ্বা ছোট অঙ্গ হলেও এর দ্বারা জান্নাত পাওয়া যায়; জাহান্নামও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা ক্বাফের-এর ১৮ আয়াতে এরশাদ করেন– মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।
সুরা আহজাবের ৭০ আয়াতে এরশাদ হয়েছে– তোমরা সত্য কথা বলো। সুরা হুজুরাতের ১২ আয়াতে এরশাদ হয়েছে– তোমরা একে অপরের গিবত করো না।
হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ইমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি) অপর হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, অধিকাংশ মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার কারণ হবে তাদের জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের কৃতকর্ম। (তিরমিজি)
গিবত, চোগলখোরি, মিথ্যা, গালি, অশ্লীল কথা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, মুনাফিকি কথা, ওয়াদা ভঙ্গের মতো গুনাহ ব্যক্তির আমল ধ্বংস করে দেয়। তাই মুখের হেফাজতের জন্য আমাদের দায়িত্ব হবে জিহ্বাকে সবসময় আল্লাহর জিকিরে ভিজিয়ে রাখা। কথা বলার আগে ভাবা, এটা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য? যেখানে গিবত হয় সেখান থেকে উঠে যাওয়া। কোনো বিষয় না জেনে ফতোয়া না দেওয়া কিংবা মন্তব্য না করা। লজ্জাস্থানের হেফাজত মেনে জিনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা ও হারাম সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকা। এটি ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
সুরা আন-নূরের ৩০-৩১ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, (হে নবী) মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্রতা। … আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। হাদিস শরিফে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে যুবক-যুবতী আল্লাহর ভয়ে জিনা থেকে বেঁচে থাকবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন। (সহিহ বুখারি)
লজ্জাস্থান হেফাজতের উপায় হলো দৃষ্টির হেফাজত করা। হারাম কিছু না দেখা। কারণ, চোখই হলো জিনার প্রথম ধাপ। তাই নারী-পুরুষ উভয়েরই দৃষ্টি সংযত রাখা কর্তব্য। সামর্থ্য থাকলে দ্রুত বিয়ে করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে। (সহিহ বুখারি)
ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
- বিষয় :
- ইসলাম প্রচার