ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদে অর্থমন্ত্রী

কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে

কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৩:০১

আর্থিক খাতে বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতি চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই বছর কঠিন হবে। অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেগুলো জনপ্রিয় নাও হতে পারে। একটা কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে গেলে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে, সবার স্বার্থে বিরোধী দলের সহযোগিতা দরকার। অর্থনীতি একেবারে ‘লো লেভেল, একটা ইকুইলিব্রিয়ামে’ (এমন একটি অবস্থা, যেখানে মাথাপিছু আয় খুব কম থাকে, মানুষ সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতে পারে না এবং এই নিম্ন বিনিয়োগের ফলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধিও খুব কম হয়) চলে গেছে। এখান থেকে অর্থনীতিকে তুলে আনতে হলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের লিডারশিপ ঠিক আছে। আমাদের ক্যাপ্টেন ঠিক আছে এবং আমি মনে করি ক্যাপ্টেনের ভিশন ঠিক আছে। ন্যায়নীতির অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সততার অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সুতরাং আমি মনে করি, এখান থেকে খুব সহজে না হলেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। এটা কঠিন একটা কাজ। কিন্তু আমরা বেরিয়ে আসতে পারব এবং আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার।’

এখন দেশের অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা বোঝাতে বেশ কিছু ক্ষেত্রের সূচক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ের সঙ্গে তিনি তুলনা করেন। বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি। যখন ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ হয়, তখন অর্থনীতির গতি ‘অলমোস্ট থেমে যাওয়ার’ অবস্থায় চলে যায়। ২০০৫ সালে এটা ছিল ১৩ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি কোথায়? আমাদের ফিসকাল স্পেস কত কমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।’ 

ঋণখেলাপিদের অনেকেই বিএনপির এমপি হয়েছেন– বিরোধী দলের এমন অভিযোগের জবাবে বিএনপির নেতাদের ঋণ পুনঃতপশিলীকরণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ তপশিলীকরণ এটা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাংকিং কালচারের মধ্যে সাধারণ প্রক্রিয়া। এটা বিএনপি আবিষ্কার করেনি। যেদিন থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে বিশ্বে, সেদিন থেকেই ঋণ তপশিলীকরণের ব্যবস্থা আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা কেন হয়? ঋণ তপশিলীকরণ কেন হয়? যারা ব্যবসা করেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। যেমন কভিডের সময় মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সব ব্যবসায়ীকে ঋণ তপশিলীকরণ করতে হয়েছে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হয়েছে আমাদের এই যুদ্ধের সময়, এই আন্দোলনের সময় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋণ তপশিলীকরণ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির যারা ব্যবসায়ী আছেন, তারা কেউ ব্যবসা করতে পারেননি। তাদের ব্যাংকের অনুমোদন করা ঋণ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। যত ধরনের বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করা যায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায়, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সেটা করা হয়েছে। তাদের গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা, যাদের খেলাপি বলা হচ্ছে, তারা এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, বাড়িতে থাকতে পারেননি। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অনেকে জেলে ছিলেন। জেলে বসে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কি এত সহজ ব্যাপার?

আরও পড়ুন

×