ব্যবস্থা বদলের জন্য আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিন
বাম প্রগতিশীল দলগুলোর সমাবেশে বক্তারা
জুলাই গণভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে লাল পতাকা মিছিল করেছে বাসদ। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার ও ব্যবস্থা বদলের জন্য আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাম প্রগতিশীল দলগুলো। নেতারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আপাত বিজয় বাংলাদেশকে সমাজ বদলের লক্ষ্যে আশান্বিত করে তুলেছিল। দুই বছর পর আজ দেশের গতিমুখ আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে।
গতকাল বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে বামপন্থি দলগুলোর পৃথক সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে নেতারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করতে হবে। সেই গণঅভ্যুত্থান হবে বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থান।
এদিন বাম ও প্রগতিশীল দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আলোচনা সভা করেছে। বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সামজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুনর রশিদ প্রমুখ।
নেতারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কথা বলে গণঅভ্যুত্থান হলেও এর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্য দূর হয়নি। উল্টো আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের হাত ধরে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির উত্থান হয়েছে। বিএনপিকে দিয়ে এই মৌলবাদী অপশক্তিকে মোকাবিলা করা যাবে না। এই মোকাবিলার বামপন্থিদেরই করতে হবে।
তারা আরও বলেন, এদেশে আবারও আন্দোলন হবে, গণঅভ্যুত্থান হবে। সেই গণঅভ্যুত্থান হবে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে, কলকারখানা চালুর দাবিতে, মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে। মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষার জন্য আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাসদের মিছিল-সমাবেশ জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল
(বাসদ) রাজধানীতে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে মিছিল তোপখানা রোড, পল্টন মোড়, নুর হোসেন স্কোয়ার ও গোলাপ শাহ মাজারসহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ।
নেতারা বলেন, দেশের জনগণ বারবার একটি শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ পাওয়ার জন্য রাজপথে অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি জুলাইকে পুঁজি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্রয়ে উগ্র ধর্মবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালন দেশবাসীকে হতবাক করেছে। স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র ধর্মান্ধ শক্তির নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা প্রতিহত করার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আলোচনা সভা
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের উদ্যোগে এদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা হয়েছে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ও ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সহসভাপতি মুহাম্মদ কাইউম, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, সহসভাপতি দীপা মল্লিক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ ও বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক সাইফুর রুদ্র।
নেতারা বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হচ্ছে– গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পথ কোনো দেনদরবার নয়, গণঅভ্যুত্থান। ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্বিচার হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। ঐক্যবদ্ধ জনগণই হচ্ছে ইতিহাস নির্মাতা।