ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলাম ও সমাজ

রবিউস সানির তাৎপর্য

রবিউস সানির তাৎপর্য
×

মো. শাহজাহান কবীর

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দু  -এক দিনের মধ্যেই আকাশে উদিত হবে রবিউস সানির চাঁদ। ইসলামী হিজরি সন ও আরবি বর্ষপঞ্জির চতুর্থ মাস ‘রবিউস সানি’। একে ‘রবিউল আখির’ও বলা হয়, যা ‘রবিউল আউয়াল’ মাসের জোড়া মাস। ‘রবি’ অর্থ বসন্ত; ‘আউয়াল’ অর্থ প্রথম। ‘সানি’ অর্থ দ্বিতীয়; ‘আখির’ অর্থ শেষ, অন্য বা ভিন্ন। ‘রবিউস সানি’ অর্থ হলো বসন্তকালের দ্বিতীয় মাস। মহানবী (সা.)-এর দুনিয়াতে আগমনের মাস, হিজরতের মাস ও তিরোধানের মাস রবিউল আউয়ালের জোড়া মাস হিসেবে রবিউস সানিও বেশ তাৎপর্যমণ্ডিত। ‘রবিউস সানি’ মাসের ১১ তারিখ বড় পীরখ্যাত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবসকে ‘ফাতিহা-ই

ইয়াজ-দাহম’ অর্থাৎ ১১ তারিখের ফাতিহা পাঠ অনুষ্ঠান বলা হয়। 
সময়ের প্রকৃতি মহান আল্লাহর দান। বিষয়, বস্তু, ব্যক্তি ও স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করে সময়কে বিশেষ পরিচয়ে বিশেষায়িত করা হয়। ব্যবহারিক সুবিধার্থে চন্দ্র-সূর্য ও গ্রহ-নক্ষত্র নানা প্রাকৃতিক, জাগতিক ও মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে সময়ের হিসাব বা ধারণা প্রকাশ করা হয়।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রাহমানের ৫ আয়াতে এরশাদ করেন– ‘সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমতো চলে।’
বিশেষ সময়ের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত আছে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে। সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবার, সোমবার ও বৃহস্পতিবার। বছরের বিশেষ রাতগুলোর মধ্যে রয়েছে শবেকদর, শবেবরাত, শবেমেরাজ, ঈদের রাত ইত্যাদি। 

ইসলামী শরিয়তে আরবি নতুন মাস ও সপ্তাহের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। যেমন সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা নবীজির সুন্নত। তাই এ মাসের প্রতিটি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা ইসলামের অনুমোদিত আমল এবং এর ফজিলতও রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা সুরা জিলজালের ৭-৮ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তাও সে দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কর্ম করলে তাও সে দেখতে পাবে।’ 
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) তিনটি আমল কখনও পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো তাহাজ্জুদ নামাজ, প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা পালন ও রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ। (সহিহ বুখারি)

আমল দ্বারা সময়কে ঋদ্ধ ও জীবনকে সমৃদ্ধ করা জ্ঞানীর কাজ।
রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে মূল্যায়ন করো– যৌবনকে বার্ধক্যের পূর্বে, সুস্থতাকে অসুস্থতার পূর্বে, সচ্ছলতাকে দারিদ্র্যের পূর্বে, অবসরকে ব্যস্ততার পূর্বে, জীবনকে মৃত্যুর পূর্বে।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি)

হাদিসে বর্ণিত, রাসুলে কারিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ।’ 
রবিউস সানিতে হিসাবের খাতা খুলুন। রবিউল আউয়ালে যে নিয়ত করেছিলেন, তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? নামাজ, কোরআন, লেনদেন, পিতামাতার খেদমত– কোথায় ঘাটতি? নবীজি (সা.) বলেন, বুদ্ধিমান সে, যে নিজের হিসাব নেয় (তিরমিজি)। এই মাসে সোম-বৃহস্পতিবার রোজা, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশতের নামাজ আদায়। সুন্নাহ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন। প্রতি রাতে সুরা মুলক, সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করতে পারেন।

সমাজসেবা ও দান-সদকা করা।  সামনে শীত আসছে। এ সময় গরিবদের শীতবস্ত্র, খাবার দেওয়ার প্রস্তুতি নিন। নবীজি (সা.) বলেন, সদকা বিপদ দূর করে দেয়। দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে এটি খুব জরুরি।
রবিউস সানির আগমন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন মানে শুধু উৎসব নয়, জীবন মানে পরিশ্রম। মুমিনের জন্য প্রতিটি মাসই ইবাদতের।
নবীজি (সা.) বলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, তা অল্প হলেও। (বুখারি)।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রবিউস সানিকে আত্মশুদ্ধি ও জাতি গঠনের মাস হিসেবে কবুল করুন।

ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল 
ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

আরও পড়ুন

×