জামায়াতের সমাবেশ শুরুর আগেই পূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ১৩:০২ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ১৩:০৯
জামায়াতের ইসলামীর সমাবেশের আগেই দলটির নেতাকর্মীদের ভিড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। শনিবার দুপুর দুইটায় দলটির জাতীয় সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকে জমায়েত শুরু হয় উদ্যানে। সকাল ১০টার দিকেই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের সড়কে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেন, ১২ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছি। অন্যান্য জেলা থেকে ১১ হাজার বাস, আট হাজার গাড়ি, চারটি ট্রেনে নেতাকর্মী সমর্থকরা আসছেন। লঞ্চেও আসবেন অনেকে।
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে এই সমাবেশ করছে জামায়াত। দলটির দাবির মধ্যে রয়েছে- জুলাই গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
ডা তাহের, বলেন, সমাবেশ থেকে ন্যায্য দাবিগুলো জাতির কাছে তুলে ধরব।
বেলা ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এলাকায় দেখা যায়, ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানে একের পর এক মিছিল আসছে সমাবেশে। আদালতের রায়ে নিবন্ধন ফিরে পাওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাও নিয়ে আসছেন।
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা থেকে দিদারুল আমিন সমকালকে বলেন, তাদের বহন করা বাস যাত্রাবাড়ীতে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে এসেছেন উপজেলা থেকে আসা এক হাজার ২০০ নেতাকর্মী।
জামায়াত নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আসা বাস যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর এলাকায় রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ এলাকা থেকে আসা বাস মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পার হবে না। সেখান থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসছেন।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ধরপাকড়ে কোণঠাসা জামায়াত ১১ বছর ঢাকায় এককভাবে সমাবেশ করার সুযোগ পায়নি। দলটি প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে। ২০০৯ সালের আগে দলটি সমাবেশ করত পল্টন ময়দানে। ২০১২ সালে ময়দানটিতে রাজনৈতিক সমাবেশ বন্ধ করে সরকার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন শুরু হয় একই বছর থেকে। বিএনপির জোটের সঙ্গে জামায়াত সমাবেশ করলেও এককভাবে সোহরাওয়ার্দীতে কর্মসূচি করতে পারেননি।
জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকায় বড় সমাবেশের মাধ্যমে তাদের শক্তি-সামর্থ ও জনসমর্থন জানান দেবে।
সমাবেশে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী’ রাজনৈতিক দলগুলো এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং গত দেড় দশকে জামায়াতেন শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঞ্চের সামনে দুদিকে আমন্ত্রিত অতিথি, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জেলা আমিরদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে।
সমাবেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৩টি এলইডি স্ক্রিন সেট বসানো হয়েছে যাতে নেতাকর্মীরা সরাসরি বক্তব্য শুনতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশে তিন শতাধিক মাইক লাগানো হয়েছে। সমাবেশস্থলে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নেতারা।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামী সংগীতশিল্পী ও গীতিকার সাইফুল্লাহ মানসুর। এই পর্বে সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করছে। এছাড়া বিভিন্ন মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
