ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এনসিপির কমিটিতে পরিবর্তন আসছে, নিষ্ক্রিয়রা বাদ

এনসিপির কমিটিতে পরিবর্তন আসছে, নিষ্ক্রিয়রা বাদ
×
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৩

এনসিপি সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন হবে। বিলুপ্ত হবে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র পদ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত ঘোষণা হতে পারে। মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত হলে নতুন কমিটিতে মূল নেতৃত্বে থাকবেন আহ্বায়ক, দুইজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং দুইজন যুগ্ম সদস্য সচিবসহ ছয়জন। বর্তমানে এই সংখ্যা ১১ জন। নিষ্ক্রিয়রা এই কাঠামো থেকে বাদ পড়বেন। অন্যরা যুগ্ম আহ্বায়ক বা যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকবেন। 

এনসিপির সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের গত রোববারের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দুই দিনের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি, কে কোন পদে থাকবেন। দলটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেছেন, আরও কয়েকদিন লেগে লাগবে। 

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্য সমকালকে জানিয়েছে, ১৭ বা ১৮ অক্টোবর নাগাদ নতুন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকবেন কিনা, তা এখনও ঠিক হয়নি। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের পরেই পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে। 

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকবেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং হাসনাত আবদুল্লাহ। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হতে পারেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সারজিস আলম। 

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি গঠিত হয়। একদিন পর ২১৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলাম। সদস্য সচিব হন জাতীয় নাগরিক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আখতার হোসেন। 

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় সামান্তা শারমিন এবং আরিফুল ইসলাম আদিবকে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান ডা. তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা। মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পান হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম। মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পান আবদুল হান্নান মাসউদ। অন্তর্বর্তী সরকার থেকে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদকে ওই সময়ে এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে এনসিপির মূল নেতৃত্বে ছিলেন ১১ জন। 
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। পদত্যাগ না করলেও জোটের সমালোচনায় মুখর ছিলেন সামান্তা শারমিন এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা। তাঁরা দুজনেই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। জোটের বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে সক্রিয় হন সুপার ইলাভেনের বাইরে থাকা মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুমের মত যুগ্ম আহ্বায়করা। ওই সময়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনোভা জেবিন, খালেদ সাইফুল্লাহসহ অন্তত ১৫ নেতা। 

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, নিষ্ক্রিয়দের বাদ দেওয়া হবে। কমিটির আকার ১৫১ সদস্যে নেমে আসতে পারে। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বর্তমান সদস্যরা হলেন- নাহিদ ইসলাম এমপি, আখতার হোসেন এমপি, নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, আরিফ আদিব, ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি। তাঁরা সবাই রাজনৈতিক পর্ষদে বহাল থাকবেন বলে জানা গেছে। তাঁদের সবাই দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিবসহ নানা পদে রয়েছেন। 

জানা গেছে, পুনর্গঠিত কমিটিতেও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থাকবে। তবে সংখ্যা আগের চেয়ে কম হবে। কারা এই দুই পদে আসবেন, তা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। 

একজন জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব পদে যে ছয় জন দায়িত্ব পেতে পারেন, তাদের সবাই রাজনৈতিক পর্ষদেরও সদস্য। পর্ষদের বাকি ১০ সদস্য যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারেন।  

এক নেতার দুই পদে থাকা ঠিক হবে কিনা- এ আলোচনা এবং সমালোচনাও এনসিপিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। একজন নেতা সমকালকে বলেছেন, পর্ষদের বাইরে থাকা নেতাদের মধ্য থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার এতে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে সমস্যা হবে কিনা- তাও দেখতে হচ্ছে। 

গত ১৫ মে এনসিপি নির্বাহী কাউন্সিলে (ইসি) সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র পদ থাকবে না। কমবে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ।  জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতিতে প্রত্যেক সাংগঠনিক বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে থাকবেন দুইজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হতে পারে। প্রস্তাব করা হয়েছিল, দেশের ৬৪ জেলাকে সাংগঠনিক বিভাগে বিভক্ত করা হবে। এই সংখ্যা দেশের প্রশাসনিক বিভাগের চেয়ে সংখ্যা বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন

×