শাপলার ঘটনায় বিএনপির আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত ছিল: নাহিদ
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ২২:৩৮ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ২২:৪০
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা কেমন ছিল, সেটিও এখন বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সে সময় দেশের জনগণের একটি বড় অংশ বিপদগ্রস্ত থাকলেও বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির আরও সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, হেফাজতে ইসলামের ৫ মে আন্দোলনে বিএনপি ছিল বলে দাবি করা হলেও, সে সময় দলটির প্রকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। গুলির মুখে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ঠেলে দেওয়ার দায়ও রাজনৈতিক দলগুলোর এড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের আড়ালে বিরোধী মত দমন এবং ইসলামবিদ্বেষ উসকে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় হেফাজতের আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যারা প্রকৃতপক্ষে ভুক্তভোগী ছিলেন, তাদেরই অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকাও সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সে সময় দৈনিক পত্রিকাগুলো কী রিপোর্ট করেছিল, সেটা আমরা ভুলে যাইনি। সেই ডকুমেন্টগুলো এখনও আছে। যারা ভিকটিম, তাদের অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়েছিল।’
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে দেখাকে আমরা সমর্থন করব না। শেখ হাসিনা সরকার যে রাজনীতি করেছে, বর্তমান সরকার যেন সেই রাজনীতি না করে।’
শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে জুলাই গণহত্যার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘শাপলা গণহত্যার পর তৎকালিন সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে জুলাই গণহত্যা হতো না। তখন বিচার নিশ্চিত করা গেলে ফ্যাসিস্ট সরকার আর এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস পেত না।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি সমর্থন বা অসমর্থনের প্রশ্ন আলাদা, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব গোষ্ঠীর মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সরকারের ব্যর্থতায় জনগণই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করা হলেও গাঠনিক ক্ষমতা এখনও জনগণের হাতে আসেনি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শাপলা গণহত্যার পার্থক্য রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের আসামি করে মামলা করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বহু বছর পরও আমাদের এই বিচারের দাবি তুলতে হবে।
সভায় ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যা’র বিচার দাবিতে চার দফা দাবি তুলে ধরে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত নিহত ও নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা, শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের পুনর্বাসন এবং আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা প্রত্যাহার।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, গবেষক মুসা আল হাফিজ এবং সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান।
- বিষয় :
- এনসিপি
- নাহিদ ইসলাম
- বিএনপি
- শাপলা চত্বর
- হত্যাকাণ্ড
