ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকার: মাসুদ পেজেশকিয়ান

আমেরিকা চায় না প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ভালো থাকুক

আমেরিকা চায় না প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ভালো থাকুক
×

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইফতেখারুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২৫ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ সময় ইন্ডিয়া টুডে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। ইউটিউব চ্যানেল থেকে সাক্ষাৎকারটি অনুলিখন ও ভাষান্তর করেছেন সমকালের সহসম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম। 

ইন্ডিয়া টুডে: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। চলুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আপনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দিয়ে শুরু করা যাক। একটি হলো সেই আইকনিক ছবি; যেখানে এই নেতা আপনার হাত ধরে গ্যালারির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, ৪৫ মিনিটব্যাপী দীর্ঘ একটি আলোচনা। আমাদের বলুন প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী ঘটেছিল? আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু কী ছিল?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: আমি বলতে চাই, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত, আমাদের মধ্যকার সেই গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ইরান ও ভারত–এই দুই দেশ কয়েক হাজার বছর ধরে এক দীর্ঘ ইতিহাস উদযাপন করে আসছে। এটি এমন কিছু নয়, যা সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। স্বাভাবিকভাবে আমরা এই গভীরভাবে গেঁথে থাকা সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে দিনে দিনে এ সম্পর্ককে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি, যাতে এর ওপর একটি নতুন অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারি এবং বিশ্বে ক্রমবিকাশমান সর্বগ্রাসী একনায়কত্ব বা একচ্ছত্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।

ইন্ডিয়া টুডে: ঠিক আছে, এটি আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট বলেছেন। কিন্তু আমরা এমন একটি দেশকে নিয়ে কথা বলছি, যা এখন যুদ্ধে লিপ্ত এবং ইরানে ভারতের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। চাবাহার বন্দর তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুদ্ধ, সংঘাত এবং চাবাহারে আমরা যেসব হামলা দেখেছি, তার মাঝে ভারতের জন্য চাবাহার কতটা টেকসই বলে আপনি মনে করেন এবং ভারতের জন্য তা কতটুকু সম্ভাবনাময় থাকবে?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: দেখুন, যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি। তারা যুদ্ধ শুরু করেছে। আপনি যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নীতি কিংবা মানবতাবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখতে চান, তবে তারা প্রতিষ্ঠিত কোনো কাঠামোর তোয়াক্কা না করে আমাদের দেশ আক্রমণ করেছে। তারা আমাদের নেতাকে শহীদ করেছে, আমাদের সামরিক কমান্ডারদের শহীদ করেছে, এক দিনেই স্কুলের নির্দোষ শিক্ষার্থীদের শহীদ করেছে। তারা তাদের সবাইকে শহীদ করেছে। তারা আমাদের বিজ্ঞানীদের শহীদ করেছে এবং আমাদের অবকাঠামোতে বোমা বর্ষণ করেছে। দুঃখজনকভাবে, তারা যা করেছে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নীতির আলোকে মেনে নেওয়া যায় না। অতএব, তারা যে পথ অনুসরণ করছে, আমরা আসলে কেবল আত্মরক্ষা করেছি।

ইন্ডিয়া টুডে: ঠিক আছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় কি এই চাবাহার এবং চাবাহারে ভারতের বিনিয়োগের বিষয়টি উঠেছিল?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: আমাদের মধ্যকার আলোচনার সময় সামগ্রিকভাবে আমরা বিভিন্ন দিক ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছি। ভারত সেখানে বিনোয়োগ করতে পারে। বর্তমানে তাদের কিছু বিনিয়োগ সেখানে রয়েছে এবং তা চলমান। তারা এসে অংশীদারিত্ব করতে পারে অথবা বাণিজ্যের দিক থেকে আমরা এক ধরনের অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বজায় রাখতে পারি। সুতরাং বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। আমরা প্রস্তুত এবং এসব বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করতে রাজি।

ইন্ডিয়া টুডে: ঠিক আছে। আপনি বিজনেস ইকোনমিক ফোরামেও বক্তব্য রেখেছেন। বিনিয়োগকারীদের ইরানকে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে দেশটি কতটা সম্ভাবনাময়? কারণ এমন একটি সময়ে যখন আপনি নিষেধাজ্ঞা দেখছেন–এগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নয়, এগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দেশভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা, কোনো দেশেরই তা মানা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারতীয় ব্যবসাগুলো ইরানে বা ইরানের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে পারে?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: দেখুন, ব্রিকসের উদ্দেশ্য এবং আমরা যা করতে এখানে এসেছি তা হলো–আমেরিকা যে ধারা শুরু করেছে, অর্থাৎ তারা মন চাইলেই যে কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়, এর বিপরীতে ব্রিকসের উদ্দেশ্য হলো এই ধরনের সর্বগ্রাসী বা একচ্ছত্রবাদ ভেঙে দেওয়া। সেই কারণে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল এবং কোনো দেশ নিজের খেয়ালখুশিমতো অন্য দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেবে, তা থেকে স্বাধীন থেকে আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সহযোগিতার ধরনে পরিবর্তন আনার কথা। তাই আমরা এখানে একে অপরকে সাহায্য ও সমর্থন করতে এসেছি, যাতে এই একতরফাবাদ বা একপাক্ষিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বিশ্বের বড় বড় দেশকে নিয়ে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যই এটি। তাই আমরা এখানে এসেছি এবং আমেরিকাকে এই একতরফাবাদ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করছি। এটিই আমাদের এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য ও দায়িত্ব, যা আমাদের পূরণ করতে হবে।

ইন্ডিয়া টুডে: কিন্তু ব্রিকসের সফলতা আসবে তখনই যদি একটি যৌথ ঘোষণাপত্র আসে। দেখে মনে হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের মধ্যকার সমস্যাগুলো যৌথ ঘোষণাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। ওই অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সমস্যা হলো ওইসব দেশে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিগুলো নিয়ে, যেখান থেকে তারা আমাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আমাদের ভাই। আমরা বহুদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছি, আমাদের বাণিজ্য ছিল, আমরা একে অপরকে সমর্থন করেছি। সুতরাং এটি আমেরিকা–যারা এখানে এসে ঘাঁটি তৈরি করেছে এবং সেসব ঘাঁটি থেকে তারা আমাদের সন্তানদের শহীদ করছে, আমাদের অবকাঠামো আক্রমণ করছে এবং আমাদের নেতা, কমান্ডার ও জনগণকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সমস্যা হলো, বন্ধুভাবাপন্ন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত নয় শত্রুদের তাদের মাটি ব্যবহার করে আমাদের দেশে আক্রমণ করার সুযোগ দেওয়া। এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা তা আরও প্রসারিত করতে পারি। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমরা তাদের সবার সঙ্গে একটি আন্তরিক সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে আমেরিকা চায় না যে এটি ঘটুক।

ইন্ডিয়া টুডে: ঠিক আছে। আমি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং আরববিশ্বের অন্য দেশগুলোকে নিয়ে কথা বলব, তবে তার আগে আমরা কি আশাবাদী হতে পারি যে এবার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র বা ফলাফলের নথি পাওয়া যাবে?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: ব্রিকসের বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি যাতে এটি ঘটে। এই গতিধারা দিনে দিনে ভালো ও উন্নত হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারি এবং ব্রিকসের যে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার লক্ষ্যই হলো সদস্যদেশগুলো যৌথ বিনিয়োগ করবে, একে অপরকে সমর্থন করবে এবং আমরা উন্নয়ন ত্বরান্বিত করব। অবশ্য এটি আমেরিকার বিষয়ে দেশগুলোর কিছু নিজস্ব বিবেচনার ওপরও নির্ভর করে। বর্তমান ধারা অনুযায়ী, আমেরিকা সব দেশকে নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। মার্কিন অর্থনীতি বা মার্কিন ডলারের ওপর এই নির্ভরতা যেন দুর্বল ও কমানো যায়, তার জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চলছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এসব দেশের সমস্ত প্রচেষ্টা এই দিকে নির্দেশিত যেন আমরা একতরফাবাদ নির্মূল করতে পারি এবং একটি একমেরু বিশ্ব নয়; বরং এমন একটি বিশ্ব পেতে পারি; যেখানে আমরা একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারব এবং স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

ইন্ডিয়া টুডে: ঠিক আছে। তাহলে সংঘাতের ছয় মাস পর ইরান কোথায় দাঁড়িয়ে আছে–এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? সামরিক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত দিক থেকে আপনারা কি দুর্বল নাকি শক্তিশালী হয়েছেন?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: আপনি জানেন, এটি সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। তাদের নিজস্ব সমস্যা থাকে এবং আমাদেরও কিছু সমস্যা ছিল। এখনও আছে। কিন্তু আমেরিকা যা করেছে তা আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে, এমনকি এই অঞ্চলের জনগণকেও। এবং এখন তারা আমেরিকার প্রতি আরও বেশি ঘৃণাপরায়ণ, কারণ আমরা নিপীড়িত হয়েছি। তারা কেবল ক্ষমতার দম্ভে বিনা উস্কানিতে আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে। তারা কল্পনা করেছিল যে ভেনেজুয়েলার মতো তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দেশ দখল করে নেবে এবং ইরানে তাদের নিজস্ব পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তারা ভেবেছিল সিরিয়াতে তারা যা করেছিল, এটি তেমনই হবে। তারা ভেবেছিল আমাদের নেতা, সামরিক কমান্ডার, ম্যানেজার, পরিচালক ও মন্ত্রীদের শহীদ করার পর কয়েক দিনের মধ্যে সমাজ শান্ত হয়ে যাবে এবং তারা তাদের নিজেদের লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে।

কেবল যে এমনটা ঘটেনি তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ পূর্ণশক্তি নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে। এখন কয়েক মাসেরও বেশি সময় ধরে মানুষ রাজপথে নামছে এবং আমাদের সামরিক বাহিনী সব প্রযুক্তি দিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে নিজেদের উৎসর্গ করছে। শত্রুদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সরকার জনগণের সহায়তায় এবং সামরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে নিজের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে, যা শত্রুরা কল্পনাও করেনি। তারা যা করেছে, তার ওপর ভিত্তি করে আমরা দিনে দিনে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। এমনকি আমাদের দেশের যারা কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন–হ্যাঁ, আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল–তারাও আমাদের দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং শত্রুদের এই আক্রমণ ও আগ্রাসন তারা মেনে নেননি। এমনকি বিদেশে বসবাসকারী ইরানিরাও আমাদের দেশে ফিরে এসেছেন।

হ্যাঁ, এটি সত্য। আমাদের বর্তমানে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সত্ত্বেও–আমেরিকা যা করেছে তা হলো, তারা সামরিকভাবে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছিল। তারা ব্যর্থ হয়েছে। এরপর তারা অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। আবারও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা পণ্য, এমনকি খাদ্য ও ওষুধ আমদানির পথ অবরুদ্ধ করছে এবং তারা সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা স্থলপথও অবরুদ্ধ করতে চায়। অথচ আমেরিকা মানবাধিকারের দাবিদার! এখন তারা আমাদের দেশের মানুষের সঙ্গে, আমাদের রোগীদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে–তারা আমাদের জনগণকে অভুক্ত রেখে মারতে চায় বা তাদের জন্য অন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চায়। তারা চায় আমরা নতিস্বীকার করি এবং আত্মসমর্পণ করি। এটি মানবিক নয়। এটি সবচেয়ে বর্বর কাজ, যা তারা করতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনারা কি পারমাণবিক অস্ত্র খুঁজছেন? পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কি ইরানের জন্য একটি অ-আলোচনাযোগ্য বিষয়? এই বিষয়ে বর্তমান অবস্থা কী, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক এই কথাটিই বারবার বলছেন?

মাসুদ পেজেশকিয়ান: আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে আমেরিকা কিছু অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটি কেবলই অপপ্রচার। আমরা এনপিটির সদস্য এবং এর নিয়মকানুন স্পষ্ট। তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর সবচেয়ে বড় মাপের নজরদারি চালায়। তারা প্রতিদিন এসে পর্যবেক্ষণ করেছে। আমরা সবকিছু আন্তর্জাতিক কাঠামোর নীতিমালার মধ্যে থেকে করেছি। আমরা যদি পারমাণবিক অস্ত্র খুঁজতাম, তবে আমরা এনপিটির সদস্য হতাম না। এখন তারা আমাদের মাটিতে আক্রমণ করার জন্য নানা অজুহাত ও বাহানা দাঁড় করাচ্ছে। আমাদের প্রয়াত পরম শ্রদ্ধেয় নেতা; যিনি নেতৃত্বের দিক থেকে এবং মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকেও যার বাণী শেষ কথা–তিনি বেশ কয়েকবার ঘোষণা করেছিলেন যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র খুঁজছি না। আমরা কীভাবে বলব যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র খুঁজছি না? তারা এমন কী তথ্যপ্রমাণমূলক নথি পেয়েছে, যা তাদের আমাদের ওপর আক্রমণ করার অধিকার দেয়? এগুলো মিথ্যা। এগুলো সব মিথ্যা।

ইন্ডিয়া টুডে: তাহলে এখানে উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য কি ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়ানো? ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাচ্ছে–এটি বলার পেছনে উদ্দেশ্য কী? কারণ আমরা দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলের কাছ থেকে এটি শুনে আসছি।

মাসুদ পেজেশকিয়ান: আপনার কি মনে হয়, ইসরায়েল পারমাণবিক শক্তিধর না হওয়ার চেষ্টা করছে? ইসরায়েল এনপিটির সদস্য নয় এবং তাদের কাছে বিশাল অঙ্কের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তাহলে কেন তাদের কাছে এই ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে–তা নিয়ে প্রতিবাদ করার মতো কি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে? আপনারা স্বচক্ষে দেখেছেন তারা গাজা ও লেবাননে কী করছে। তারা ৭০ হাজারেরও বেশি নির্দোষ মানুষকে হত্যা করেছে এবং তারা প্রতিদিন এই অঞ্চলগুলোতে বোমা বর্ষণ করছে। কোনো মানবিক বিবেক মেনে নেবে যে মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত? তারা পানি, খাদ্য এবং সবকিছুর পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

পুরো বিশ্ব তা দেখছে এবং বুঝছে, কিন্তু কেন কেউ ইসরায়েলকে কিছু বলছে না? এটি এক ধরনের বর্বর বিশ্ব, যেখানে কিছু লোককে মানুষ, নারী ও শিশু হত্যা করার এবং হাসপাতাল ও স্কুলে বোমা মারার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবুও তারা তাদের রক্ষা করে। এটি একটি বিপর্যয়। ইসরায়েল ও আমেরিকার এই অত্যাচারী আচরণের বিষয়ে আমরা তাদের বিরোধিতা করি এবং আমরা বলি যে তাদের উচিত নয় অন্য মানুষকে অত্যাচার করা এবং নির্দোষ মানুষকে হত্যা করা। যেহেতু আমরা বলি যে আমরা তাদের বিরোধিতা করি, তাই আমাদের হত্যা করতে হবে। সুতরাং এটি একটি নিপীড়ন এবং পুরো বিশ্ব কেবল তা চেয়ে চেয়ে দেখছে। আর মাঝে মাঝে তারা সহানুভূতি দেখায়।

আরও পড়ুন

×