ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকার : ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ

জলবায়ু অর্থায়নের নামে চলছে ‘জলবায়ু উপনিবেশবাদ’

জলবায়ু অর্থায়নের নামে চলছে ‘জলবায়ু উপনিবেশবাদ’
×
×

ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ

মাহফুজুর রহমান মানিক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:২১ | আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে অ্যাজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে অধ্যাপনা করছেন। তিনি টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-স্রেডার অবৈতনিক সদস্য এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-ইএসডিওর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য ড. ছাদেক এর আগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক

সমকাল: কপ৩১ কিছুদিন পরই তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের টিমের সঙ্গে আপনিও যোগ দিচ্ছেন। এ সম্মেলনে আপনারা আসলে কী করেন?

ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ: কপ হলো জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন তথা ইউএনএফট্রিপলসির সদস্য দেশগুলোর বার্ষিক সম্মেলন। এখানে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ অংশগ্রহণ করে। সেখানে আমরা গ্রুপভিত্তিক আলাপ-আলোচনা করি। যেমন বাংলাদেশের অবস্থান এলডিসি তথা স্বল্পোন্নত দেশের সঙ্গে মোটামুটি মিলে। সে জন্য আমরা এই ক্যাটেগরির ৪৫টি দেশ একসঙ্গে কাজ করি। এ রকম আফ্রিকার গ্রুপ আছে। আইল্যান্ড স্টেটস বা দ্বীপরাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে লড়াই করে। সেখানে আমরা বলার চেষ্টা করি– অর্থায়ন বাড়াও। আমাদের নাজুক দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দাও। জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ বাড়াও ও গুণগত মান নিশ্চিত কর। 

সমকাল: তার মানে, জলবায়ুর অর্থায়ন-সংক্রান্ত দরকষাকষি এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? এখানে পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টা বুঝলাম, কিন্তু গুণগত মানের ব্যাখ্যা কী?

ফজলে রাব্বি: জলবায়ুতে উন্নত বিশ্ব দুই ধরনের অর্থায়ন করে; অনুদান এবং ঋণ। আমরা চাই অনুদান বেশি দেওয়া হোক। ঋণ দেওয়া হলেও সেটা কনসেশনাল লোন তথা সহজ শর্তের ঋণ হোক। এখানেই গুণগত মানের প্রশ্ন। আবার উন্নত বিশ্ব অর্থায়ন করলেও তারা নানা শর্ত দিয়ে থাকে। এমন কঠিন শর্ত দেয় যে, আমরা আবেদনই করতে পারি না। শর্তগুলো যাতে সহজ হয়, সে জন্য আমরা গ্রুপ ভিত্তিতে কথা বলি। সেখানে বাংলাদেশের উদাহরণ দিই। কিন্তু কপে বাংলাদেশ ধরে বা বাংলাদেশকেন্দ্রিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়– এমন না।

সমকাল: জলবায়ু অর্থায়ন পেতে এত কঠিন শর্ত কেন?

ফজলে রাব্বি: অর্থায়ন করছে উন্নত বিশ্ব; ক্লাইমেট ভালনারেবল বা জলবায়ু নাজুক দেশগুলো এ অর্থ পায়। প্রথম কথা হলো, তাদের অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী তারা অর্থায়ন করে না। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, উন্নত দেশ চায় এই টাকা দিয়ে তারা যেন নিজেরাও উপকার পায়। সে জন্য তারা ঋণ দিতে চায়। ঋণ দিয়ে আবার ইন্টারেস্টও মার্কেট রেটে দিতে চায়, যাতে তাদের লাভ হয়। অনুদানভিত্তিক যে অর্থায়ন, সেখানে অনেক কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয়। যেমন ধরেন, তারা বাংলাদেশকে বলবে– তোমাদের বন্যা বা খরার ৫০ বা ১০০ বছরের ক্লাইমেটিক ডেটা দাও। এই ডেটা আমাদের জোগাড় করা কঠিন। কারণ, হয়তো তখন মেটেরিওলজিক্যাল সেন্টারই ছিল না। ফলে এই শর্তের জাল ভেদ করা কঠিন। এই শর্তগুলো মূলত এ জন্যই দেয়, যাতে অনুদান বেশি দিতে না হয়। তাদের যুক্তি থাকে– টাকা তো আছেই, কিন্তু তুমি নিতে পারছ না। তোমার ক্যাপাসিটি নেই, যোগ্যতা নেই; প্রজেক্ট বানাতে পারো না। আসলে কিন্তু তারা কোয়ালিটি ফিন্যান্স বা গ্র্যান্ট ফিন্যান্স দিতে চায় না। 

সমকাল: উন্নত বিশ্বকে কি এ জন্য জবাবদিহিতে ফেলা যায় না? তারা তো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

ফজলে রাব্বি: তাদের জবাবদিহির জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে। প্যারিস এগ্রিমেন্টের আর্টিকেল ৯-এ কোয়ালিটি ফান্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্টিকেল-৯ পয়েন্ট ৪ বলছে– অনুদান দিতে হবে সহজ শর্তে, যাতে এলডিসি দেশগুলো সহজে সেখানে ঢুকতে পারে। কিন্তু বড় ঝামেলা হলো, সিদ্ধান্ত হয় কনসেনসাসের ভিত্তিতে। সবাই রাজি থাকলে সিদ্ধান্ত হয়। রাজি না থাকলে হয় না। এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরেকটা হলো, ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ তথা জলবায়ু অর্থায়নের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা এখনও বিশ্ব হাজির করতে পারেনি বা ঐকমত্য হতে পারেনি। যার ফলে এখানে অনেক ক্ষেত্রেই ডাবল কাউন্টিং হয়। এক ফাইন্যান্স দুইবার চলে আসে। আবার ওডিএ ফান্ড তথা উন্নত দেশগুলোর সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর জন্য সরকারি সাহায্য চলে আসে জলবায়ু খাতে। 

সমকাল: এর আগে ৩০টি জলবায়ু সম্মেলন হয়েছে; এখনও জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞা ঠিক হয়নি? 

ফজলে রাব্বি: না, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জলবায়ু অর্থায়নের এখনও কোনো একক এবং সর্বজনীনভাবে সম্মত আইনি সংজ্ঞা নেই। সংজ্ঞা ঠিক না হওয়ার কারণ উন্নত বিশ্বের একমত না হওয়া। যে কারণে তাদের জবাবদিহির মেকানিজমও প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। ইউএনএফট্রিপলসির আওতায় একটা কমিটি আছে– স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফাইন্যান্স। তারা পাঁচ-সাত বছর চেষ্টা করেও কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারেনি। যেহেতু মডালিটি হচ্ছে, সবাইকে রাজি হতে হবে, সে জন্য এটা হয়নি। 

সমকাল: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীর্ষ নাজুক দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। তার মানে জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের কথা বলার অধিকারও বেশি। সেই দিক থেকে ভূমিকা রাখার জন্য আমাদের কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি কেমন দেখছেন? 

ফজলে রাব্বি: বাংলাদেশ ভালনারেবল কান্ট্রি– এটা স্বীকৃত। বৈশ্বিকভাবে জার্মানওয়াচ, ম্যাপলক্রফট ইত্যাদি সংস্থা ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশ প্রায় সব সময়ই এক থেকে দশের মধ্যে থাকে। তার মানে, এ রকম ভালনারেবল দেশ আরও আছে। এর পরও আমরা কথা বলি, সাধ্যমতো চেষ্টা করি। তবে হ্যাঁ, এখানে আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা একদম ইনঅ্যাক্টিভ; ক্যাপাসিটি নেই; আমরা কোনো রোল প্লে করি না– সেটা ঠিক না। এখানে একা কাজ করারও সুযোগ কম। কারণ আপনার কথা কে শুনবে? যদি আমরা আমেরিকা হতাম, হয়তো শুনত। আমাদের গ্রুপের মাধ্যমেই কাজ করতে হয়। একা বললে হয়তো শুনবে না, কিন্তু ৪৫টি দেশের পক্ষে আমাদের দেশের যেগুলো জরুরি প্রয়োজন, সেগুলো যদি আমি এলডিসি গ্রুপ বা জি সেভেন্টি সেভেন; ডেভেলপিং কান্ট্রির আরেকটা গ্রুপ আছে, সেগুলোর মাধ্যমে উপস্থাপন করি, তবে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেভাবেই আমরা চেষ্টা করি। 

সমকাল: এভাবে দরকষাকষি করে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে অনুদান পাওয়া সম্ভব?

ফজলে রাব্বি: জলবায়ুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে উন্নত বিশ্ব গ্র্যান্ট বা অনুদান খুব কমই দেয়। এর আগে বলেছি, নানা শর্তের বেড়াজালে সেটাও পাওয়া মুশকিল। তারা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ শতাংশ অনুদান দেয়। এই অনুদান বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক দিন থেকেই বলে আসছি। আমরা বলেছি, অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজনের জন্য অনুদান জরুরি। প্যারিস এগ্রিমেন্টেও বলা আছে, অ্যাডাপটেশন এবং লস-ড্যামেজের অর্থ অনুদান হতে হবে। এর পরও উন্নত বিশ্ব অনুদান দিতে চায় না। কারণ তাতে ব্যবসা বা মুনাফা হয় না। এভাবে ঋণ হিসেবে যে দেশই টাকা নিচ্ছে, তারা ঋণের ফাঁদে আবদ্ধ হয়ে যায়; মানে ডেট বার্ডেনে পড়ে যায়। ফলে এটি উপকারের বদলে আরও ক্ষতি করছে। আমরা একে বলছি, ক্লাইমেট কলোনিয়ালিজম বা জলবায়ু উপনিবেশবাদ। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ বেশি হলে এই দেশগুলো আস্তে আস্তে সংকটে পড়বে। তাদের জাতীয় বাজেটের অর্থ ওই ঋণ পরিশোধেই চলে যায়। আমাদের বাজেটেরও উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ পরিশোধে চলে যায়। এ রকম যদি অ্যাডাপটেশনে আমরা ঋণ নিই, এই পার্সেন্টেজ বাড়তে থাকে, তখন বাজেটের টাকা ইনভেস্টমেন্টে খরচ না হয়ে খরচ হয়ে যাবে ঋণ পরিশোধে। 

সমকাল: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের শিক্ষা খাত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ খাত কেন লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের আলোচনায় নেই?

ফজলে রাব্বি: জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ হয়েছে বেশিদিন হয়নি। ২০২২ সালে মিসরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ২৭-এ এই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ২৮-এ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ফান্ডে এখনও অর্থ পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা খাতে সরকার বাজেটেই অনেক অর্থ ব্যয় করে। আমাদের প্রথম কাজ হবে দেশের যে ফান্ডিং, তা দিয়েই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটকে অ্যাড্রেস করা। শিক্ষার প্রজেক্ট প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে জলবায়ুকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটা শিক্ষার আন্তর্জাতিক ফান্ডিংয়েও করা উচিত। প্রাথমিক শিক্ষায় এখন পিইডিপি ৫ চলছে। ৪৫ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের অধীনে যে অবকাঠামো নির্মাণ হবে, সেখানে অ্যাডাপটেশন, মিটিগেশনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে অ্যাড্রেস করা যায়। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডেও শিক্ষা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। 

সমকাল: আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ কোথায়?

ফজলে রাব্বি: এবারের সম্মেলনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও যাচ্ছেন। যেমন প্রধানমন্ত্রী একটা মিটিং কল করলেন বা সাইড ইভেন্টও হতে পারে। যারা জলবায়ু অর্থায়ন দেয়, তাদের নিয়ে একটা প্রি-ইভেন্ট করতে পারে। সেখানে তাদের একটা বার্তা দিতে পারে– দেখো, আমরা ভালনারেবল কান্ট্রি; আমাদের নিড অনেক বেশি। অথচ আমরা এনএপি (জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা) ও এনডিসি (জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান) অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছি না। আমাদের একটা ইস্যু আছে ডিসপ্লেসমেন্ট তথা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি। বাস্তুচ্যুতির কারণে মানুষের জীবিকা নেই, জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, লবণাক্ততায় মানুষ সংকটে পড়ছে। তাদের কর্মসংস্থান ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। এখানে বিশ্বের কিছু করা উচিত। তার মানে এখানে অর্থায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলতে পারেন। আরেকটা বিষয় হলো, তোমরা সারাজীবন বলছ এনার্জি এফিশিয়েন্সি, রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা। কিন্তু আমরা গরিব দেশ, অ্যাডাপটেশনেই টাকা দিতে পারছি না, আমাদের টেকনোলজি লাগবে। এটি আমাদের অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। এই টেকনোলজিটা ফ্রি করে দাও বা সহজে দাও, যাতে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জি টেকনোলজিটা পাই। রিনিউয়েবল এনার্জির টেকনোলজি। এভাবে করলে বিষয়গুলো একটা গতি পাবে বা বিশ্বের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে।

সমকাল: আমাদের নিজস্ব অর্থায়নের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়? এখানে কী সংস্কার দরকার?

ফজলে রাব্বি: সংস্কার আমাদের রাষ্ট্রের সবখানেই দরকার। তবে আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপিতে আমরা তিন লাখ কোটি টাকা খরচ করি। এখানে কমপক্ষে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল ঠেকাতে খরচ হতে পারে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। সেটা জলবায়ু পরিবর্তন হোক কিংবা অন্য ক্ষেত্রেই। আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম একদম করাপ্ট হয়ে গেছে। গভর্ন্যান্সটা খুবই উইক; ব্যাংকে টাকা নেই; অনেক অর্থ পাচার হয়ে গেছে। ওই সিস্টেমগুলা ঠিক না করলে ক্লাইমেটেও ওই সিস্টেম ইমপ্যাক্ট করবে। কাজেই সামগ্রিক জলবায়ু গভর্ন্যান্স নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে।

সমকাল: আপনার নেতৃত্বে পিকেএসএফ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বা জিসিএফের স্বীকৃতি পায়। সেখানে কী করণীয়?

ফজলে রাব্বি: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। যদিও খুব বেশি টাকা নেই, ওখানে আমরা অ্যাডাপটেশন ও মিটিগেশন উভয়টিরই ভালো প্রজেক্ট দিতে পারি, দেওয়া উচিত। তাহলে আমাদের অ্যাক্সেস কিছুটা বাড়বে।

সমকাল: এবারের কপ৩১-কে বলা হচ্ছে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি ও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের সম্মেলন। আপনি কী মনে করেন?

ফজলে রাব্বি: এর আগে তো ৩০টি সম্মেলন হয়েছে। সেগুলোতে অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে, অনেকই বাস্তবায়ন হয়নি। সেগুলো যাতে বাস্তবায়ন হয়, যেমন বিভিন্ন ফান্ড দিচ্ছে, সেখানে টাকা নেই, টাকা কম, অনুদান জাতীয় ফান্ড কম। কাজেই এগুলোতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নের কথাই বলা হচ্ছে। যেমন ৩০০ বিলিয়ন ডলার, তারপরে এফআরএনডি, ডেডলাইন ফান্ড ইত্যাদির প্রপার বাস্তবায়ন হলেই বলা যাবে, সম্মেলন ঠিক আছে।

সমকাল: কপ৩১ শেষে কোন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, অর্থায়ন ও সিদ্ধান্ত অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশ সম্মেলনকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে?

ফজলে রাব্বি: এখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন; এতটা সাইড ইভেন্ট করেছে; অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা ক্লাইমেট ফিন্যান্স, ডিসপ্লেসমেন্ট, অ্যাডাপটেশন নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের মিনিস্টার বা আমাদের সরকারের প্রতিনিধি দল নেগোসিয়েশনে পার্টিসিপেট করেছেন। অনুদান জাতীয় অর্থায়ন, কোয়ালিটি ফিন্যান্সিং নিয়ে তারা কথা বলেছেন এবং এই জিনিস গৃহীত হয়েছে। একটা নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া; এক বছরে সব হয়ে যায়, তা তো না। এবার আমরা করেছি, আমরা ভালোই পার্টিসিপেট করেছি। কিন্তু সামনের বছরগুলোতে আমরা আরও প্রস্তুত হয়ে আরও বেশি পার্টিসিপেট করার ইচ্ছা রাখি– এই তো। 

সমকাল: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ফজলে রাব্বি: সমকালকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

×