মেশিন বেচার ইতিহাস বিএনপিরই আছে: তথ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৫:৪৩
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী 'মুজিববর্ষ' উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের আমলে আদমজী পাটকলসহ দেশের বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ করে সেখানকার মেশিনপত্র কেজি দরে বেচে দিয়েছিল। বিএনপির মেশিন বেচার ইতিহাস রয়েছে। এ কারণেই তাদের নেতা আমির খসরু মাহমুদ নির্বাচনে হেরে ইভিএমগুলো কেজি দরে বেচার কথা বলার ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'আগেই বলেছিলাম ইভিএম বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে। এখন সেটা বলছি না। সাগরে ফেললে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। এই ইভিএম মেশিন কেজি দরে বিক্রি করতে। তাতে অন্তত অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে।'
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সভা-সমাবেশ করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। বরং এই দাবিতে বিএনপির সমাবেশ আইন ও আদালতের বিরুদ্ধে। এই সমাবেশের মাধ্যমে আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ একমাত্র আইনি প্রক্রিয়া, সভা-সমাবেশ নয়। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কেবল আদালতে জামিন বা খালাস পাওয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির অন্য কোনো পথও নেই।
পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ ও ভারতের জয়রাম জয়ললিতার বিচারের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। জয়ললিতার গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর পর তার অনেক ভক্ত জীবন দিয়েছেন। কিন্তু তার দল কখনো আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমাবেশ কিংবা আন্দোলন করেনি।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত সুযোগ পেলেই সাপের মত ফণা তুলে বসে। সুযোগ পেলেই তারা বিক্ষোভ সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিছুদিন আগে হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভের নামে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এর আগে নয়াপল্টনে নিজেদের অফিসের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখার বিধানের বিরুদ্ধে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনাকে 'অযৌক্তিক' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ মেটানো ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রেখেই উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলের। এ বিষয়টি না বুঝে কিংবা বুঝেও মূর্খের মত সমালোচনা করা হচ্ছে। এতে তারা নিজেরা লজ্জা না পেলেও আমরা লজ্জা পাই। এটি না করার অনুরোধ জানাবো।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন যারা সহ্য করতে পারে না, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তারাই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। এই ষড়যন্ত্র থেকে গোটা জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও
বক্তব্য দেন- ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, রফিকুল
আলম, অরুণ সরকার রানা, তারিন জাহান, শাহনূর, নাহিদ হোসাইন, মনির খান,
মানিক লাল ঘোষ, বৃষ্টি রাণী সরকার প্রমুখ।
- বিষয় :
- তথ্যমন্ত্রী
- হাছান মাহমুদ
- রাজনীতি
- আওয়ামী লীগ
