ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বিএনপির সব কমিটির শূন্য পদ পূরণে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত

কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, জনগণ জানে: রিজভী

বিএনপির সব কমিটির শূন্য পদ পূরণে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রীয়সহ সব কমিটির শূন্য হওয়া পদ পূরণে নিচের সারির নেতাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তের আগে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে দলটি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, মূলত ডেঙ্গু ও জ্বালানি ইস্যু আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। এ দুই ইস্যু কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং মানুষকে স্বস্তিতে রাখা যায়, তা নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণ করা হবে। 

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের কমিটিগুলোর মধ্যে অনেকে মারা গেছেন, অনেকে নানা কারণে দলের মধ্যে নেই কিংবা বহিষ্কৃত হয়েছেন। সেই শূন্য পদগুলোতে তাদের ঠিক নিচের পদধারীদের যেন পদোন্নতি দেওয়া যায়, সে বিষয়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, এই আসনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তাদের জন্য আমরা একটি শিডিউল ঘোষণা করছি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দলের প্রার্থীরা পল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর পূরণ করে জমা দেবেন। ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় স্থায়ী কমিটির (মনোনয়ন বোর্ড) সভায় সিদ্ধান্ত হবে, কে সেখানে প্রার্থী হবেন। বৈঠকে দলের জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান রুহুল কবির রিজভী। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ডেঙ্গু ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে যে কার্যক্রমগুলো নিয়েছেন, সেগুলো যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 
সরকার গঠনের পর গতকাল তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী কমিটির বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকের শুরুতে নতুন চার সদস্য– রুহুল কবির রিজভী (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব), আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাঈল জবিউল্লাহকে স্বাগত জানানো হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে মির্জা আব্বাস বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর তাঁরও সুস্থতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, জনগণ জানে: রিজভী
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গুলশানে মিছিল করেছে– এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আমাদের কোনো জাতীয় নেতা তো বলেননি যে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেব। এটা কারা বলেছিল, সেটা নিশ্চয় দেশবাসী ভুলে যায়নি। সুতরাং কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, সেটা জনগণ জানে। ফলে এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।
তিনি বলেন, যারা বেআইনি সংগঠন, নিষিদ্ধ সংগঠন– আদালত তাদের নিষিদ্ধ করেছেন। সুতরাং, বেআইনি যে সংগঠন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। সরকারের কনসার্ন যে মিনিস্ট্রি, অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দেখবে যে, কারা এর সঙ্গে জড়িত আছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে ভূমিকা রেখেছে। কিছু গ্রেপ্তারও হয়েছে।

আরও পড়ুন

×