ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০১:১০

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘স্টার নির্বাচনী সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সব ক্ষেত্রে ‘হিসাব দাও’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন।
 
রাজনৈতিক নেতারা অনুষ্ঠানে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি উপস্থিত নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। অসুস্থতার কারণে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারায় তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দৈনিকটির যুগ্ম সম্পাদক আশা মেহেরীন আমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। 

মাহফুজ আনাম বলেন, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছি। এ ছাড়া আমাকে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ডেইলি স্টার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। এ জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এটা নিশ্চিত করতে পারে। ৯০-এর অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আরেকটি সুযোগ এসেছে। সম্প্রতি ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পত্রিকা আক্রান্ত হয়েছে। সামনের নির্বাচনের আগে এ ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে। এই সময়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করতে হবে।
 
সংলাপে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ বছরের লড়াই-সংগ্রামের পর অভ্যুত্থ্যানের মাধ্যমে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল, মানুষ নির্বাচন থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। আবার গত ১৫ দিনে যে ঘটনাগুলো ঘটল তাতে আবার সন্দেহ, নির্বাচন হবে কিনা। তবে এই শঙ্কা দূর করে বিএনপি নির্বাচনের দিকে যেতে চায়। ইতোমধ্যে বিলম্বের কারণে অনেক সংকট তৈরি হয়েছে। এর আগে যখন বিএনপি নির্বাচনের দাবি তুলেছে, তখনই অনেকে সমালোচনা করে বলেছে, বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যেতে চায়। 

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতেই অনেক কিছু ছিল। বিএনপির ৩১ দফাতেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে। পার্লামেন্টে ভারসাম্য আনবে। নারীদের বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে। পরপর দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। উচ্চকক্ষের প্রবর্তন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন করবে। গত সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। মানুষ বাজারে গেলে পাগল হয়ে যায়। বিএনপি একটি অর্থনীতির পরিকল্পনা দিয়েছে। এক-দুই বছরে তা সম্ভব না। পাঁচ বছর পর একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে অর্থনীতিকে নিয়ে যাবে। 

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ, একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা– এই মিশন নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। যে দুর্নীতি আজকের বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, সেটাকে ভাঙতে চাই। আইনশৃঙ্খলাকে আমরা নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে। মাতৃত্বকালীন রেশন, কৃষকদের জন্য নতুন কার্ড, রেশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা আছে।’

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোয় হামলার নিন্দা জানিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে তাণ্ডব চালানো হলো, সেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটার উদ্দেশ্য নির্বাচনকে বিলম্ব করা। অভ্যুত্থানে দু্টি দাবি ছিল– ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও বৈষম্যের বিলোপ। আমরা সব সময় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের ক্ষমতায়নের কথা বলে আসছি। এ জন্য ইউনিয়ন-থানা পর্যায় থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কেন্দ্র তা সমন্বয় করবে। নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। পুঁজিবাদী নয়, সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গড়তে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২৪ দফায় আমাদের ভিশন দেওয়া আছে। দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। একটি ছোট রাস্তাও যদি তৈরি করা হয়, তাহলে জনগণকে জানাতে হবে কত টাকার কাজ, কে করছে, কবে শেষ হবে। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘হিসাব দাও’ কর্মসূচি নেবে এনসিপি।

আরও পড়ুন

×