পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন
উশ্যেপ্রু মারমা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২২ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ ভেবেছিল, জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। পাহাড়ের বেকার জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন বা কর্মসংস্থান দিয়ে তিন জেলার উন্নয়ন গতি পাবে।
কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ফলে সে আশা নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এত কম সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে দেখা যায়নি। তাঁকে পুনর্বহালের আন্দোলন হলেও তা কাজে আসেনি। এখনও তিন পার্বত্য জেলার তিন সংসদ সদস্য ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক অমীমাংসিত কাজ শেষ করার সুযোগ আছে। তাদের দায়িত্ব হলো ঐক্যবদ্ধভাবে পাহাড়ের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে এ জনপদকে মুক্ত রাখা।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো রহস্যময় কারণে এখনও বহাল থাকলেও গত দুবছরে হাজার টন চাল-গম বরাদ্দ এবং কিছু নিয়মিত টেন্ডার আদেশ ইস্যু ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। এমনকি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পরীক্ষা নিতে পারেনি। পরিষদকে জনগণের আশা-ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সমাজের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করতে পারছে না। ২০২৪-২৫ সালে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সময় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি।
বিপুল জনসমর্থন সত্ত্বেও কেন সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে? বিএনপি অকপটে স্বীকার করছে, এই সরকার ড. ইউনূসের এক্সটেনশন না। তাহলে কেন ড. ইউনূসের নিয়োগকৃত ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন?
সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সরকার গঠনের পর থেকে চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে উচ্চ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
যেহেতু চেয়ারম্যান পদে পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী আদিবাসী বা পাহাড়িকে নিয়োগ দিতে হবে, সে জন্য বিশেষ করে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়ে গেছে। সরকারকে খোলামেলা পরামর্শ দিতে তাদের কাউকে কোনো প্রকাশ্য সভা করতে দেখলাম না।
ধুমধাম করে ৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি হলেও বর্তমানে পাহাড়িরা মনে করে, এখানে কারও স্বার্থ রক্ষা হয়নি। বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরলই রয়ে গেছে বলা যায়। রাজনীতির মারপ্যাঁচে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিএনপি পাহাড়কে কীভাবে দেখতে চায়– স্পষ্ট করা জরুরি। সব জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাজির না করলে রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো এই জনপদও ভূ-রাজনৈতিক খেলায় পরিণত হবে। ইতোমধ্যে পার্বত্যমন্ত্রীর পদত্যাগের কারণে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দিয়ে পাহাড়কে অস্থির করার সুযোগ কেউ নিচ্ছে কিনা– সেটাও সরকারকে চিন্তা করতে হবে। তাই উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা আশা করব, তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছে আমার
৩টি দাবি:
১. দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিয়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধ করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো জনমুখী করে গড়ে তোলা।
২. সব চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিধিমালা অনুসরণ করে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং কোটা পদ্ধতি আগের মতোই জারি রাখা।
৩. একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করতে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে সরকার সাহসী ভূমিকা রাখুক।
উশ্যেপ্রু মারমা: রাজনীতিক
- বিষয় :
- দিবস আজ